শনিবার, ১৩ মে, ২০২৩

ফলন

ধরে রাখতে পারনি ধার 
সংযমের অগভীরতায় -
সে আলাদা প্রসঙ্গ,

তবে, মনে কি পড়ে আজও
সে ভার,

কোন ভরন্তে 
কী বিস্ময়কর ফলবতী হয়েছিলে
আঠেরো আর উনিশের 
বাঁধ-না-মানা, বেপরোয়া সন্ধিক্ষণে ?

বধ

আকাশ মেঘলা বিগত দুদিন ধরে
ঠিক গতবারের আম্ফানের মত ।
ভরা বৈশাখ, অথচ সূর্যের প্রখরতার 
খবরই নেই কোথাও কোনও ।
উঁচু নারকেল গাছের 
বিশাল লম্বা পাতারা
অবিশ্রান্ত দুলে চলেছে ভূতের মত,
জানান দিতে তার বিধ্বংসী আগমনের ।

শুধু কেউ বুঝছে না
অপর একটি পূর্বাভাস ।
একা আমি, স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি,
স্কুল থেকে পড়িয়ে ফিরে,
তাণ্ডব ডাকছে লম্বা দুহাত বাড়িয়ে,
চকচকে চোখে,
নীল পাড় সাদা শাড়ি পরা,
ওই ছিপছিপে, দীঘল শরীরটি তোমার !
ডাকছে বানের উথাল-পাথাল কে
পার ছাপিয়ে
সরাসরি ঘরের উঠোনে আছড়ে পড়তে
আর সহসা কেড়ে নিয়ে 
পাল্টে ফেলতে বাধ্য আমাকে
তোমার বধ্য শিকারে...

সব প্রতিরোধ চূর্ণ করে,
শেষবারের মত জলের প্রবল টানে 
ভাসিয়ে নিয়ে 
আর নিজে তাল মিলিয়ে ভেসে গিয়ে, 
অতঃপর ভাসানের অবধারিত মিলে
তুমি একার গরবে 
বিজয়ীর শেষ হাসি হাসবে ব'লে ।

রোমন্থন

একবারও অতিরিক্ত দেখায়নি
একটিও কৌতুহল কখনো ।
অন্তর্যামী জানেন
বরাবর স্বামী-সোহাগিনীই ছিলে ।

"ধন্যবাদ" ছাড়া
বলার সুযোগ ছিল না কিছু তেমন
পরদিন সকালে 
গুড-মর্নিং চায়ের কাপে ।

দুপুরে যদিও 
ঘাটতি ছিল না অতিথিসেবায়
এগারো পদে ।

তাব'লে, বিকেলের চা অবধি
অপেক্ষা করিনি আর ।
চলে আসার সময় 
আমাকে থমকে দিয়ে
হাত নেড়েছিলে একটু যেন বেশিই ।

বোঝাতে চেয়েছিল দিলরুবা 
সে ইঙ্গিতে অনাগত প্রস্রবণ কোনও
মধুর ইত্তেফাকে ?