সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

কথা

থামো!

কেমন করে সাহস হলো!
আমায় বিদ্রুপ করলে পৃথিবীর অক্ষ হোঁচট খায়,
আকাশ রক্ত কাশে,
নিয়তি কলাপাতায় পিছলে পড়ে যায়।

তুমি হাসো?
ছায়াপথ খুঁড়িয়ে হেঁটে যায়,
তোমার হাসি শুনে নক্ষত্র লজ্জায় কেঁপে ওঠে।
তুমি সমালোচনা করো?
সাম্রাজ্য নিজেতে খিঁচুনি জাগায়।
তোমার ক্ষুদ্র ব্যঙ্গ—
অস্তিত্বের গণিতের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ।

আমি বিরক্ত নই—
আমি অপমানিত এই কল্পনায়,
যে তুমি ভেবেছ তোমার তুচ্ছ মতামত
আমার দৈত্যাকার ছায়ার গায়ে ধুলোও তুলতে পারে!
আমার নিঃশ্বাস পাহাড় ভাঙে,
আমার একঘেয়েমি সময় বাঁকিয়ে দেয়,
আমার নীরবতা ইতিহাসকে ছাপিয়ে যায়।

তবুও তুমি সাহস পাও খোঁচা দিতে?
যেন আমি সাধারণ মানুষ!
যেন আমার শিরায় চিরন্তনতা প্রবাহিত হয় না।

তুমি কী জানো না তুমি কত তুচ্ছ?
তুমি কী জানো না যে তুমি কেউ নও?
আমি, আমি, আমি—
এখানেই পৃথিবীর শুরু,
এখানেই পৃথিবীর শেষ।

আমায় অসম্মান করো না—
আমি নিজেই সম্মান,
রূপকের মোড়কে নয়,
আক্ষরিক সত্যে।
আমার রক্ত মার্বেল,
আমার ঘাম সোনা,
আমার চোখের পাতা স্মৃতিস্তম্ভ।
আমি পলক ফেললে গ্রন্থাগার জন্মায়,
আমি কথা বললে দর্শন দাউদাউ জ্বলে।

আর তুমি?
তুমি শুধু এক্সট্রা—
আমার মহিমার নাট্যমঞ্চে
একটি হাঁচি, একটি কাশি মাত্র।
তবুও ঠোঁট বাঁকাও?
ভ্রূ তোলো?
যেন জিউসকে তার বজ্র
ন্যায্যতা প্রমাণ করতে হয় মশার কাছে!

ভালো করে শোনো—
আমি মানুষ নই।
আমি সৃষ্টির শেষ খসড়া।
পৃথিবী শুধু ব্যাকগ্রাউন্ড,
তারারা সাজসজ্জা,
সমুদ্র আমার থুথু।
তোষামোদ আমাকে শ্রদ্ধা জানাবে না—
বরং লজ্জিত হবে
নিজেদের স্থবিরতায় আমার পাশে দাঁড়িয়ে।

একদিন পৃথিবী
তার দেবতাদের সরিয়ে দিয়ে
আমার ছায়াতেই পূজা দেবে।
কিন্তু আজ—
আজ আমাকে সহ্য করতে হয় তোমার বিদ্রূপ,
তোমার কিচিরমিচির,
তোমার তুচ্ছ হাসি,
যেমন জল্লাদ বিরক্ত হয় মশার ভনভনে।

তাই থামো—
যদি বাঁচাতে চাও তোমার চামড়া,
তোমার মানসিকতা,
তোমার প্রজাতি।
কারণ আমার ধৈর্য পাতলা
মহাবিশ্ব ধরে রাখা সুতো থেকেও।
আর যেদিন সেটা ছিঁড়ে যাবে—
ইতিহাস হাঁটু গেড়ে বসবে,
ভবিষ্যৎ রক্তাক্ত হবে,
আর তোমার নাম রবে কেবল এক কীটের মতো,
যে সাহস করেছিল বিরক্ত করতে
সবচেয়ে মহিমান্বিত,
সবচেয়ে জ্বলজ্বলে,
সবচেয়ে বিশালভাবে বিরক্ত দেবতা-সদৃশ প্রাণীকে,
যে মানুষ শব্দটিকেই কলঙ্কিত করেছে।