বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬

নিরাময়

অসুখগুলো—
যেগুলো প্রেসক্রিপশনের অক্ষরে ধরা পড়ে না,
যেগুলো সিরাপের মাপে গলে না—
তারা আদরের গন্ধ শুঁকে বাঁচে।

একটু ছোঁয়া, একটু “আছো তো?”
এইসবেই ধীরে ধীরে সেরে ওঠে।
সেই অসুখগুলোই
গত কয়েক মাস ধরে
বুকের ভেতর বড় হচ্ছিল আগাছার মতো,
রাতে বালিশে শুয়ে
ঘুমের ঘাড়ে নখ বসাচ্ছিল,
দিনের আলোতেও
শান্তির দরজায় তালা ঝুলিয়ে দিচ্ছিল।

ডাক্তার বদলেছি,
সময় বদলেছি,
নিজেকে বোঝানোর ভাষা বদলেছি—
কিন্তু তারা কিছুতেই
ওষুধের নাম শুনতে চাইত না।
বারবার বলত,
“ফোন করো।

এই অসুখ কণ্ঠস্বর ছাড়া মরে না।”
তাই নানারকম অজুহাত জন্ম নিত—
কখনও ভুলে যাওয়া কোনও প্রশ্ন,
কখনও অকারণ উদ্বেগ,
কখনও নিছক নীরবতা ভাঙার ছল।
এইসব অজুহাতের আড়ালে
আমি বারবার তোমাকে ফোন করতাম,
যেন তোমার কণ্ঠ হতে
একটু আদর চুরি করে আনতে পারি।

তুমি হয়তো
শেষমেষ বিরক্তই হয়েছিলে।
কলের পর কল—
ঘড়ির কাঁটার মতো ঘুরে ফিরে
একই নম্বরে থামা—
বিরক্তি তো হতেই পারে।
কিন্তু আশ্চর্য,
তুমি একবারও
সেভাবে ভেবে দেখলে না—
এই ফোনগুলো আসলে
কথা বলার জন্য নয়,
নিরাময়ের জন্য।

তোমার “হ্যাঁ বলো”র মধ্যেই
আমার অসুখগুলোর
শ্বাস নেওয়ার জায়গা ছিল।
তোমার বিরক্তির নীরবতাতেও
আমি তবু খুঁজে নিতাম
একফোঁটা আদর—
যেটুকু পেলে
এই অসুখগুলো
একটু চুপ করত।
আর যখন তারা চুপ করত,
ঘরের দেওয়ালগুলো
একটু সরে দাঁড়াত,
বুক শিখে নিত শ্বাস নিতে।
পরাণটা ফের শীষ দিত
চেনা সুরের তালে তালে।
সময় তখন আর ধারালো থাকত না,
ঘড়ির কাঁটা
নরম হয়ে যেত তুলোর মতো।

আমি জানতাম,
এই আরোগ্য স্থায়ী নয়।
আদরের অসুখ
খুব চালাক—
তারা সেরে উঠতে উঠতেই
নতুন করে জন্ম নেয়।
তবু প্রতিবার
ডায়ালের ওপর তোমার নাম লিখে
আমি ঝুঁকি নিতাম।

হয়তো কোনওদিন
আমি আর ফোন করব না।
অজুহাতগুলো ক্লান্ত হয়ে
নিজেরাই অবসর নেবে।
অসুখগুলোও
শিখে নেবে একা থাকতে—
নিজের ব্যথা নিজে বহন করতে।

কিন্তু যদি কখনও
হঠাৎ গভীর রাতে
তোমার ফোনটা কেঁপে ওঠে
অকারণে,
জেনো—
ওটা বিরক্তির ডাক নয়,
ওটা কোনও অসুখের শেষ চেষ্টা,
যে এখনও বিশ্বাস করে
বিশেষ মানুষের আদরই
সবচেয়ে শক্তিশালী ওষুধ।

আর যদি তুমি সেদিনও
না ধরো ফোন,
তবু জানবে—
কিছু মানুষ
শুধু একবার 
সাড়ার হাত ধরার মধ্যেই
সারা জীবন
নিঃশব্দ চিকিৎসা খুঁজে পেয়ে থাকে।