বুধবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২২

আক্ষেপহীন


প্রীতম স্যার, ক্লাসের বিপ্রতীপে দাঁড়িয়ে,
মোটা ফ্রেমের চশমার ফাঁকে 
চকচকে চোখে যেমনটি তাকাতেন
এক চিলতে হাসির দুষ্টুমি 
বুক থেকে বুকে ছড়িয়ে দিয়ে,
রাতে শুয়ে পড়ার পরে 
মনে পড়বে না সেকথা আর,
তেমনটাই স্বাভাবিক ছিল, এমন নয় ।
ক্লাসের ফার্স্টগার্ল হলে 
প্রিয় পুরুষকে ভেবে স্বমেহন অন্যায়
তেমনটা কে বলেছে ভাই ?

অথচ এমন দীর্ঘদিনের অভ্যাস,
( সু না কু বলবে - সে তোমার দায় )
চলেই গেল তোমার প্রেমে পড়ার পরে ।
পাগল অভিমান কী আর করে ?
তোমার কাছে যা ন্যায্য দাবী,
রয়ে সয়ে, রসে বসে, না আদায় করে
তা কি লুকানো আপোষে 
স্বার্থপরের মত একা নিজের কাছে কেউ
চুপিচুপি চাইতে পারে ?

ভাল কে বাসে

খুঁজতে হলে, অনুভবে খুঁজো ।
খুঁড়তে হলে, পরাণে খুঁড়ো মানুষটিকে ।
পরাণে কুৎসিতের বাস থাকে না কারও ।
বিবেকের শুভ্র সাহচর্যে কেবলই সুগন্ধ
আর মধুর স্বাদ পাবে সেখানে ।

মানুষকে খুঁজতে যেও না কখনো
তার মনে ।
সেখানে শুধু স্বার্থ গজগজ করে ।
যত ধান্দাবাজি আর সুবিধাবাদের চর্চা
করতে পারে মানুষের ওই হিসেবী মন ।
মনটি আদৌ বিশ্বাসের যোগ্য নয় তাই ।
প্রলোভনের চাপে পড়ে, সুযোগ পাওয়ামাত্রই 
সে তোমাকে ঠকিয়ে দিতে পারে ।
যে কোনদিনও ঠকাতে পারে না
সে হলো মাতৃসমা-মমতাময়ী পরাণটি মানুষের ।

যে মানুষই হোক,
মানুষটি কখন, কার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত,
এটা খুব সাবধানে খেয়াল করার বিষয় ।
সে নিজেও খেয়াল করে না, অথচ
একই মানুষের মধ্যে
একই সময়ে দুটি মানুষ বাস করে ।
সময়মত আলাদা করে চিনতে জানলে 
আর ভয় নেই কোনও,
না চিনলে, একদিন
আচমকা বিভৎসভাবে ঠকে যাওয়ার
সম্ভাবনা থাকতে পারে ।
.