বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

সবাই বাঁচে, অথচ

যে করিডোরে সবাই বেঁচে আছে, কিন্তু কেউ বাঁচে না
সবাই মরে—

এই অংশটা সহজ,
একটা দরজার মতো
যার দিক শুধু একটাই,
আর ওপাশে কোনো হাতল নেই।

কিন্তু সেই দরজার আগে
একটা লম্বা করিডোর আছে,
শ্বাস নিতে থাকা দেহে ভরা,
যারা হাঁটে সাবধানে—
যেন জীবন একটা জাদুঘর,
যেখানে ছোঁয়া নিষিদ্ধ।

তারা চলে।
ও হ্যাঁ, তারা চলে—
কব্জিতে সেলাই করা ঘড়ি,
চোখ ভাড়া দেওয়া উজ্জ্বল পর্দায়,
হৃদয় ভাঁজ করে রাখা
অব্যবহৃত মানচিত্রের মতো।
কোথাও
তাদের একসময়ের শিশু-স্বত্বা
এখনও কড়া নাড়ে
পাঁজরের ভেতর থেকে,
জিজ্ঞেস করে:
“আমরা শুরু করব কবে?”

কিন্তু করিডোরের নিয়ম আছে।
দেয়ালে ঝুলে থাকা অদৃশ্য সাইনবোর্ড:
অতিরিক্ত ঝুঁকি নেবে না
অতিরিক্ত গভীর অনুভব করবে না
অন্যদের কাছে অপরিচিত হয়ে উঠবে না।

তাই তারা অস্তিত্বকে অনুশীলন করে,
অভিনেতার মতো
যারা হঠাৎ করে নতুন কিছু বলতে ভয় পায়।

করিডোরে কিছু ঘরও আছে।
এক ঘরে
মানুষেরা তাদের ভয়কে ঘষে-মেজে
এমন চকচকে করে
যেন সেটাই তাদের সাফল্য।
আরেক ঘরে
স্বপ্নগুলো কাঁচের বয়ামে বন্দী,
লেবেল লাগানো: “পরে”
“যখন প্রস্তুত হব”
“অনুমতি পাওয়ার পর”।

বয়ামগুলো হালকা গুনগুন করে—
আটকে থাকা বজ্রের মতো,
যে বজ্রপাত হতে ভুলে গেছে।
সময় এখানে খালি পায়ে হাঁটে।
সে চিৎকার করে না,
সে সতর্কও করে না।
সে শুধু কুড়িয়ে নেয়
অবেঁচে থাকা মুহূর্তগুলো,
যেমন সমুদ্র কুড়িয়ে নেয়
ভুলে যাওয়া নামগুলো।

আর কখনও—খুব কমই—
কেউ একজন থেমে যায়।
সে দেয়ালে হাত রাখে।
দেয়াল কেঁপে ওঠে।
সে শোনে—
প্রত্যাশার শব্দের বাইরে,
সাধারণতার করতালির বাইরে,
বেঁচে থাকার ভদ্র যন্ত্রের বাইরে।
আর তখন সে শোনে—
একটা বুনো, অবাধ্য স্পন্দন,
যা অনুমতি ছাড়াই ধকধক করে।
সেই মুহূর্তেই
করিডোরে ফাটল ধরে।
জোরে নয়,
নায়কোচিতও নয়।
শুধু এতটুকু—
যাতে একটু বিশৃঙ্খলা ঢুকে পড়ে,
যাতে রং আকারের কথা না শোনে,
যাতে শ্বাস আগুন হয়ে ওঠে,
যাতে ভয় তার ব্যাকরণ হারায়।

সবাই মরে।
কিন্তু সবাই
দেয়াল ভাঙতে দেয় না,
বয়াম ভেঙে ফেলতে পারে না,
ভেতরের শিশুটিকে
একসাথে দাঁত আর ডানা গজাতে দেয় না।

অনেকে শেষ দরজায় পৌঁছায়
নিজের জীবনটাকে ভাঁজ করেই—
একটা চিঠির মতো,
যা কখনোই
নিজের প্রেরকের হাতে খোলা হয়নি।
আর যখন তারা পেরিয়ে যায়,
ভেতর থেকে কিছু একটা ফিসফিস করে—
অনুশোচনা নয়,
বরং চিনে ফেলা:
“আমি ছিলাম…
কিন্তু কখনো পৌঁছাইনি।”

আর কোথাও,
শেষ না হওয়া এক করিডোরে,
আরেকটা হৃদস্পন্দন থমকে থাকে—
সিদ্ধান্ত নিচ্ছে,
সে সত্যিই বাঁচবে,
নাকি শুধু
চলে যেতে থাকবে।