বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

অভেদ-নিদান

"ভাল বুঝি ছিল বাসা স্বপনের মূর্ছনায়
অন্তত কখনো একটিও দিন ?
কতবার উঠলো বেজে এ পরাণের সুরে
বরণ-ব্যাকুলতার ঐকান্তিক বীণ ?" -

এইসব প্রাকৃতের ঢেউ বিরহকে ভাসায়
মুখ ঢাকবে কি ভাবে অন্তরের মলিন ?

বুঝি রোজ রোজ মুকুরে মরীয়া খোঁজ !
মানুষ আপনে যে অফুরাণ মহাভোজ
অপর নয়নে আশা তস্য মুগ্ধতর বোঝ ! 
জমিন কবে আর পাবে কর্ষণের ফলে মনোজ ?

রাত ফুরিয়ে গিয়ে ভোর ফের স্বচ্ছতা দিলে
হেমলক - ঊষার পরিভাষ্যে বিবশ, ক্ষীণ !
বিকর্ষিত দিগম্বরের অবশেষে ফিরে ছাওয়া 
সমান্তরালের তাপে তপ খুঁজে পাওয়া
ভেদ-ভাবের মায়ার লয়ে
প্রচ্ছন্ন উত্তরার, 
মন্দিরা-নিনাদে আগামী দিন ৷

রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

পরিত্রাণ

সম্পূর্ণ ত্রুটিশূন্য
এ জগতে আমরা একজনও নয় ৷

কেউ না কেউ 
কাছের অথবা দূরের
কোন না কোন সময়ে
কারণে অথবা অকারণে
দোষ ধরবেই তোমার !

তুমিও তখন
নিজেকে ছোট হতে না দিতে
প্রবল আগ্রাসনে
তারও যাবতীয় দোষ, ত্রুটি, 
যতদূর উচ্চকণ্ঠে সম্ভব
আরোপ করতেই পারো !

আপন অহংকারটিকে
তখন
এমন প্রকারের প্রশ্রয়ে
দ্বন্দ্বে অবতীর্ণ করাই জায়েজ ৷

অথচ এক জীবনের ক্ষুদ্র পরিসরে
একটি মহৎ মাইলস্টোন
অনায়াসে পেরিয়ে যেতে পারে মানুষ,
যদি তৎক্ষণাৎ না ক্ষেপে গিয়ে,
শান্ত স্বরে, 
দিগন্তের দূরত্ব হতে ভেসে আসা
পরম নির্লিপ্তিতে
উচ্চারণ একবারটি করতে পারে -

"আচ্ছা বেশ ! 
খুবই ভাল পরামর্শ দিলে !
ভেবে দেখব আরও ভাল ক'রে
রাত নিশ্চুপ হলে গভীরে !

সে অপেক্ষাটুকু, নিদেনপক্ষে, 
আপাততঃ যদি মনে ধর !"

কালো

চামড়ায় লাগা রংই মাত্র - সে !
তার বেশি এক পয়সাও না ৷
রিমুভার দিয়ে তুলে দিলেই
ওমনি শেষ - দৃষ্টির যন্ত্রণা !

আসল উপাদানটি অন্যত্রে !
ভাব, চিনে গেছ - বেশ ভাল !
অথচ আজও প্রমাণিত -
"বহুলাংশেই অচেনা" !

নিজেকে যে নিয়মে চালানো
পরকে নিজের মনে হলে
তারও প্রাপ্য - একই সম্মাননা !

পাপ কে ঘৃণা করতেই হয়
আপোষহীনে,
যে অবধি অভঙ্গুর আত্মবিশ্বাসে নিরুত্তর - 
দিশা-জনিত আত্মপ্রবঞ্চনা !

না ক'রলে, প্রকৃত অর্থে -
তুমিই প্রথম দোষী,
যে প্রশ্রয়ী মাসি
ভাবে "বড্ডই ভালবাসি",
কিন্তু 
দায়িত্ব-বিমুখতার চাপে পড়ে
পলায়ন-প্রবণ, তাই
ভালো আখেরে করতেই পারে না !

আর পাপের পরিহারমাত্রে ?
পাপীকে ইতিহাস-জনিতে ঘৃণা ? কক্ষণো না !

পরিণামে বরং দেখতেই পারো - 
দুহাত বাড়ানো নৈকট্যের
অবধারিত ফিরতি জয়ে,
পূনর্বার ফিসফাসেরও শুরু ! 
ফেরে  - দ্বিপ্রহরিক রসের
মূখ্য দায়ভার 
নতুন ক'রে তুলে নিতে
অতি উৎসুকদের মিটিমিটি জল্পনা !

শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

জাগতিক

উপরে ওঠার রাস্তা
আরামের হয় না কখনো !
অর্জনে কষ্ট থাকতেই হয় !

কিছু মানুষ পৃথিবীতে জন্মায়
তোমাকে কষ্ট দিতে !
পাপীকে পাপের ভার বাড়েতেই হয় ৷
স্রষ্টা উপর হতে হাসেন
আর অপেক্ষায় থাকেন বরদানের !

শাঁখ বাজে চেতনার গর্ভগৃহে ৷
তোমার একার জন্য আসে 
কষ্টের সিঁড়ি বেয়ে
উত্তরণের অযাচিত সুসময় !

রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

সন্ধিক্ষণ

তোমাকে, তাব'লে, বলিনি কখনো

হঠাৎ ভালবাসার
প্রবল বরষণ ঢেলে গেলে,
কুঁড়ির - শেষ অবধি চিরে
ফেটে পড়ার কষ্টের অনুভবে
বাধ্য মূক হয়ে যাই !

রবি ঠাকুরের গান মনে পড়ে
বড্ড বেশি ক'রে !

তাকিয়ে তাকিয়ে দেখি
ফুলের সুন্দরে - লাবন্য যোগে
ফুটে ওঠার ভরন্তে
সে বিষ্ময়কর রূপ-মঞ্জরীর দোলা !

আর ভরে যাই অরূপ কৃতজ্ঞতায় !
স্রষ্টা চেয়েছিলেন ব'লে
অমানিশার স্তব্ধতা পেরিয়ে
কাছে, অথচ সুদূরে কোথাও
আরও একটি
সুবাসিত ভোর মুকুলিত হতে হয় 

আলোকের ঝরণাধারে !
.
.

বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

শিল্পানুরাগ

মানবজনমের নিয়মে
আমারও সঙ্গম পায়
প্রাকৃত বাসনায় !
তাব'লে, হবেই হতে গতি
গতানুগতিকের গতে 
স্থুলে, সীমিতের তিতিক্ষায় ?

অপেক্ষায় আছি
একদিন পেড়ে নেব তাক থেকে
একে একে সব বই তোমার !

প্রত্যন্ত ও উৎসুক 
সে অবসরের বিভঙ্গে
আঘ্রাণে পাবো যেই
নির্ভারের কুমারী সুবাস 

স্থিরদৃষ্টিতে তোমাকে বেঁধে ফেলে
দাবী করব, যৎসামান্য চাগিয়ে,
"মলাট খোলো গো সখি
তাহলে এবার !

এখনই সুনিবিড় মন্থনে,
চাই যে জারণে, সোনা,
উন্মুখ পরাণ-ধারায়
সিক্ততার আকুঞ্চনে তোমার 
প্রতিটি নিকুঞ্জ-পারাবার ৷"

সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

প্যাশন

ফুলকে পূর্ণ প্রস্ফূটন উপহারে দিতে
আবৃতিকে যখন
গর্ভ উন্মোচিত করতে হয়
আপন আয়ু স্বেচ্ছায় ছিঁড়ে,
পুরোটা ছড়িয়ে পড়ে,
সে প্রয়াস
সুতীব্র ব্যথা বিনা আদপে সম্ভব হতে পারে ?


তুমি যে এ অবধি সে কথা জান না
আসক্তির স্বভাবগত নিরুচ্চারে,
সে, অবশ্য, এ পক্ষে
আছেও আংশিকে জানা,


ইচ্ছামাত্রে লভ্য যখন নয়,
অথচ, তোমার ভালবাসার ব্যথা
নিবিড় বরাভয়টি
খুঁজে পেতে যখনই চায় -
শর্তহীন সমর্পণে,
চাওয়াকে যে মুহূর্তে আকুল
হতেই হয় নিষ্ঠার বিবশতায়,

তোমার ইচ্ছাও, তৎকালে
নিখাদ হয়ে ওঠার সুবাদে,
শক্তি আহরণ করে সমানতালে
আকুতির আড়ালে
ঘনত্বে বর্ধিষ্ণুতার অধিকারে ৷


ফলতঃ উদ্ভুত তরঙ্গ, উত্যুঙ্গ অলখে,
যোগসূত্র খুঁজেই নেয়,
অনুরণন সৃষ্টি ক'রে - অভীষ্ট প্রান্তরে !


তুমিও সে কথা জানবে কি
কোন একদিন ?
তোমারই সেতারের সুরে - সে যামে
সরোদেরও বাজার শুরু অপর পারে
বাধ্য কেদারে ৷

তোমার ত্রিমাত্রিক দরশ হতে তখন
বাস্তবে যদিও অনেকই দূরে,
প্রাকৃত কষ্ট স্পষ্টতর হতে হতে
পরশাবিষ্ট, ওদিকে একায়,
প্রভূত তড়পায় !


বুঝবে বুঝি তুমি,
অদ্বৈতের, দ্বৈতে ভঙ্গুরত্ব
অবশিষ্ট - অধিক আর না রয়ে গেলে,
তারপরও
"আরোপিত পীড়নমাত্রে সীমা থাকতেই হয়" -
এটুকু অটল বিশ্বাসের ভরসায়,
কোন গভীর অবধি তাকেও
সাহস সঞ্চয় করে
অযান্ত্রিক-জনিত যন্ত্রণার সহসাটি
নীরবে সহ্য করতেই হয় ?


কোনও অপূর্ণতাকে
অভিযোগ ও অপবাদের গতানুগতিকে
দোষী স্যাব্যস্ত করতে পারা
সম্ভবও কি হয় - মানবিক বিচারবোধে,
যে আচারে, এ ধরার পরিসরে,
প্রতিটি ভেদের অভিশপ্ত একাকিত্ব
মিলনে - অভেদের অনুভবটুকু মাত্র
সোহাগের বেহাগে
অতি সাময়িকের নিমিত্তে ধার চায় ?


মানবজীবনে
বসন্তের পুনরাগমন-অধিকারে
ভালবাসাই যে একমাত্র পারে
নূতন কলিদের সবুজতর জাগরণে
স্থবিরের ক্লিন্ন বাঁধন যত
নির্দ্বিধায় ছিঁড়ে,
যাপনকে ভাসিয়ে নিতে ফের নির্ভারে,
গতির উল্লাসে -
মুক্তির ভরপুর জোয়ারে ৷

.
.
..

শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

দেখা

উত্তরণের অনির্বাণ দীপশিখাকে
জ্বলনাঙ্ক দিতে
নিবিড় অগ্নিশলাকাটি
অযাচিতে এগিয়ে দিয়েছিলে
কোনও এক সুলগনের সুযোগে
আশ্চর্য সুযোগ্য তুমি !

ভুল করব না আর !
আগুণকে
যতনে ধরে রাখার দায়
অধিকার-দোষ-হীনতার পরীক্ষায়
একার এ আমার !

মানুষকে যেতেই হয় চলে
গতির মহান যাপনে একদিন
সে কথা স্থির জানি !

তোমা-বিহনে
আপন চরৈবেতির বিহানে
আসনটি রইবে তবু পাতা !
খোলা রইবে দ্বার -
কৃতজ্ঞ অপেক্ষার অতঃপর,
সুন্দরের চরণে
যে নিষ্কলুষ আরাধনে
মরণ অবধি পৌঁছে যেতে চায়
অবিরাম এ পরাণ-সেতার !
.

শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

নির্ভয়

মানুষ ভাবে 
একটু চালাকি করলেই
অন্যকে মোক্ষম ঠকানো যায়,
চুপিচুপি, আড়ালে থেকে
ক্ষতিও অবাধে করা যেতেই পারে !

মানুষ কতদূর অবধি দেখে ?
সত্যিই বেঁচে যায় বুদ্ধির দৌলতে
করাল যেদিন ডাকে সময়ের প্রহারে ?

এ অমোঘ নিয়মের জগতে
একটিও গুপ্ত ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয় !
নগ্ন হতেই হবে প্রত্যেককে 
নিঠুর সে বিচারের দরবারে ৷

যে অপরাধটি করে
তার নিয়তিতে সুদ-গোনা শুরু হয়,
অলখে ধারের ভারটি বাড়ে !

যার ক্ষতি করা গেল
তার অথচ হয়ে গেল দুর্ভোগের ক্ষয় !
চালাক দেখতে পরিচালককে পারে ?

এবার দাঁড়িপাল্লায় দুজনকে তোলো ! আহা রে !
শিশুটিও হাসতে হাসতে বলে দেবে
কে প্রস্তর-বৎ পাপস্খালনের দ্বারে

আর কে হালকা, - 
প্রফুল্ল চিত্তে, পাখির উড়ান পেতে
অযাচিত নির্ভারে !
.

ভাজা মাছটি

ভালবাসায় নির্ভর যেহেতু 
স্বার্থশূন্যতায় অকপট নির্ভার
খোয়ানোর তাড়াও, কোন যুগে,
ছিল না তেমন আদৌ তার !

তবে প্রেমে থাকতেই হয়
মাথাভারী কামনার বোঝ
যতই না স্বপন দৌড়ে যাক
অজানার সুখে রোজ রোজ

প্রেমের তাই ক্ষণজন্ম নিদান
বর্তমানে অথবা প্রবাদে,
যেন ধার শোধ বাকি ছিল
সুযোগ পেতেই, সুদে বা না-সুদে !