রবিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৩

ভাবছো পারি না

তুমি যাকে "তুমি" ভাবো
সে প্রকৃতপক্ষে অহমিকার
একটি ভঙ্গুর খোলস মাত্র ।
ভিতরের আসল তুমি-টি
পারতপক্ষে এমনতর পাতি না ।

এ জগতে যে কোনও প্রকার ঘৃণা
অথবা কটু সমালোচনা
সম্ভব হতে পারে না
ব্যক্তিটির থরে থরে জমানো
অহমিকার অস্বচ্ছতা বিনা ।

মুচির পেরেক-ঠোকার ছোট্ট হাতুড়ির
প্রায় নিঃশব্দ ঠুক-ঠাকের জোরে
একদিন ঠিক ভেঙে ফেলব জেনো
তোমার এই
আকাশ-ছোঁয়া অহমিকার উদ্ধত ভাস্কর্য ।

একদিন শেষ হয়ে আসতেই হবে
দীর্ঘ অধ্যবসায়,
যেদিন জগৎ নিশ্চিত হবে -
ভিতর হতে ফুটে ওঠা
তোমার কুসুম-কোমল ভালবাসার
সাচ্চা রূপটি
যথার্থই আলোকময়তার ঠিকানা !
.

সোমবার, ২৪ জুলাই, ২০২৩

জাতি

সমর্পণের একটি স্বচ্ছ জাতিভেদ হয় ।
ভালবাসার ক্ষমতা ও প্রাণের সুখ
তদনুসারে ভিন্ন ভিন্ন স্তরের যোগ্য হয় ।

কেউ কেউ তীব্র সুযোগসন্ধানী,
কারোর ভালবাসা দোষারোপের দক্ষতায়
প্রবল সুবিধাবাদী
অথবা সুযোগ পাওয়া মাত্রে সুযোগ্য প্রতারক,
আবার কারও বা অতিরিক্ত প্রচার-সর্বস্ব,

আর কারওটি 
নিঃশব্দে, বছরের পর বছর,
অপরাজিতা গভীরতার নীলকে খুঁজে নেয় ।

যারা ভালবাসার নামে 
অধিক হায় হায় করে,
তাদেরটি, অবশ্য, ভোগের মোহ
ও তার অপ্রাপ্তির কারণে 
করুণ বিলাপের পরাকাষ্ঠা হতেই পারে,
ভুলেও ভুল না বোঝার সুবিধার সুবাদে
ভালবাসা, আদপে, 
তেমন অসুন্দরও কদাপি নয় ।
.

শনিবার, ২২ জুলাই, ২০২৩

হারায় না

( একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে )

বিরল অনুভবের গল্পগুলো 
সকলের জন্য না ।

পেঁজা তুলোর মত বরফ পড়ছে বাইরে । 
হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডা ।
সময় - রাত আড়াইটে ।

লম্বা ওভারকোট পরিহিত একজন পুরুষ
সাইকেল থেকে নামলো 
একটি বন্ধ বাড়ির দরজায় ।
সাইকেলটি স্ট্যণ্ড করিয়ে 
গুটিসুটি মেরে বসলো সিঁড়িতে ।
পুরুষটি মেল-এসকর্ট ।
তার আজকের কন্ট্রাক্ট 
শেষ হয়েছে একটু আগেই ।

প্রায় আধ ঘন্টা পরে দরজাটি খুললো ।
একটি নারী শরীর বেরিয়ে আসতেই
সশব্দে ফের বন্ধ হলো দরজা ।
মেয়েটি ইতিমধ্যে কাঁপতে শুরু করেছে
প্রবল ঠাণ্ডায় ।

ছেলেটি মুহূর্তে উঠে দাঁড়িয়ে
নিজের ওভারকোট মেয়েটিকে পরিয়ে দিয়ে
সাইকেল নামালো স্ট্যাণ্ড থেকে ।
তারপরে সিটে উঠে বসতেই
মেয়েটি এগিয়ে এল ধীর পায়ে,
চেপে বসলো ছেলেটির সামনে
সাইকেলের রডে ।
সাইকেল এগোতে শুরু করলো
বিদেশী ধনী দেশের 
প্রাচুর্যের আড়ালে লুকোনো
পরিত্যক্ত বস্তির দিকে ।

এটি একটি নিয়মিত দৃশ্য,
অপেক্ষার সুদৃশ্য বাড়িগুলো 
কেবল পাল্টে যেতে হয় রোজ ।
মেয়েটি ফিমেল এসকর্ট ।
তারও কনট্র্যাক্ট আজকের মত
প্রত্যেক দিন কমপ্লিট না হলে হবে না ।
..

মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই, ২০২৩

চেতনা

কোনও বিশেষ বা বিরল মুহূর্ত নয়,
জীবনের প্রত্যেকটি ক্ষণে
অনেকে বেশি বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতা
প্রয়োগ করে, দরদ সহকারে,
কেবল যোগ্যতার ধনে
প্রভূত ধনীর অধিকারে বাঁচার সুযোগ রয়েছে
প্রতিটি মানুষের ।

অথচ, তেমন সচেতন মানুষের দেখা মেলে
লাখে একটিও নয়,
বরং অধিকাংশ মানুষই আপন জীবনে
নিজেকে উন্নততর প্রয়োগের ব্যপারে
আপোষী ঔদাসিন্যে চরম দায়িত্ববোধশূন্য ।
পার্থক্যটি মূলতঃ যার দ্বারা রচিত, 
সে হলো - 'ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগের তারতম্য' ।

জীবন-সংগ্রামে গোঁজ-প্রার্থী
অসামান্য অলসদের তাবৎ মনোবাসনা তাই
সাধারণতঃ অপূর্ণ রাখতে বাধ্য হন 
নিরপেক্ষ স্রষ্টা, ঠিক এই কারণে ।

সোমবার, ১৭ জুলাই, ২০২৩

সুবিধাবাদ

 সেই ধুরন্ধরদের মুখোশ খুলে দেওয়া আশু প্রয়োজন, যাদের কাছে বিপ্লব ও যুক্তিবাদের অর্থ হলো - ধর্ম ও রাজনীতিগত আপন অন্ধ কুসংস্কারদের সযতনে আড়ালে রেখে, সনাতন, বৌদ্ধ ও অপর উদারতর ধর্ম-জনিত মানবিক পরিবেশকে হীন ও অনুদার প্রমাণের বহুমুখী চেষ্টা করা ।

এরা সেই অতি ধান্দাবাজ মাল, যারা আপেক্ষিক স্বাধীনতার সর্বপ্রকার সুবিধা নিতে আমেরিকা, ইয়োরোপে, অস্ট্রেলিয়ায়, এমনকি ভারতে আশ্রয় নিয়ে, আপন অন্ধ ধর্ম বা রাজনৈতিক বিশ্বাসের চর্চা চালিয়ে, সে দেশটির বাসযোগ্য পরিবেশকে কলুষিত করতে সামান্যমাত্রও দ্বিধা করে না । 

এরা বাস্তুতে আশ্রয় নেওয়া, দুধ-কলা খেয়ে পুষ্ট হওয়া, সাপের থেকেও বহুগুণে অধিক অকৃতজ্ঞ,  বিশ্বাসঘাতক ও শার্দূল-প্রবৃত্তি সম্পন্ন । এদের অতিদ্রুত চিহ্নিত না করতে পারলে স্থায়ী বিপদ আবশ্যিক রূপে ভবিতব্য সুস্থতর প্রতিটি সমাজের ।
.

সেদিন

প্রচারকদের দলভিত্তিক,
বিভেদমুখী, হীন প্রতিযোগিতাকে
কালের অমোঘে
ছিটকে পড়তেই হবে 
পৃথিবীর বাইরে !

মাথায় হাত বুলিয়ে আজীবন
আপন ক্ষুন্নিবৃত্তি ম্যানেজ করে নেওয়া
প্রতারকদের অন্তঃসারশূন্যকে
অবশেষে হারাতে হবে মহাশূন্যে !
.
ধর্ম বলতে,
মানুষ বুঝবে, সেদিন,
ব্যক্তিভিত্তিক স্বাধীনতায়
আপন আত্মবিশ্বাসের শক্তিতে
সাফল্যের পথে
নিজেকে উদ্বুদ্ধ করতে পারার
পৃথক পৃথক
যোগ্যতা ও অধিকার মাত্র 
- যা তাকে নিশ্চিন্তে ধারণ করে
শুধুমাত্র বাস্তব অর্জনের পরিমাপে !

যেদিন ভগবানের দালাল-রা
গড় মানবজীবনে 
নিছক উদ্বৃত্তরূপে পরিগণিত হবে ।

রবিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৩

সঃশোধন

এমনই উন্মাদের মত প্রেমে পড়েছিলে
ছিঁড়তে চেয়েছিলে শার্টের বোতাম ।
আর তারপরে-পরেই,
যখন সোহাগভরেও খোলা হলো না আর,
বাকরুদ্ধ করলো অবাধ্য অভিমান ।
সুরের সাথে স্বরের মিলের খেলা 
শেষ অবধি কিছুতেই জমলো না ।

ভেবেছো কখনো - দেখা হবে ফের ?
সাহস করে, চোখ চোখ রেখে শুধাবে
"কোন ভুল ঠিক-কে খুঁজে পেতে দিল না ?"

অতীত

একটা সময়ে ছিল 
হাতে হাত ধরতে পেলেই
যত্রতত্র হারিয়ে যেতে পারা
হৈ হৈ আনন্দে
যে কোনও রকম ভীড়ে ।

এখন 
কথা শৈল্পিক হতে শিখেছে
হসি চিনেছে মাপ
ভারী হয়েছে চলন 

আর তোমাকেও
সরে যেতে হয়েছে
দূরের আঁধারে
একটু একটু করে
আমার 'আমি'-র 
বে-আব্রু বর্ধিত ভারে ।

খেলা

প্রবৃত্তিদের সংযত, তথা নিয়ন্ত্রণ করতে ইচ্ছাশক্তিতে যে আপোষহীন প্রাবল্যের প্রয়োজন হয়,

সেই 'প্রাবল্য' করায়ত্ব হলে, একাগ্রতা ও গতির অপরূপ যুগলবন্দীতে, সরাসরি বীরত্বের খেলা শুরু হতে হয় বৃহত্তর লক্ষ্যে । স্বামী বিবেকানন্দ, নেতাজী সুভাষ, মাস্টার দা এদের কার্মিক রূপ অপর কোনও অজ্ঞাত ধাতুতে সৃষ্ট নয় ।

প্যানপ্যানে আর মিনমিনে চিন্তারা মূলতঃ ফাঁপা, ফলতঃ ভারহীন । কথা ও কাজের মধ্যে সঙ্গতির অভাবে তারা কেবল সুযোগ-সন্ধানী আপোষে বাঁচতে পারে । বাস্তবের অকাট্যে, আপন জীবনে বলিষ্ঠ-অনুবাদহীন, অলীক-সর্বস্ব, নিছকই সাময়িক হম্বিতম্বিরা এ জগতে খুব বেশি কাজের নয় ।
.

শনিবার, ১৫ জুলাই, ২০২৩

গতে

ছোট আর খাটো প্রাপ্তিরা
গিলটির চাকচিক্যে মন ভোলাতে 
অজস্র ছড়িয়ে রয়েছে পথে পথে ।

কুড়িয়ে চলেছো আপনমনে 
সাময়িকের সুখে ।
ভুলেই গেছ - নেতি ।
ভুলে বসে আছ - স্বেচ্ছা-উপবাস ।
তাই মেলে না আজ আর
তোমার আমার মতে ।

আয়ু অনন্ত নয় ।
তবু, এ কী সেই তুমি
মনে পড়ে না যার
দুর্লভ কে চিরতরে পেতে
ক্ষুধা আর তৃষ্ণার অদম্যে
ইচ্ছাকে অপ্রতিরোধ্যে উন্নীত করে
উঠতে বাকি এখনো
দ্রুততর অর্জনের রথে ।

শনিবার, ৮ জুলাই, ২০২৩

বলতে পারে নি বলে

একবার অন্ততঃ মুখ ফুটে বলতে না পেরে
হেরে
পালাতে হয়েছিল এ অমূল্য জীবন ছেড়ে,
যেমনটি আজও ঘটে আড়ালে-আবডালে অনিবার ।

একবার যদি পারতো বলতে -
"আমার এ দুর্বিসহ একাকিত্বের
তুমি ছিলে একমাত্র সমাধান 
বেঁচে থাকার সহজাত উপচার ।

তোমার বিবাহ - অতি স্বাভাবিক ঘটনা এক ।
কিন্ত তার পরিনতি যদি হয়
আমার প্রতি আরোপিত অবহেলা ও উদাসীনতা,
তবে আমার শ্বাস নেওয়ার পরিসর
আদপে বাঁচতে পারে কিছু কি আবার ?

আত্মহত্যা মহাপাপ জানি,
কিন্তু, কীইবা করে সে হতভাগিনী আর
জীবন কেড়ে নিতে উদ্যত যার থেকে
সাহচর্য-জনিত সহযোগ লাভের 
অবশিষ্ট একটিইমাত্র অধিকার ?

শিল্পবোধ

ক্রমাগত সাগরের ঢেউয়ের মত
আছড়ে পড়ছে যারা পদতলে
তারা তোমারই আত্ম-বিনির্মাণ ।
সে অযাচিতদের মর্যাদা রেখো ।
আর কারও কাছে নয়,
তোমার কাছেই চেয়েছে তারা স্বীকৃতি,
বেচেছে ন্যূনতম আত্ম-সম্মান ।

কেবলই ফয়দা তুলতে গেলে
পয়দা বন্ধ হবে অচিরে ।
কবিতাদের থাকতে আছে, বন্ধু,
অন্তরে সুগভীর অভিমান ।
.

হারানো কবিতা

লিখে ফেলার সামান্যই আগে
বেখেয়ালে বেমালুম ভুলে গেলাম যেই,
বুঝে গেলাম - না জেনে করেছি বিষ পান ।
হয়তো আরও অনেকেরই
অভিজ্ঞতা শুনিয়ে গেছে আগে
এমনই অসহায়তার পরিসরে
আপোষহীন যন্ত্রণার পরিণাম ।

সে কিন্তু সত্যিই এসেছিল 
ছেয়েছিল সমগ্র মন প্রাণ
তার অযাচিত ভালবাসা
করেছিল অকাতরে দান ।

তারপরে কী যে হলো
আরও কারা টেনে নিল,
হুঁশ যবে ফিরে এল
দেখি সে গেছে চলে
না বলে একলা ফেরা নির্বাণ,
পদচিহ্নটুকু যার 
যদিও অচেনা পথে 
রথের চাকার পাশে 
তখনো তেমনই অম্লান ।

আফশোষ একা কামড়ায় হাত 
ফেরাবার ছিল না বিধান ।
.
https://youtu.be/BOPwDiqU5Dk
.

সোমবার, ৩ জুলাই, ২০২৩

খুশি থাকো

কিছু অবাধ্য আশাকে 
জেনেশুনেই বয়ে চলা জীবনভর
হতাশার পানসিতে চড়ে ।

কিছু সুখ আবার 
অকস্মাৎ এসে ঢুকে পড়ে জীবনে 
আশাতীতরূপে বিস্মিত ক'রে,
সম্ভবতঃ জন্মান্তরের অধিকারে ।

এমন তো এক-জীবনে হতেই পারে ।
আনন্দে থাকতে জানতে হবে শুধু
আপন জীবনের ধারাবাহিক স্মর্তব্যকে
কেবল সুন্দরে সাজাতে
প্রতিটি কর্তব্য সুষ্ঠরূপে সম্পাদন ক'রে ।

অধিকার নেই 
একটিবারও ফলের বিচারে,
'কে কেন আগে এল 
আর কে দেখা দিল কতযুগ পার করে' ।

হবেই

এই যে প্রথম দেখাতেই
চোখ ফেরাতে না পারা,
এর অবশ্যই একটা কারণ আছে ।

সকলের সাথে ঘটে না এমন 
যে কোনও মেঘলা সকালে ।
তার মানে - তোর আর আমার মাঝখানে
একটি অদৃশ্য পরিবাহী আছে,
যার মাধ্যমে একের বিদ্যুৎ 
তড়িৎগতিতে পরিবাহিত হতে পেরে
অনায়াসে চৌম্বকত্ব সৃষ্টি করছে - অপরে ।

এই সেই কারণ 
যার উপায় ছিল না বারণ মানার,
যখন কথা বলতে বলতে
আচমকা চার ঠোঁট, একটিমাত্র সুযোগে,
সুতীব্র পারষ্পরিক নিষ্পেষণে
ক্লান্ত শব্দদের নিমেষে ক্ষান্ত করেছে ।

এই সেই উচাটন,
যে ঘটনার অবধারিত ঘনঘটায়,
বাঁধ ভাঙা ঢেউয়ের স্বাধীনতায় পৌঁছে যাওয়া
আচমকা পরিযায়ী ব্যথার সুখে,
সাদা-কালো জীবনকে রাঙাবেই এবার
হৃদয়ের গাঢ় দুধে-আলতা রঙে ।

এই সেই নিবারণ, যার সুবাদে
দীর্ঘ জ্বালে আমাতে উথলে ওঠা 
এযাবৎ ঘন হতে থাকা দুধে
তোর রেকাবে জমানো আলতা
প্রবল মন্থনের অবধারিতে
সম্পূর্ণ দ্রবীভূত হতে বদ্ধপরিকর হয়ে
অপেক্ষাকে অবশেষে
শেষ নোটিশটি হাতে ধরিয়েছে ।