বুধবার, ৩১ মার্চ, ২০২১

শুদ্ধি

পিছনের দিকে একবার তাকাও !

দেখবে সারা পৃথিবী তোমার অপেক্ষায় আছে ৷

অপেক্ষায় আছে চেনা মানুষেরা

তোমার আর বেশি দূরে এগিয়ে না যাওয়ার,

অপেক্ষায় আছে, এগোতে এগোতে, 

অবশেষে থমকে থেমে পড়ার,

হারিয়ে যাও যদি পাছে !


এবার সামনে তাকাও !

পড়ে আছে একা পথ, নতুন আর অচেনা,

দৃষ্টি দূরান্তরে যেতে,

আত্মবিশ্বাসের জোয়ারে মেতে

সুন্দরকে প্রতিবার খুঁজে পেতে 

সত্যের নিবিড়তর কাছে ৷


আচ্ছা, বল তো,

রবি এক জীবনে ঠাকুর হতে পেরেছিল

বারংবার থেমে পড়ে বেঁচে ?

শুক্রবার, ২৬ মার্চ, ২০২১

বলার বাকি

যৎসামান্যই চাহিদা ছিল বলে

ভাবলে এলেবেলে !

যথাযোগ্য উষ্ণতার সহযোগ পেলে, 

উলুবনে মুক্তো জন্ম নিতো

শুক্তির ঐকান্তিক নিবিড়ে, তিলে তিলে ৷


তুমি বোঝনি আকাঙ্খিত যতনে 

ধৈর্যের কোন মাত্রাটি কতদূর অবধি প্রয়োজন,

যখন একটিমাত্র বিন্দু আপন চলনে

গড়াতে গড়াতে কোন সে গভীরে গেলে,

প্রায় অনায়াসে

এক সিন্ধুধারার প্রশস্ত জন্ম দিতে পারে 

মিলন খুঁজে পেলে ৷


সে গর্ভধানের প্রাপ্য যে একান্তের ছায়া, 

সে মায়াকে উপেক্ষা করে,

ক্ষণিক বর্ষণে কেবল বহিরাঙ্গ ভিজিয়ে দিয়ে,

উদোম পরাণকে অদম্য অপেক্ষায় রেখে,

বাধ্য আত্ম-নিপীড়িতকে হতোদ্যমে মেখে,

পাগলাঘন্টি বাজাতে বাজাতে

বেমালুম হারিয়েই গেলে ?


বাঁশির সুরের রেশটি ধরে 

বেজে ওঠেনি তাই সানাই ৷

বাঁধনের সাধন আপদ-বালাই,

তুমি যে ঘর নও কানাই ! নিছকই ছেলে ৷

.



শুক্রবার, ১৯ মার্চ, ২০২১

এ দুর্লভ প্রেম

প্রেমে পূর্ণতা বলে কোনও সুনির্দিষ্ট মাত্রা থাকা সম্ভব নয় বাস্তবে ৷ জীবনের অপার দ্বান্দ্বিকতার পরিসরে প্রেম অপর একটি দ্বন্দ্ব মাত্র ৷ যে কোনও দ্বন্দ্ব একটি বিশেষ প্রকারের বহমানতার দ্যোতক, কোনও স্থিতি নয় ৷ প্রেমের লাভ বা লোকসান বা সফলতা-বিফলতাকে তাই সংজ্ঞায়িত করতে পারে না মানুষ ৷ 


দুটি মানুষ নদীর দুই পার হলে মাঝে জলের প্রবাহটি তাদের প্রেম ৷ জল বাড়ে, কমে, এমনকি দুপার ভাসাতেও পারে, তবে সে আটকে থাকে না কোনও পারেই ! পার দুটিকে অথচ সে অপার-প্রগতি ক্রমশঃ দীর্ঘায়িতই করে ৷ 


অপর মানুষটি যতটা নিকটে অথবা যতটা অস্বচ্ছতা-জনিত দূরেই অবস্থান করুক না কেন, মানুষ গতিশীলতার আকস্মিক সাহচর্যের কারণে, নিজেকে নিজেরই প্রযুক্ত ও অভ্যস্ত যে সংজ্ঞা, তাকে অবলীলায় পার করে, আচমকা নিজেতে নতুন আরোহন আবিষ্কার করে, অন্তরের আশ্চর্য ও অপরূপ নব-উন্মীলনে, প্রেমে পড়ার পরে ৷


প্রেম দুটি মানুষের পার্থিব সীমাকে পেরিয়ে সর্বদাই তৃতীয় একটি বৃহত্তর, প্রাণদায়ী, অবস্তু-অস্তিত্ব ৷ প্রেমের চেয়ে অধিক বিশ্বস্ত বন্ধু আর দ্বিতীয়টি নেই এ পৃথিবীতে মানুষের ৷ সাময়িক অথবা দীর্ঘায়িত - যেমনই হোক, পার্থিব প্রাপ্তি-মূল্যে নয়, বহমানতার আবশ্যিক আশীর্ব্বাদে, মানবজীবন প্রতিটি ক্ষেত্রে জনমের সার্থকতাকে কম-বেশি কিছু না কিছু খুঁজে পায়ই - প্রেমের সুবাদে ৷


প্রেমের ক্ষেত্রে যে কোনও হতাশা-জনিত বিলাপ যত না বিশেষ কোনও একটি মানুষকে খুইয়ে ফেলার কারণে, তদপেক্ষা শতগুণ অধিক - বাস্তবের বাধার কাছে আপন ভাবজগতের পরাজয়ে, আপন গতিশীলতার অফুরাণ সাহচর্যে উত্তরণের পথ-প্রদর্শক অনির্বাণ দীপশিখাটি, নিজেরই সুখাসক্তির মোহজনিত ভুলে, অযাচিত নিভিয়ে ফেলায় ৷ 


একবার নিজের ভুলে নিভিয়ে ফেললে, তাকে ফের আগের মত অথবা অধিকতর আলোর উৎসে ফিরে পেতে আবার শূন্য থেকে কসরত করতে হতেই পারে ৷

.


শুক্রবার, ৫ মার্চ, ২০২১

বিষাদ

 মনখারাপেরও একটা বাগান আছে, জানো ?


সব সময়ে খুঁজে পাবে না তার তোরণ !

তবে যখন পাবে, যদি ঠেলে ভিতরে ঢোকো,

দেখবে সে এক উল্টোর জগৎ !


মনখারাপরা সেখানে গাছে গাছে

হেঁটমুণ্ড-ঊর্ধ্বপদ হয়ে পাশাপাশি ঝুলে আছে ৷

তারা শাস্তি পেয়েছে উপর্যুপরি পরনির্ভরতার !

অপরাধবোধে

কথা বলছে না তাই কেউ কারও সাথে !


অর্জন-লভ্য লক্ষ্যকে অবহেলার ঔদ্ধত্যে,

তারা গতির আনন্দময়তা হতে

স্থবিরতার জগতে পৌঁছে, বিরূপতার দীক্ষায়,

অবসাদের লোহিত-ক্ষরণ ক্ষতের যন্ত্রণায়,

অসহনীয় ভারাক্রান্ত হতে হতে,


অবশেষে আচমকা বাঁক নিয়ে 

হারিয়ে গেছে অবাস্তবের ছাই-রঙা রাস্তায়,

যার শেষে আর কোনও পথ অবশিষ্ট নেই,

নূতন বাঁক নেই, দেখারও নেই কিছুই 

দূরে অথবা কাছে,

কেবল আকাশ-সমান উঁচু একটি প্রাচীর 

আপোষহীন নির্লিপ্তিতে 

প্রতিরোধ হয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ৷


মনখারাপরা নিশ্চিত - 

"ভুল - তেমন কিছু হয়নি তাদের ৷"

কাছে গেলে, তাকাতেও পারে তোমার দিকে ৷

তবে চমকে যেও না, যদি দেখ -

তারা তোমাকে চিনেও চিনছে না, 

মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছে প্রতিবার

দুঃখবাদী উদাসীনতায়, 

শুধরে একবারটি দাও যদি পাছে !

.

দাগী

কত শত প্রত্যন্তের 

আপাতঃ-অন্তর্হিত অঙ্গ-রেখা 

নিবিড়ে বহন করে চলেছো আজও

সাংখ্য মতে, অম্লান পুষ্প-দলে, 

হে বিদ্রোহী, বিদুষিণী দ্বারী !


চরৈবেতি-পথ পাল্টে পাল্টে গেছে রথ

সুবিধানুযায়ী, আপোষহীন তাড়াতাড়ি ৷


উৎরোল স্ফূর্তি হরমোনের দাবী,

হোক না কবি,

হোক না ভালবাসা-জনিত আশা - 

সখেদে একতরফা বাড়াবাড়ি ৷


তোমার প্রেমের আদ্য-নিয়তি,

ইতিহাসের ধারায় নিয়ত যতি ও চ্যুতি,

তোমার উদাত্ত কোমলের রসিকা অভ্যন্তরে

উদ্ভাসিত ভাস্কর্যের অতঃপর স্তরে স্তরে

সে দিক-নির্দেশক রেখাদের

দৈর্ঘ্য ও গভীরতার নিরিখে আদৌ না যুঝেও

কি ভাবে যে হুবহু বুঝে নিতে পারি !

.