বুধবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২১

ম্যাচিং

ভালবাসার হাতটি দরদে ধরে রাখা
শ্রদ্ধাকে যেমন মানায়
তেমন কেউই লভ্য নেই আর
এ পাশবিক-প্রবৃত্তি-ভরা পৃথিবীতে ।

ভোগ - মুখ্য, না গৌন হবে জীবনে
সে দায় একা তোমার !
তবে, ন্যূনতম ভোগ বিনা
সাধারণ মানুষের পক্ষে 
বাঁচা সহজ কথা নয় !

ভোগও কি পারে শ্রদ্ধার হাত ধরতে ?
হ্যাঁ, পারে ।
লোলুপতাহীন হতে অভ্যস্ত হলে,
হৃদয়ের হরসে, শ্রদ্ধার জাদু-পরশে,
ভোগ প্রসাদ হয়ে যায় ।

মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১

মাতৃগরব

মাকে দেখিনি কখনো 
কারণে, অকারণে, ঢলে পড়তে
বাবার গায়ে ।
অথচ আদর ঝরতে দেখেছি দৃষ্টিতে,
যখন পায়ে পায়ে চলে, 
প্রায় কপোত-কপোতীর মত
প্রতিটি কাজ 
জাগরণ হতে শয়ন অবধি
তালে-তাল ভাগ করে নেওয়ায় !

বাবার অনুপস্থিতিতে
বাকরহিত মাকে, কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে,
ঝরঝর করে কেঁদে ফেলতেও দেখেছি
আমারই অক্ষম কিশোরবেলায়,
নিভৃতির আকষ্মিক সুযোগের ধূর্ত
সদ্ব্যবহারে,
দেওর অথবা সন্তানের হোম টিউটরের
অযাচিত প্রেম নিবেদন-প্রয়াসের
অপ্রত্যাশিত আক্রমণে ।

সরাসরি চোখের উপরে চোখ রেখে
বলতে পারেননি সেদিন 
আমার স্বভাবে-শান্ত মা
"আমার এ শরীর-মন্দিরে
সুড়সুড়ানির অশুভ উদ্যোগে 
কোনও লম্পট কামুকের জন্য
কোনও প্রকার রোমাঞ্চিত আবাহন অথবা 
গুপ্ত প্রবেশাধিকার আদপে নেই ।"

ভালবাসা - শ্রদ্ধার সুসহযোগে
অপরাধ ছিল না সেদিনও !
তবে, প্রেমে পড়ার বাহানায়,
নিছক নগ্ন কামনার চরিতার্থতায়
একান্ত আপনজনটির সমান
শরীরের অধিকার দাবী করে বসা -
হাস্যকর রকমের বেঢপ 
একটি মানসিক স্থুলতা ও দূর্বলতা বলে
বিবেচনা করতো সেকালের সেকেলেও ।

না, আমার নিরহঙ্কারী মা 
আমাকে মুখোমুখি বসিয়ে,
তারপরে, বড় বড় বাক্য সাজিয়ে
চরিত্রের প্রকৃত শিক্ষা 
দান করেননি এযাবৎ কখনও ।

সোমবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২১

স্বতঃস্ফূর্ত

আজ থেকে আরও একশো বছর পরে
সন্তানদের স্বার্থে, বিবাহ টিকিয়ে রাখতে
প্রতিবছরে একবার অন্তত সাত দিনের
দাম্পত্যে স্যাবাটিক্যাল লিভ-এর স্বাভাবিক প্রয়োজন
আইন করে মেনে নিয়েছে সরকার,
ধর, ঠিক বার্ষিক ভ্রমনেরই মত !

সুতরাং সংসারদের
আপন আপন মালিক অথবা মালকিনের
জিম্মায় নির্বিঘ্নে সঁপে রেখে, 
এমনকি প্রৌঢ়ত্বের পরিসরেও
ভালবেসে উদ্দাম হওয়ার স্বাধীনতা
ঝালিয়ে নিতে, তোমার আর আমার
জড় হতে বাধা নেই আবার মোহনায় !

শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২১

পরার্থ ও স্বার্থ

সবার আগে নিজেকে ভালবেসে সুন্দরতর রূপে গড়তে অভ্যস্ত যে হয় না, সে ভালবাসার নামে, আজীবন, পরমুখাপেক্ষী ভোগের এক অলীক সৌভাগ্যের ধারণায় বাস করে এবং একতরফা দুঃখকে নিয়তি করে ! 

ভালবাসার প্রকৃত প্রকাশ সৃষ্টি ও বিকাশের বাস্তবে ! নিজের প্রতি অখণ্ড আগ্রহ ও যত্নের মাধ্যমে যথার্থরূপে শিখতে পারলে, একমাত্র তবেই পরের ক্ষেত্রে ভালবাসার মঙ্গলজনক প্রয়োগ সম্ভবপর হয় । তার আগে পরকে ভালবাসার অধিকার আসে না !

প্রেমের মধ্যে ভোগের আত্ম-স্বার্থ জনিত মোহ যে পরিমানে প্রবল থাকে, শুদ্ধ-পরহিতার্থী ভালবাসার অস্তিত্ব সে তুলনায় সেখানে প্রায় থাকে না বললেই চলে । 

অথচ, কোন কারণে, ভালবাসার মুখোশটি আচমকা খসে গেলে, প্রেমের নামে 'আখেরে শুতে চাওয়া'দের অস্তিত্ব-সংকটে পড়ে শার্দূল-মুখটি বাধ্য লুকাতেই হয় ।

বুধবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২১

Health Of Soul

Are you more or less stagnating 
by feeling idle before every venture of spirit ? Have you got crippled by expectations from others ? Is only thoughts of others occupy you day and night ? Are you such criticism prone, that you often miss every chance of an aesthetic self creation ?

You are seriously ill then,
badly missing greens deep inside your soul.

Please get rid of your habit-habitat immediately and move out in fresh air to trace your desired individual path of growth. Serendipity kisses and embraces only those who somehow manage to move forward along the path of achiever's rise. 

The Difference

A weak mind waits for uncontrolled incidents of his life to keep happening as inevitable destiny.

A powerful mind, overcomes unforeseen hazards every time by his irresistible grit and makes his daily progress, in a definite direction, compulsorily happen.

A weak mind is thus controlled by his helpless fate

While, a strong mind inevitably controls the major part of his destiny by dint of his cool execution power.

Execution Power is a combination of lot of qualities manifested simultaneously in exact proportions. They are Victorious Will Power, Determination, Withdrawal From Instincts, Purposefulness, Sharp Focus, Zero Pendings tasks, etc. etc.

মঙ্গলবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২১

উদ্দীপ্ত

চেনা ঘরের পুরোনো কোণে
চিরাচরিত ব্যাঙ-থুপাথুপের 
গতানুগতিক ছক ভেঙে
বাইরে বেরিয়ে এসে
ভালবাসাকে 
সম্পূর্ণ অচেনা পরিপ্রেক্ষিৎ হতে
নিত্য নূতন পরিসরে
পরস্পরে আবিষ্কার করতে পারা 
খুব একটা সহজ কথা নয় ।

অথচ, একমাত্র তেমনটি হলেই
একঘেয়েমির আশু সম্ভাবনা পেরিয়ে
আপন পুরুষটিকে দীর্ঘদিন
প্রাণ ঢেলে ভালবাসতে পারে নারী !
উদযাপনের মাতালিয়া ঢেউ
শাড়ি, গাড়ি, বাড়ি, পেরিয়ে 
হামেশা সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়ে ।
আশ-মেটানো সুখের উল্লাসে 
তোল-পাল-তোল দোল খায় ।

ভাষা বনাম শব্দ

হিমালয়ে আজও কত শত সাধুর নির্বিঘ্ন বসবাস - সে পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব সাধারণ মানুষের অগোচরে । হিমালয় বহু প্রকার মাংসাশীদেরও আবাসস্থল । উভয়ের সাক্ষাৎও স্বাভাবিক । তবে, হিংসার আক্রমণ সম্ভব হতে পারে না নিয়ন্ত্রণ পেরিয়ে, কারণ - পশুদের ইচ্ছা-অনিচ্ছা ও তাৎক্ষণিক প্রবণতার বিষয়ে সাধুরা সর্বদাই যথাবিহিত অবগত ।

যে দম্পতিদের মধ্যে উৎসুক নৈঃশব্দ্যের যত অমিল, তারা ততই বিশৃঙ্খলরূপে কোলাহল-মুখর, তথা অভিযোগ-উপদ্রুত ।

নৈঃশব্দ্যেরও বহুবিধ ভাষা হয়, সে মূলতঃ সুখী প্রাণের ভাষা ! সুখীদের শান্তি-কানন তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোলাহল-বর্জিত ।

সোমবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২১

সহজিয়া

অসত্যে 
লাভ শেষ অবধি অধিক নাই ।

ঠিক বছর পনেরো আগে
এ পার্থিব শরীর, যেন অক্ষয়,
অনেক বেশি আকর্ষণীয় ছিল
বহুবিধ প্রত্যক্ষের সীমানায় !

অথচ বাধ্য চুলে রঙ মাখি আজ
আয়নাকে ভোলানোর বাহানায় !
তোমার অনাগত পরিনতি কি
আদৌ বিপরীতমুখী হতে চায় ?

পরাণের সজীবতা, তবু বিপ্রতীপে
বাড়তে নেই - এমন নয় !
অনুরাগের বর্ধমান আগ্রহে
তার সরাসরি প্রমাণ হামেশা পাই ।

ভুল বুঝো না তাই !
অনুভবের গভীরতর পরশে
তোমারও বিঘ্নহীন উত্তরণ 
অন্তিম-দিন অবধি যদি চাই !
.

বৃহস্পতিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২১

আলিঙ্গন


প্রথম যৌবনে
বক্ষযুগলের কোমলতা ও দৃঢ়তা
শুরু-শুরু তে
বিপরীতের পরশ-সুখের লোভে
একে অপরকে মুহূর্মুহূ আলিঙ্গন করে ।

মধ্যযৌবনে এসে 
তেমন অধিকাংশ পৌনঃপুনিকতা
বাহুল্য মনে হয় !

যে আগ্রহরা তারপরও বেঁচে থাকে, 
তারা বিচক্ষণতায় অতীব বিরল ।
শরীরে শরীর নয়, 
হৃদয়ে হৃদয়ের পরশের মাঝে
ভালবাসার উষ্ণতাটি 
শ্রদ্ধা ও যত্ন-সহকারে অম্লান রেখে,
জীবনকে যারা
সুদীর্ঘদিন চুটিয়ে উপভোগ করে যায় ।

বাসস্থান

পার্থিব-স্বার্থশূন্য অনুরাগও বিলকুল ঘর বাঁধতে পারে ! নজরে নজর মিলতেই স্বাধীন চৌহদ্দিটি তার স্বচ্ছ ধরা পড়ে প্রতিটিবার সচকিত হৃদয়ের উদ্বেলিত সুবাস বিনিময়ে । শুভদৃষ্টি, রোজ ভোরের প্রেরণায় ঘুরেফিরেই হাজির হয়ে, হাসিতে উদীয়মান অরুণের লালচে আভা ছড়াতেই থাকে । দৃষ্টিতে অপরের বর্তমান অনুভব ও ইচ্ছাকে ধারণের পরিসর যথাযথ রইতে পেলে, সে ঘর তুলতে তৃতীয় কোনও পক্ষের অনুমতিসাপেক্ষে কোনও শক্ত-পোক্ত দেওয়ালের দরকার পড়ে না । 

পাকা দেওয়ালের বদ্ধতায় অবধারিত হাঁপিয়ে ওঠে বেচারা মানুষ । ছিটকে বেরোতে চেয়ে হাঁসফাঁস করে পরাণ । একবারটি বেরোলে, কেউ কেউ ফিরেও আসে পরে, পুরানো হাজতঘরে ! আবার কেউ কেউ এ জীবনে ভুলেও পিছু ফেরে না । 

একমাত্র শুদ্ধ অনুরাগে বাঁধা ঘর তাই বিরাগ-ভাজন কমই পারে হতে, এমনকি জীবনের শেষ শ্বাসটি অবধি !

বুধবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২১

লোভ

নিজের হাতে বানানো
বিশালাকার ফানুসের তলে
আগুন জ্বলছিল ধক-ধক করে ।
ফানুসে ধোঁয়া ভরছিল মানুষ
একমনে মাঝরাতে
উথলে ওঠা জোছনায় !

তারপরে কী যে হলো,
জানলো না আর কেউ,
একাকী ওড়াতে গিয়ে,
ফানুসের তল ধরে
মানুষও গেল উড়ে,
বেহায়ার মত ছোট হতে হতে
সোহাগী চাঁদের হাতছানিতে
অন্ধকারে
আকাশের অবৈধ সুদূরে ।


সোমবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২১

"প্রাপ্য বরাণ নিবোধত"

রাজযোগ, ভক্তিযোগ আর জ্ঞানযোগ
যে হারে সমাদৃত হয়েছে ভারতবর্ষের যোগের প্রচারক সাধুদের কাছে ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিনে,

কর্মযোগ সে তুলনায় প্রভূত পরিমানে
বঞ্চিত ও অবহেলিত রয়ে গেছে । কর্মযোগের প্রকৃত শিক্ষা ও দৈনন্দিনে বাস্তব প্রয়োগ এই মুহূর্তে উন্নত দেশগুলির তুলনায় ভারতবর্ষে বেশ প্রকট রূপে অপ্রতুল ।

ফুটো কলসিতে জল ভরে লাভ হয়নি । কর্মে অধ্যবসায়ের প্রসাদে আত্মবিশ্বাসে যে  স্বতঃস্ফূর্ততা আসে, সেই আত্মশ্রদ্ধাবোধ-উদ্ভূত প্রবল তেজের অভাবে, গড় ভারতবাসী আজ বৃদ্ধ-ভিক্ষুক-সম, আত্মশক্তিতে গরিমাহীন ও বহুলাংশে, বাস্তব হতে, অলীক কল্পনার জগতে পলায়ন-প্রবণ ।

ত্যাগের প্রশ্ন সদা-সর্বদা আসে অর্জনের পরবর্তী ক্ষেত্রে । যথার্থ শক্তিমান মানুষ ভোগে দীর্ঘদিন সংযত তথা বিরত রইলে তাকে চলতি কথায় সাধু বলে । ভিক্ষুকের আবার ত্যাগ করার মত ধন কোথায় ? সন্ন্যাসী ও ভিখিরি সমার্থক হয়ে যাওয়ার সুযোগে, ত্যাগ এর শিক্ষা ও মাহাত্ম্য জনমানসে বাধ্য অনুদিত হয়েছে অর্জনহীনতার "আঙুর ফল টক" - এ ।

দুর্বলতার বাস্তবকে অস্বীকার করে স্বাভিমানের সংরক্ষণ অসম্ভব । কর্মযোগের সার্থকতম প্রয়োগ বাস্তবে ঘটে চলেছে আজও এ পৃথিবীর বর্তমান বিলিয়নিয়ারদের মধ্যে ।

ভারতবাসীকে জগৎশ্রেষ্ঠ হতে হলে, সবার আগে, নিজের কলসির ফুটো বন্ধ করতে হবে । 

আপন ঠুনকো অহমিকার কূপমণ্ডূকতাকে পরিহার করে, বিনীত চিত্তে, সফল বিলিয়নিয়ারদের জীবনী অধ্যয়ন করে, তাদের দেওয়া প্রতিটি শিক্ষা ও নির্দেশ, যথোচিত ধৈর্য ও শ্রদ্ধা সহকারে, কায়মনোবাক্যে, আপন প্রাত্যহিকীতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে ও দ্রুততর অর্জন ও সাফল্যকে দৈনন্দিন সংস্কারে ও অভ্যাসে স্থায়ীভাবে খোদাই করতে হবে ।

বৃহস্পতিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২১

কোলের মায়া

শিকল বা খাঁচা ছাড়াই 
পাখি পুষতে পারে কেউ কেউ,
যে শুধু আদর বুলিয়েই
দায় সারে না,
মেলার মেলা ভীড়েও
পাখির প্রতি-প্রকার খিদের আগে 
হৃদয়ের কম্পাঙ্কে 
তার খবর ঠিক পেয়েই যায়

আর খাবারের সুবন্দোবস্তে
নির্ভরতা আর বিশ্বাসকে 
সযতন উপচারে,
নিয়ম করে, জনমভর ধরে রাখে ।

তেমনটি হলে, পাখি এমনও বলে -
"শরীর বা মন থাকলে 
কখনো কখনো খারাপ হবেই !
তখন খুব মায়ের গন্ধ 
আর কোল পেতে প্রাণ চায় !
তেমন মা তো নেই আর,
তাই বারবার এসে, নিশ্চিন্তির বাসে,
তোমার আঁচলে 
অবসর-মত মুখ আর বুক ঘষতে থাকা ।"

মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২১

সাফল্য

বাস্তববোধকে বাদ দিয়ে
জীবনের সংজ্ঞা রচনা কি আদৌ সম্ভব হয় ?

বাইরে তোমাকে দেখতে একরকম !
কথা বলতে শুরু করলে
শরীরের মত, মন ও প্রাণের 
বাইরের অবয়ব সম্মন্ধে 
মোটামুটি ধারণা পাওয়া যায় !
তবে সেটুকু 
সমগ্র তোমার তুলনায় কিছুই নয় ।

এ জগতে, 
প্রাণীমাত্রেই ক্ষুধা নিয়ে জন্মায় !
ক্ষুধার মোচড়
আবর্তিত হয় শরীরে, মনে, পরাণে ।
আন্তর চাহিদাদের তুলনায়
উপরিতলের খোরাক সামান্যই হয় ।

প্রতিদিন, নানান বাহানায়,
তোমার ভিতরের চাহিদাদের পড়ে নিয়ে,
পাই-পয়সায় মিটিয়ে দেওয়ার 
সনির্বন্ধ ইচ্ছেকে আমি ভালবাসা বলি ।

তবে, সবসময়ই যে ত্রুটিহীন হতে পারা
সম্ভব অথবা আবশ্যিক, এমন নয় ।
তোমার পুঙ্খানুপুঙ্খ তৃপ্তির স্মৃতি
আমার হাসির উৎসমুখ !
আমাদের এযাবৎ বিবর্তনের ইতিবৃত্ত
সম্পর্কের উত্তরণে সাফল্যের সঞ্চয় !

ভালবাসা, বরং বড্ড সাদামাটায়,
যতটা বাস্তবের গভীরে অনুভবের বিষয়
শৈল্পিক ভূষণ-ভারের অলীক আয়োজনে
কল্পনা-বিলাসের তেমনটি নয় ।
.

রবিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২১

প্রত্যুত্তর

সেদিন অঝোর বরষণ
আর আমার হাতে ধরা ছিল
তোমার পছন্দের সিনেমার দুটো টিকিট !
আসবে কথা দিয়ে
একঘন্টা অপেক্ষার পরেও আসোনি ।

তুমি বেড়াতে যাবে বলেছিলে
সমীরদের সাথে ডায়মণ্ড হারবারে ।
আমি লুকিয়ে জেনে নিয়ে
ঠিক সময়ে ভিড়ে গেছিলাম দলে ।
তুমিই আসোনি দেখে
উতলা হয়ে ফোন করাতে
শুধু বলেছিলে "কাজ আছে, তাই পারিনি ।"

শ্রাবণীর শুভ পরিণয়ে
পৌঁছাতে চেয়েছিলাম তোমার বাইকে চড়ে ।
তুমি বলেছিলে - সেদিনই, কেন কে জানে,
বাইক চালাতে ইচ্ছে মোটেও করেনি ।

তুমি তারপরেও, নিঃসন্দেহে 
খুবই ভালো বন্ধু ছিলে আমার !
হতাশ আমি, দীর্ঘশ্বাস অস্বীকার করে 
নূতন উদ্যমে
তোমার 'কেবল বন্ধুত্বের' অনগ্রসর পরিসরে
ধাক্কা খেতে খেতে
নিজেকে মানিয়ে নিতে কিছুতে পারিনি ।

মর্যাদা-বোধ

তোমাকে প্রতিবার 
অবহেলা-জনিত তাচ্ছিল্যের উদযাপনে
এক এর পর এক পুড়িয়ে মারা
অভিপ্রায় ছিল না কোনওদিন !
প্রতিটি আগ্রহী চুম্বনে 
আমি তোমাকে 
নিসিক্তির চরমতমে
তারিয়ে তারিয়ে আত্মস্থ করতে চাই ।

তাই, যতই ব্যস্ততার মধ্যেই থাকি,
বহুক্ষণ সংযমকে প্রশ্রয় দেওয়ার পরে
যখন প্রতিটিবার 
তুমি অবশেষে তীব্রতম পায়,

তখন নির্দ্বিধায় সবকিছু ফেলে রেখে,
কারোর কাছে 
পরবর্তীর ঠিকানা না রেখে এসে,

একান্তের নৈঃশব্দ্যে
মুখাগ্নির নির্জন আহুতিতে, 
ও আমার অর্ধশতাব্দী যাবৎ
অবসরের বিশ্বস্ততম অনুবাদ,
তোমাকে নিরাভরণে চাই ।

সহজিয়া

অনুরাগের
অকস্মাৎ ঘনীভবনের
তেমন যৌথ লগনে
ইশারার প্রশ্রয়টুকু বাদে
তোমার যদি
ফের আপোষী মৌনতা বরণ,
তবে নিশ্চিত জেনো পরের বার
পার পাবে না আর সে লগন !

সোহাগ বাধ্য রওনা দেবেই
মন্থনাভিমুখে,
ঠিক যেমন করে
পরাণের একান্ত-আপন
নিছক দয়িতের অধিকারে
গোপনের 
তিরতির কম্পন থেকে
কুসুমিত করতে সক্ষম
তোমার অবধারিত সমর্পণ

আর তারপর 
দৃঢ়তার অনমনীয় দিক-নির্দেশে
দ্রবীভবনের উত্তরোত্তর সহযোগে
মসৃণতার রথে চেপে
গতির চুড়ান্তে উত্তরণে
নিবিড় সুখের অসহ্য শিহরণ ।

অবশিষ্ট তো শুধু 
বিনিয়োগের অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে
আত্মবিশ্বাসের পুনরুদ্ধারে
শীৎকারের 
অন্তর্ভেদী বিজয়-বর্ণন ।

শনিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২১

দীপালিকা

ভালবাসতে জানো ব'লে
এমন ঘন সবুজ থাকতে পারো ।

সবুজ মানেই অপ্রতিহত বাড় !
বাড়তে বাড়তে, মেলতে মেলতে,
আপন অজান্তেই
কাঁধে হাতটি আলতো করে রেখে
কখন একদিন ছুঁয়ে ফেল 
যতনের মন্দিরে স্থাপিত অভীষ্টকে,
বাধা - কোনও মতে আর না মানার জেদে
নরমের শরমের !

সচকিত যখন
পিছু ফিরে আকুল নয়নে চায়, 
বাধ্য হাঁটু মুড়ে শুধায় -
"আরে, কত যে খুঁজছি উচাটনে,
জানেন ?
পরাণের পুষ্পরাগে
সে কেমনতর এককে বিবর্তন
এ অবধি যে অরণ্যে হারিয়েছিলেন ?"

শুক্রবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২১

অবুঝ নিমিত্ত

প্রেম বলতে আমরা সাধারণত যে জৈবিক-প্রেম বুঝি, শরীর-জনিত লাভ-লোকসানের বহু-বিচিত্র হিসেবের পরিসর অবধি তার কল্পনা-খচিত আবেগের চুড়ান্ত দৌড় ! তার বাইরে সে অচেতন ও অচল ।

এই জৈবিক-প্রেম, পরমুখাপেক্ষা দোষে দুষিত হওয়ার কারণে, প্রতিটি অভীষ্ট লাভের পরমুহূর্তেই অধিকতর অশান্ত ও অতৃপ্ত হতে থাকে এবং অধিকার-বোধের তুরন্ত বাড়বাড়ন্তে, সাময়িক-তৃপ্তিদায়ক মানুষটিকে, চিরতরে ক্রীতদাসে পরিনত করার বহুবিধ পন্থা খুঁজে খুঁজে মরতে থাকে ! তাই জৈব-প্রেমের জগতে কেবলই একতরফা অভাব, তৃষ্ণা, হতাশা ও বিষাদের গল্প, এত ক্ষুদ্র পরিসরে স্থায়ী তৃপ্তির আখ্যানের সফল রচনা অবাস্তব ও অসম্ভব ব'লে । 

প্রকৃতপক্ষে, প্রতিটি জৈবাসক্ত প্রেম, ব্যক্তি-বস্তুর পার্থিব বাস্তবের অদূর সীমানায় অপার্থিব আনন্দকে ব্যর্থ খুঁজে মরে - আপন আসক্তি-দোষে, দীর্ঘ-দুর্ভোগের অভ্যস্ত অভিশাপে ।

লক্ষ্যটি কোনও মানুষ হোক অথবা না হোক, শুদ্ধ ভালবাসা - চিরন্তন স্বয়ংসিদ্ধা, আত্ম-উদ্ভাসের অফুরন্ত স্বাধীনতায় ! তার মুক্ত স্বভাবে প্রাণীজগতের চোষা-চাটা-ঘষার জৈবিক আঠায় আটকে পড়ার প্রয়োজন পড়ে না ব'লে, সে অধিকতম ক্ষেত্রে, ব্যাঙের কূপ হতে নিরাপদ দূরত্ব বজায়ে রেখে, উন্মীলিত-চেতন ও সদাহাস্যোজ্জ্বল রইতে পারে । ভালবাসা, মূলতঃ সেই জগতের বাসিন্দা, যে জগতে ব্যক্তি-প্রেম ঈশ্বর-প্রেমের প্রায় নৈর্ব্যক্তিক হতে পারে ।

বুধবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২১

শ্রাবণী পূর্ণিমা

বকবক করতে খুব ভালবাসি,
তবে, সে বেশির ভাগই নিজের সাথে ।
বকবক গুলোর 
একমাত্র সাক্ষী হয় তখন সঙ্গের কলম ।

প্রিয়বন্ধুর সাথে 
বহুদিন বাদে দেখা হয়ে গেলে
আবার অন্য রকমের ইচ্ছা জাগে ।
মনে হয়, একমুখ হেসে, ধাঁ করে গিয়ে
সটান জাপটে ধরি সুখী বুকে
আর তারপরেই
নিঃশব্দে কল খুলে দিই 
সামনের মানুষটির এযাবৎ জমে জমে, 
অতঃপর, পড়ি কি মরি উছলে ওঠা
যাবতীয় বকবকের
আর আপন অন্তর্মুখী স্বভাবের গুহায়
ফের ঢুকে পড়তে পারার সুযোগে
একান্ত মনোযোগ সহকারে
পান করতে শুরু করি 
সে স্বতঃস্ফূর্ততার অমৃত-সুধা !

হ্যাঁ ! আবেগ-মাখানো শব্দরা 
মানুষের বুকের গভীর হতে
যখন বেরিয়ে আসতে শুরু করে
বাঁধভাঙা উচ্ছাসে,
তখনই কিছু না কিছু অমৃতগন্ধ
সে বহন করেই থাকে ।

না, নিজের কথা আগ বাড়িয়ে বলতে,
বকবক করতে যেতে, 
একদম ইচ্ছে করে না তখন ।
শ্রবণে শ্রাবণের সার্থক বানভাসি
কজনই-বা প্রাণ খুলে অনায়াস সাঁতারে
উপভোগ করতে জানে ?
.