মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬

এখন সময়

এরপরও সহ্য করবে
নিজের প্রতি অনধিকার?
কতদিন আর?

জানো কি?
দিনের সারি থেকে বেরিয়ে আসা
তোমার জন্য 
এই মুহূর্তেই অতীব জরুরী—
যেখানে সকালগুলো নিজেকেই ফটোকপি করে
আর সন্ধ্যাগুলো 
একই সই করে যায়
ক্লান্ত হাজিরা খাতায়।

তোমার জীবন বসে আছে এক অপেক্ষাঘরে,
খোসা ওঠা দেয়ালের পাশে,
একটা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে
যে নিজের কাঁটাগুলো নিজেই চিবোচ্ছে—
তার নাম কোনো একদিন।

এই একঘেয়েমি—
যন্ত্রণার মতো যথেষ্ট জোরালো নয়,
রক্তপাতের মতো যথেষ্ট ধারালো নয়—
আঙুলের ছাপ না রেখে
শ্বাসরোধের শিল্প নিখুঁত করে ফেলেছে।

মূল্যহীনতা ভদ্রভাবে আসে,
জুতো খুলে রাখে,
আর তোমার মনের আসবাবপত্র এমনভাবে সাজিয়ে দেয়
যে আশা পর্যন্ত ভুলে যায়
সে কোথায় রাখা ছিল।

তুমি ধারাবাহিকভাবে স্থবির,
একজন মানুষের পুনঃপ্রচার,
স্বপ্নগুলোর মাঝে বাফারিং—
যেগুলো লোড হতে চায় না।

তাই একটু বিরতি নাও—
ক্যালেন্ডার-অনুমোদিত বিরতি নয়,
বরং সেই বিরতি
যা অভ্যাসে ফাটল ধরায়,
যেখানে রুটিন সস্তা কাঁচের মতো ভেঙে পড়ে
আর বাতাস হঠাৎ করে
অবৈধ গন্ধ পায়।

তোমার এই সংস্করণটাকে ফেলে এসো
যে বেঁচে ছিল,
কিন্তু কোথাও পৌঁছায়নি।
ওকে বিশ্রাম নিতে দাও।
যথেষ্ট হওয়ার ভান করতে করতে
সে ক্লান্ত।

সেখানে যাও
যেখানে তোমার নামটা অচেনা শোনায়,
যেখানে আয়নাও তোমার সঙ্গে একমত হতে
একটু থমকে যায়,
যেখানে ব্যর্থতার শব্দ জোরে হতে পারে
আর পুনর্জন্মের জন্য
সাক্ষীর দরকার হয় না।

এটা পালিয়ে যাওয়া নয়।
এটা তোমার ভবিষ্যতকে মঞ্চস্থ করার জন্য 
এক হস্তক্ষেপ,
তোমার নিজের স্পন্দনের কলার ধরে
তোমাকে মূল্যহীনতা থেকে টেনে তোলা।

মন্ত্র ভেঙে দাও।
একঘেয়েমি টিকে থাকে আনুগত্যে।
স্থবিরতা মারা যায় ঠিক সেই মুহূর্তে
যখন তুমি নড়ো—
এমনকি ভুল দিকেও হলেও।

ভুল স্বপ্ন

সবাই ভাবলো
জীবন মানে মূলত সুখ—
একটা রঙিন বেলুন,
হাওয়ায় ভাসে,
হাত বাড়ালেই ধরা যায়।
শৈশব থেকে শেখানো হলো
হাসিই নাকি সাফল্যের প্রমাণ,
দুঃখ মানেই ব্যর্থতা,
কান্না যেন
একটা নিষিদ্ধ ভাষা।

কিন্তু জীবন এলো
মাটির গন্ধ মেখে—
হাঁটুর চামড়া ছিঁড়ে
শেখাল হাঁটা,
ঘামের নোনতা জলে
ভিজিয়ে দিল স্বপ্ন।

জীবন আসলে কষ্ট—
পাথরের মতো ভারী নয়,
বরং বালির মতো,
প্রতিদিন জুতোর ভেতর ঢুকে
হাঁটাকে ধীরে ধীরে
রক্তাক্ত করে।

এই সামান্য সত্যটি
মানতে না পেরে মানুষ
সুখের দোকানে দোকানে ঘুরলো,
নকল হাসি কিনলো,
ডিসকাউন্টে আশা নিলো,
আর প্রতিবারই
রসিদের শেষে লিখা থাকলো—
“ফেরতযোগ্য নয়।”

হতাশা তখন
স্থায়ী ঠিকানা বানালো,
বুকের ভেতর
একটা ভাড়া দেওয়া ঘর,
যেখানে প্রতিরাতে
“আরও ভালো হতো যদি…”
এই বাক্যটাই
বাতির মতো জ্বলে থাকে।

যে বুঝলো—
কষ্টই জীবন,
সুখ কেবল তার
মাঝে মাঝে নেওয়া শ্বাস,
সে আর ভাঙলো না,
সে আর অভিযোগ করলো না।
তার চোখে তখন
দুঃখও সুন্দর,
কারণ দুঃখ জানে
কীভাবে মানুষ বানাতে হয়।

আর যারা মানতে পারলো না,
তারা জীবনভর
একটা ভুল প্রশ্ন বয়ে বেড়ালো—
“আমি কেন সুখী নই?”
অথচ সঠিক প্রশ্নটা ছিল—
“আমি কষ্টকে
কতটা আপন করতে পেরেছি?”