শনিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৫

মানুষের অনন্ত যাত্রা

বহু ঝড়, বহু জোয়ার,
অসংখ্য প্রলয়ের ধুলো পেরিয়ে—
মানুষ চলেছে,
চলেছে অনন্তের প্রান্তে।

সে জানে না গন্তব্য কোথায়,
তবু তার পদচিহ্নে লেগে আছে বিশ্বাসের নরম শিশির,
যেন অদৃশ্য কোনো শক্তি
তাকে আহ্বান জানায় অন্তরের গভীর নীল আলোয়।

চোখের উপরের পর্দা
একের পর এক খুলে যায়—
অজানার প্রতি এক নিবিড় সমর্পণে,
নিজেকেই জানার অদম্য তৃষ্ণায়।

সে দেখে,
তার ভিতরে আছে এক নক্ষত্রখচিত গুহা,
যেখানে সময়েরও নেই প্রবেশাধিকার,
যেখানে শূন্যতা কথা বলে
সৃষ্টির প্রথম ভাষায়।

মানুষ বিমুগ্ধ চিত্তে
সেই নীরবতার দিকে এগিয়ে চলে,
যেখানে সত্য কোনো শব্দ নয়—
একটি স্বচ্ছ স্পন্দন,
যা হৃদয়ের গর্ভে অনন্তকাল ধরে জাগ্রত।

যুগের পর যুগ, সভ্যতার পর সভ্যতা,
সে খুঁজেছে উত্তর
নিজেরই প্রতিচ্ছবিতে।
সে পুড়েছে আগুনে,
গড়েছে মন্দির, ভেঙেছে শৃঙ্খল,
তবু শেষপর্যন্ত সে ফিরেছে নিজের বুকের ভেতর—
সেই এক প্রাচীন নিঃশব্দ সাগরে,
যেখানে সব প্রশ্ন গলে যায়
একটি স্বচ্ছ আলোর মধ্যে।

মানুষের এই যাত্রা—
বাহির নয়, অন্তরের—
যা একদিন পৌঁছাবে সেই বিন্দুতে
যেখানে “আমি” আর “বিশ্ব”
একই নিঃশ্বাসে মিলেমিশে থাকবে,
যেন সত্য নিজেই নিজের প্রতিচ্ছবি হয়ে
মানুষের চোখে তাকাবে—
অশেষ বিস্ময়ে।