সোমবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

তটিনী

- তুমি এভাবে একটানা কী দেখ আমার চোখে ?

- স্বপ্ন দেখি ।

- কোন স্বপ্ন ?

- ভীষণই গোপন আর একা আমার ।

- একা তোমার, অথচ আমার চোখে ?

- হ্যাঁ । কারণ, এ স্বপ্নে কোনও দায় নেই তোমার ।

- কী সে স্বপ্ন ?

- শুনতেই হবে ?

- হ্যাঁ

- পাতালের ডাকে মাতাল হও যদি ?

- সামলে নেব ।

- ঠিক তো ?

- হ্যাঁ ।

- তাহলে শোন -

বেগবতী নদী হব ।
কখনো ফিরবো না 
বাসি আবেগে
পিছনের পুরোনো ঘাটে ।
নিত্য নূতন রূপে 
নিয়ম করে, নিজেকে 
পাল্টে নেওয়ার সাথে সাথে
না বলে, যখন, যেভাবে খুশি
আছড়ে পড়ে বুকে
ভাসিয়ে নেব তীব্র স্রোতে
অজানার পথে ।

চলার পথে
যে কোনও দুর্ভাগ্য
হাসিমুখে মানিয়ে নেব ।
শুধু, আশ মিটিয়ে 
পরাণসুখে
দামাল হব তোমাতে ।

শনিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

আনন্দধাম

পাখির বাসায় ছাদ থাকে না,
একমাত্র বাবুইয়ের ছাড়া ।
বাকি সব পাখি তাই
ঝড়-বৃষ্টি এলেই, বিশ্রী রকম ভিজে,
ঠক ঠক করে কাঁপতে থাকে
আর ডানা ঝাপটে জল শুকাতে চায় ।
এদিকে, বাসাটি ভালই দোলে, অথচ
বাবুইয়ের গায়ে জলটি লাগে না 
বাসায় ছাদ আছে ব'লে ।

মানুষ বড্ড ভেজে 
আমন্ত্রিত নিয়তির অনিয়ন্ত্রিত ঝড়-জলে ।
প্রতিবার কাক-ভেজা ভিজে
হতাশা আর দীর্ঘশ্বাসের পৌনঃপুনিক গল্পে
বোকাহাঁদার মত নাকানিচোবানি খেতে হয়,
কিন্তু, পারে না নিজেকে বাঁচাতে ।

তবে, কেউ কেউ অবশ্য পারে ।
যারা আপন নিরাসক্তির সুবাদে
হৃদয়-নিহিত বিবেককে 
অন্তরের রাজসিংহাসনে আসীন রেখে,
প্রয়োজনানুসারে কঠোর অনুশাসনে,
মনযন্ত্রকে নিয়ন্ত্রিত রেখে,
পরধনলোভী প্রবৃত্তির 
সুবিধাবাদ, তঞ্চকতা, শোষণ,
ইত্যাদি-প্রকার কলুষ হতে
জীবনের নির্মলতাকে 
নিশ্চিন্ত বাঁচিয়ে রাখতে জানে ।

ঐ জগতে 
প্রকৃত হতভাগ্য একমাত্র তারাই,
যারা অনিয়ন্ত্রিত নিয়তির বশ,
যারা ইচ্ছার আপোষহীনতায়
প্রবৃত্তি-প্ররোচিত মনকে
বশীকরণে সচেতনরূপে দায়বদ্ধ নয়,
পাছে, 
পরাজয়ে ভঙ্গুর 'সংসারী-সং' 
না সেজে থেকে, 
যদি তারা ঋজু, স্বচ্ছ 
ও আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে উঠতে পারে ।

বৃহস্পতিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

সমাধান

উত্তর পায় না মন
অধিকারের আগ্রাসনে
নানাভাবে প্রশ্ন না করে !
বারবার আগ্রহ তাই তার
থুক্কুমুচু পরীক্ষা নেওয়ায়
যুগলবন্দী অভিসারে ।

পরাণে দৃশ্যমান থাকে উত্তর
সত্যের আলোকে নিরন্তর
একটিও প্রশ্ন না ছুঁড়ে ।
উন্মুখ-তাড়া নেই তার,
যে প্রকাশ্য উন্মুক্তে অপার
অন্তরে, প্রশান্তির বরে ।

নিবৃত্তি

প্রবৃত্তির স্বভাব ভাল নয় ।
সে যত পায়, 
ততই দেওয়ার কথা ভুলে
আত্মকেন্দ্রিক
সুখের ভোগে আটকে প'ড়ে,
মজে থাকে কেবলই পাওয়ায়  ।

অন্ধ অনাকাঙ্খিত, তাই
স্রষ্টা মানুষকে 
নিজের মত ক'রে গড়তে চায় ।
যার কাছে যত দেওয়ার মত
প্রাণের সম্পদ আছে,
তাকে বাঞ্ছিত হতে 
ক্রমাগত বঞ্চিত করে
অধিকতর কষ্ট দেয়,

যেন সে
বিভোর সেবার সতত উদারে
বহুজনের জন্য, বহু কষ্ট হতে 
মুক্তির কারণ হতে পারে ।

শনিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

নিম্নাকাঙ্খী

পরাণটি হৃদয়ে থাকে ।

মস্তকে, মনের কৃপণ সঞ্চয়ে 
থাকতে আছে শুধু 
অহমিকা-দুষিত
ভোগের অপরিসীম লোভ
আর তদজনিত দেনা-পাওনার
পুঙ্খানুপুঙ্খ বেনিয়া হিসেব ।

প্রেমের মুখোশটি 
আলখাল্লার মত গলিয়ে নিয়ে,
অপেক্ষায়, সে শিকারীর মত ওৎ পাতে,
নিজে অধিকতর শোষক হয়ে
অপরকে কতদূর অবধি দোহন ক'রে
সাময়িক সুখের ক্ষীর খাওয়ার 
ফয়দাটি লুঠে নিতে পারে !

আদ্যন্ত যৌনতা-চালিত পুতুল হয়েও
ভুরি ভুরি কবতে রচনাও আবার 
দিব্যি চলে ।

অনুভবের মিলে
প্রাণের ব্যাকুল টানে সাড়া দেওয়ার
সাথে সাথে
নিজেকে মিলনের ঊর্ধ্বতর স্তরে 
সুন্দরের সার্থক প্রতিবেদনে
নিয়োজিত করার তার অবসর কোথায় ?

তদৃশ মানবিক আভিজাত্যের আগে
মনের পাশবিক নিম্নস্বার্থটিকে যে 
আপোষহীন সততায় বশে আনতে হয় !
আজীবনই নীচু দরে 
যে সস্তা মাংসের কারবারি,
সে অশক্তের আসক্ত রুচিতে 
অনুভবের পরম উৎকর্ষই বা 
কিভাবে মুকুলিত হতে পারে ?

বরাহ-যাপনে আপাতঃ সুখী 
ক্ষণিকা মনটি তার 
সুযোগ পাওয়া মাত্রে
কাম্য কায়ার নিম্নধামে
লোভনীয় বিনিময় না পেলেই 
ওমনি বিপুল বিরহে উদাস, 
ঘন ঘন অবসাদের কাব্য লেখে 

আর তুমি গেছিলে তাকে
ধবধবে সাদা পরমান্নভোগের 
প্রসাদী স্বাদের উৎসখানি 
হৃদমাঝারে চিনিয়ে দিতে ?

বৃহস্পতিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

ভেমের চালচিত্তির

একবার ভরে দে না, সুখে ভাসি ।

আমি 
পাঁঠার আঠা পেয়ে
চোকাবো ল্যাঠা
দেখবে শহরবাসী ।

বুধবার বেলা তিনটের পরে
মরদ কাজেতে দূর-শহরে, হ্যাঁ গো !
তখন যদি না গলাতে আসিস
দেখবি এ ঢলায় ফাঁসি ।

একবার ভরে দে না, সুখে ভাসি ।

সমস্যা ও সমন্বয়

প্রকৃতির মোহে এমনই মায়া,
সব শরীরে সব শরীর ফিট করে যায় ।
তোমার একটিমাত্র শরীরের জন্য
তুমি তাই অসংখ্য বিপরীত শরীর পাবে ।

ভোগ করে দেখ
যত বৈচিত্র বাড়াবে তৃষ্ণা তত বেড়েই যাবে ।
চরম বলে কিছু নেই এ পথে
যার পরে নিজেরই থামতে ইচ্ছে হবে ।
কারণ, সত্যিটা হলো - 
কখনোই, শেষ অবধি, 
পুরোটা পাওয়া হয়ে যাবে না তোমার ।

পুরানো অভ্যাসে ভাবতে থাকো
যাকে যখন ভালোবাসো
তাকে একবারটি শরীরে পেলেই
জীবনের শ্রেষ্ঠ চাহিদা পুরোটা মিটে যাবে ।

ভুল ভাবো, শতকরা একশো ভাগ ভুল ।
শরীরের খিদে কমতে জানে না কখনো ।
মানুষ পুরানো হলে শুধু পাল্টে নিতে জানে ।
ঠিক যেমন সমুদ্রের রূপ পাল্টে যেতে হয়
তীর থেকে তীরে, 
যার শেষ বলে কিছু হয় না কখনো ।
এ হলো বিস্তৃতির হেরোইন-নেশা ।

গভীরতার দিশাটি একদমই আলাদা
আর এ পথেই চরমকে খুঁজে পাওয়া যায় ।
সে হলো নারী-পুরুষে বিশুদ্ধ বন্ধুত্ব
আর তদজনিত প্রাণের টান ।

শরীর-পিড়িত কুয়োর ব্যাঙের
সাগরের অভিজ্ঞতা নেই ব'লে
সে সম্পর্কের থেকে লভ্য তৃপ্তির মূল্যকে
মাপতে পারো না তুমি এখনও ।

স্বার্থলোভী মনকে নিস্ক্রিয় করে রেখে
প্রাণের সাথে প্রাণের  
অনুভবের আদান-প্রদান
অনায়াস হয় যখন, 
যখন তোমার পরাণ
অপর পরাণটির সামনে এলেই
অকপটে নগ্ন হতে পারে,
দুটি উলঙ্গ প্রাণের প্রবল উৎসাহে 
আশ না মেটা অবধি দেদার সঙ্গমে 
বাধা থাকে না যখন তৃতীয় কারও,
একমাত্র তখনই গভীরতার দিশায়
চরমকে আবিষ্কার করার
সম্ভাবনাটি তৈরী হতে পারে ।

প্রক্ষিপ্তকে যারা পাশ কাটাতে জানে
সেই রসিকরা একেই কৃষ্ণলীলা বলে,
যেখানে পূজা আর প্রেমে
আর তফাৎ খুঁজে পাওনা তুমি,
যেখানে পুরোটা দেওয়ার সাথে সাথে
পুরোটা পাওয়ার প্রকৃত মানে
মানুষ প্রথম অনুভবে পেতে পারে ।

রেওয়াজী খাসিতে বানানো 
রেজালার স্বাদ
বুঝবে কি করে, সারা জীবন 
চেটেপুটে শুধু ডাল-মাখনি খেয়ে গেলে ?

আহা রে

বারংবার একই ভুল কর 
যখনই লোভী কল্পনা 
আগ বাড়িয়ে আল্পনা আঁকে মনকলার, 
অথচ অনুভব 
তেমন প্রখর হতে পারে না ।

দুঃখ পেয়ো না যেন বন্ধু,
যদি কখনও বোঝো -
প্রায় গুরুর আসনে বসিয়ে
শ্রদ্ধা করেছে যে তোমাকে,
ভালও বেসেছে নিয়ম করে,
তুমি তার স্বপ্নের নায়ক
কখনো ছিলে না ।

তেমনটি বুঝতে পেরে
চোখ শেষ বারের মত ফুটে গেলে
সহজে মেনে নিতে শিখো ।
বাস্তব বড় কঠিন ঠাঁই গো,
দেহজ প্রেম বড্ড বেশি স্বার্থপর,
ভুলেও করুণা করে না ।

সোমবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

অবশিষ্ট

তোমার দরজায় গিয়ে
চার দিন ধরে 
অপেক্ষায় মুখ গুজে বসে থেকে থেকে
অবশেষে ফিরে এসেছিল
একটা রোগা, বখাটে সকাল ।
প্রত্যাখ্যানের তীর বুকে বেঁধার পরে
বাধ্য হয়ে প্রাণ ত্যাগ করেছিল ।

আজ তোমার কলমে 
নতুন ফুল রঙ-বেরঙে ফুটতে দেখে
নিশ্চিত হয়ে
তার জমিয়ে রাখা ভষ্মাধার
গঙ্গায় গিয়ে উৎসর্গে দিয়ে এলাম ।

কোয়ালিটি

জিততে যেও !
উত্তাল জোয়ারকে পুনর্বার জাগাতে হলে 
ভাটাকে তার আগে সাদরে ডেকে নিও ।
কাছে যদি আগেরবারের চেয়ে
আরও নিবিড়তর ক'রে পেতে চাও, তবে
বন্দী করো না তাকে 
একার অধিকারের ডোরে, বরং প্রতিবার
আবার আরও বেশি দৃরে গিয়ে,
পাগল হয়ে, প্রবলতর ফিরতে দিও ।

বুকের বাঁ দিকে আকুতির ঝড়ে
পরিমানের চেয়ে তীব্রতরতায় ধ্যান দিও ।
প্রলোভন আর কার্পণ্যের ফাঁদে ফেলে
তৃষ্ণা বাড়িয়ে নেওয়ার স্থুল চালাকি নয়,
আপন পরাণে তার স্বাচ্ছন্দ্যের আবাসনে
উদারতার মুক্ত বাতাস যেন বইতে পারে ।

সাহচর্যে, স্বাদের পদে পদে,
মুহূর্তদের আলোকময়ে জাগাতে চেও ।
খাঁটি সংবেদের সুবাদে 
বিরলতাকে চেনাতে থেকে
আগ্রহে তার বিনীত স্বেচ্ছাকে পাওয়া হ'লে
উষ্ণতার মেদুর আপ্যায়নে ঢেকে নিও ।

পরের গল্প তাকে তুলে রেখে, তৎপরতার
প্রথম সুযোগে, আগবাড়িয়ে ভালবেসো ।
গুণমান পাল্টে দিয়ে আর পাল্টে নিয়ে 
শেষ অবধি বিজয়ীর হাসি হেসো ।

যোজ্যতা

ভালবাসা মানে 
স্থবিরের আত্ম-কার্পণ্যকে জয় ।
ভালবাসা গতিশীলতার শুভনাম ।
আপন প্রসার-প্রসন্ন আগামীকে 
ভালবাসার বলে
বর্তমান নিজে, একটি একটি করে,
উন্নতির পরবর্তী ধাপ পেরিয়ে যায়।

আটকে পড় অপরিসীম যন্ত্রণায়
যখনই অবিশ্বাসের কাঁকর, জুতোয় ঢুকে,
পায়ে ফুটতেই থাকে তোমার ।

তা না হলে, কোনও দূরত্ব 
অথবা পাহাড়ের হিমালয়-সম উচ্চতা
আটকাতে পারে না তোমাকে,
ভালবাসা যখন বিশ্বাসের সাথী হয় ।

মানুষ পরকে ভালবাসে বেকুবের মত,
হরদম লক্ষ্যকে না বুঝেই ।
পর আর কীইবা এমন দেবে ?
আসলে সে হৃদয়ের আন্তঃসলিলে 
বাধ-ভাঙা জোয়ারের ডাক শোনে
ঊর্ধ্বস্তরে উত্তরণের
একান্তই আপন মঙ্গলকামনায় ।

শনিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

পারিজাত

পারিজাত
_________ Arup Sarkar
.
কবি ভাবেন

সুন্দর যদি না ব'লে পায়ে পয়ে
এসে দাঁড়ায় তোমারই কুটির-দ্বারে,
তবে ত্বক তার পরশের জন্য নয় ।
সে হয়তো শুধু আগত দরশন-তরে ।

একান্তই যদি স্পর্শ করতে হয়
কৌতুহল আলতো ছুঁয়ে দেখতে পারে,
খেয়াল রেখো, সহসা কুঁকড়ে ব্যথায় 
সে যেন কোন বিবর্ণ রূপ না ধরে !

আর, ডাকবেই যদি তুমুল বরষণ,
তবে তার প্রতি আকুঞ্চনের বরে
পরিসর রেখো ফিরতি বাধ্য প্রসারণের ।
বৃষ্টি যেন ফুলে প্রস্ফুটন হেরে
গুঞ্জনমুখী ভ্রমরের ব্যাকুলতায়
সমর্পণ তার নিবিড়তর করতে পারে,
থরে থরে আপন বরণে সেজে
অবশেষে শীর্ষে পৌঁছানোর অধিকারে !

সে অবলীলার উৎযাপনের দরবারে
প্রতিরোধহীনকে পূর্ণ কব্জায় পেয়েও
অবৈধ কুটিলরা সরলের সাথে রণে
অবধারিত রূপে শেষ অবধি যেন হারে ।

মাতব্বর

মন্তব্যের ব্যপারে বাঙালীর সংযম বড় কম ।

সত্যি কথা বলতে কি, কাউকে ছোট করে দেখানোর পিছনে সবসময়ই প্রচ্ছন্ন ভাবে নিজেকে বড় করে দেখানো লুকিয়ে থাকে ।
পরকে ছোট না করেও, কোনও পরিস্থিতিতে কীভাবে একটি সুন্দর মন্তব্য করতে হয়, সেটি প্রায় শিল্পবৎ সূক্ষ রুচি ও ভারসাম্য দাবী করে আর বাঙালি এই বিচক্ষণতার ক্ষেত্রটিতে বিশেষভাবে দূর্বল । 

তথাকথিত বহু উচ্চশিক্ষিত ও সংস্কৃতির জগতের দিকপালদেরও হামেশা দেখা যায় প্রতিক্রিয়ার সামান্য প্রলোভনে, আত্মসম্বরণের নগ্ন দারিদ্রে, ভারসাম্যহীন পা ফেলা মাত্রই, পিছলে গিয়ে, হাস্যকর রূপে ধরাশায়ী হয়ে, আপন মুখমণ্ডলটি মূর্খের উদ্যমে কালিমালিপ্ত করতে ।

The Existentialist

Manifestations are only outside
But no cause ever remains there.

Nurture your own root to the brim.
Learn how to reach there
And churn the spirit
And embrace genuine voraciousness.
Raise the cause deep inside
Upto everyday's record height
To reap the proportionate output
In the realities of the external world
That readily blooms solely for you
And humbly abides.

That should be the 
Daily Glorious Existence 
Of a human life.

বৃহস্পতিবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

অপহরণ

এই শোনো, হ্যাঁ তোমাকেই বলছি,
অন্য যা খুশি করতে পার,
পরাণ আর হ্যাক করবে না আমার ।

আমি বেশ ভাল ক'রে জানি, 
ব্যক্তিগত নিরাপত্তার
প্রতিটি পাসওয়ার্ড ক্র্যাক করতে শিখে
তুমি কী পরিমাণ বিপদজনক হ্যাকার ।
আচমকা আর সব কাজ ভুলে
শুধু তোমার মুখটি ভেসে উঠবে বারবার -
সে আর একদম চলবে না ।
আরও অনেক দায়িত্ব আছে নেওয়ার ।

তারপরও ফের একটিবার,
যদি আবারও ঘটাও সে অনাচার,
তাহলে,
তেমনটি নতুন করে ঘটে গেলে,
সেদিনই জেনো শেষ সব জেরবার ।
হেসে ফেলব অনবরত ফ্যাক ফ্যাক করে ।

দায় তখন তোমার একার
নির্ঘাৎ, কুটনো-বাটা ফেলে
পড়ি-কি-মরি দৌড়ে এলে
সে পাগলের হাসি সামলাবার ।

অর্বাচীন

সব কথা সোজা মুখের উপরে 
দড়াম করে বলতে নেই ।

একদৌড়ে খাদে নামার 
দারুণ মজার খাজা, গজা,
মিলতে পারে, সুযোগ পেলে
মেঘের ডাকে, হাসিমুখে, 
চন্দ্রবদনী চাইলো যেই ।

উঠতে হবে নিজেকেই ।
সময়ের খেদ এবং স্বেদ 
বীর্যে পোষাবে মানানসই ?
চড়াই যে খাড়া পুরোটাই !
পেরোতে তখন হবেই একা, 
সেই দায়টি মানছো কই ?

বৃক্ষের সাথে 'নদীর যদি' 
আবেগের বেগে 
ঘন ঘন দোলাতে গেলে
হারাতে যে হয় বাড়া ভাতে
শেষ অবধি আপন খেই ।

বিগলিত চিতে
সে হাতছানিতে
মাতাল সাড়ায়
দু-বাহু বাড়ায়ে,
জানলে না আজো,
সর্বক্ষেত্রে ঢলতে নেই ?

Off Side

SEX gives a very temporary 
But trecherous feeling 
Of tremendous fulfillment by pleasure
But, every time, in the long run,
It enhances the greed of snatchers
Followed by frustrations of emptiness.
Body and mind, thus,
Perishes from increased, undue appetite.

While, whenever you give LOVE
In its purest form,
You become fulfilled and enriched
By sheer joy of bliss
From deep inside of your soul.
You turn 
Remarkably luminous and bright.

Consumptions yet confuse.
To distinguish between
Trustworthy and treacherous.
You require little insight.

অমোঘ

মানুষ তো বলিপ্রদত্ত ।
জীবন - সর্বশেষ ও শ্রেষ্ঠ সত্য ।
সে আপন অমোঘ অধিকারে
যার কাছে যেমনটি প্রাপ্য
অবধারিত রূপে নির্দিষ্ট করে ।

তেমন আকুল দাবী
কখনো যদি একটিবার 
যথাস্থানে পৌঁছে যেতে পারে,
মানুষ তো কোন ছাড়
স্রষ্টারও অনধিকার,
প্রাপ্যকে যেচে এসে 
সমর্পিত হতে হয় উপহারে, 
অবশেষে প্রাপকের দ্বারে ।

বুধবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

হৃদয়-মাধুরী

না না, হেথা নয়,
যেথা শরীরী দেনা পাওনা
নিয়ম করে হিসেব চায়
তাপিত ভোগের উজানে,
সে শুধু দিকভ্রান্তের 
আশু সীমা হতে হয় ।

এ পরাবার অন্যখানে,
যে তানে রাধার জ্বলন
বাঁশি হয়ে আজো বাজে 
মীরার কানে,
যেখানে পরান-সুধা
বসুধার মায়া পেরিয়ে
ধরা প'ড়ে অপর পরাণে ।

অতঃপর, আপন বরে
স্বচ্ছতর করতে পারে
অমৃতের শাশ্বত মানে ।
তুমিও কি কখনও আনমনে
পৌঁছে যাও সে আসমানে ?

কে জানে !

অপহরণ

এই শোনো, হ্যাঁ তোমাকেই বলছি,
অন্য যা খুশি করতে পার,
পরাণ আর হ্যাক করবে না আমার ।

আমি বেশ ভাল ক'রে জানি, 
ব্যক্তিগত নিরাপত্তার
প্রতিটি পাসওয়ার্ড ক্র্যাক করতে শিখে
তুমি কী ভীষণ বিপদজনক হ্যাকার ।
আচমকা আর সব কাজ ভুলে
শুধু তোমার মুখটি ভেসে উঠবে বারবার -
সে আর একদম চলবে না ।
আরও অনেক দায়িত্ব আছে নেওয়ার ।

তারপরও ফের একটিবার,
যদি আবারও ঘটাও সে অনাচার,
তাহলে,
তেমনটি নতুন করে ঘটে গেলে,
সেদিনই জেনো শেষ সব জেরবার ।
হেসে ফেলব অনবরত ফ্যাক ফ্যাক করে ।

দায় তখন তোমার একার
নির্ঘাৎ কুটনো-বাটা ফেলে
পড়ি-কি-মরি দৌড়ে এলে
সে পাগলের হাসি সামলাবার ।

শুক্রবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

মাঘের দুপুর

উত্তরের বারান্দায় জমাট বরফ ।
দরজা খুললেই শনশনে হাওয়া
ছুরির মত কেটে বসতে চায় 
গালে, কপালে ।
পা রাখা মাত্র হড়কে যেতে চায় ব'লে
নিশ্চিন্তে দাঁড়ানোও যায় না
আর তারই সাথে মনে পড়ে যায়
জীবন কত বার, কত ভাবে,
প্রতারণা করেছে সুযোগ পেতেই ।
তুমি সেখানে প্রতিবার শোনো 
হাতছানির সে হাড়-হিম-করা শব্দ
নিষ্ঠুর বঞ্চনার ।

দখিনের বারান্দায় 
ছোট বড় অসংখ্য টবে
ফুলের ভারে ঝুলে পড়া বাহারী গাছে
রোজ সকালে, বিকেলে, নিয়ম করে
ভালবাসার চাষে ভরপুর ফলন তোমার ।
সারাদিনের দাবীর ঝরঝরে হাসিকে
আপন সঞ্চয়ে
আশ মিটিয়ে হৃদয়ের আস্তিনে ভরে নাও
এখানে এলেই ।

যে দখিনের বারান্দা 
উষ্ণতাকে বহুগুণে ফিরিয়ে দেয়
নিয়মিতভাবে,
সে বেচারা শুধু বোঝে না 
এ বিচার কিছুতেই -
'যে অকৃতজ্ঞের কাছে প্রাপ্তি 
কেবলই ঘৃণা ও শীতল বঞ্চনা,
সেই একতরফা গ্রহীতা কিছুতেই কেন 
একটুও কম ভালবাসা পায় না !
ভালবাসার কেন যে কিছুতেই
দেনা-পাওনার 
কোনও বরাবর-হিসেবই ধাতে সয় না !'
.

বুধবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

অন্তঃসার

উজ্জ্বল পোষাকের হৈ হৈ ভীড়  ।
উচ্চস্বরের হাসিতে গমগমে ঘর !
শুভেচ্ছার ঝড় ।

অথচ, "সুখের তুঙ্গে" নাটকের
সখের অভিনয়ের শেষে,
ষোলতম বিবাহবার্ষিকীর 
অধিকতর রাতের অধিবেশনে
তারপরে পড়ে নেই 
খুব বেশি গরবের উদযাপন ।

পেট আর তলপেটের ক্ষুধা নিরসন
আর পার্থিব উপহারে ভালবাসার প্রমাণ
এর বেশি আর কিছু পরিণাম
চাইতে শেখেনি এযাবৎ সুখলোভী মন ।

দেওয়ায় কার্পণ্য
হিসেবী মনের আপন গোপন অভিসারে
সংকীর্ণতা খুঁজে পেয়েছে যত,
নিখাদ ভালবাসার গুণে প্রাপ্তির পরিসর 
কমতে থেকেছে ঠিক তত
গুনে গুনে সমানহারে ।
 
যৌনতা দিনে দিনে চলেই গেছে,
যেমন যায়, অগুনতির পথে ।
অথচ, নিঃশব্দ নির্ভরতার বিশ্বস্ত শর্তে,
মাত্র পাঁচমিনিটের একান্তে,
কেবল বুকে জড়িয়ে ধরে রাখার 
সহজলভ্য অথচ উর্বরতম 
প্রেরণার সারটুকু না পেয়ে,
প্রতিরাতে অভুক্ত থেকে যেতে যেতে,
প্রথম দিনের চনমনে সবুজ 
আর সতেজ অনুরাগ
ক্রমশঃ হয়ে গেল ম্যাড়মেড়ে হলুদ
রোজ, যৎসামান্য হারে ।

অলীক কল্পনা-বিলাস
বাস্তবকে রচেছে সূক্ষ অবহেলায় ।
ফলতঃ, আত্মমুখাপেক্ষিতার তীব্র দৈন্যে
"দোষ সবই একা তার" -
উদযাপিত হতে থেকেছে অসংখ্যবার
নিত্য অভিযোগের অফুরন্ত অবসরে ।

পরাণের স্বার্থমুক্ত পরশের 
দৃষ্টিকটু অভাবের ধৃষ্টতায়,
"আগ্রহ, আনন্দ আর গরব"
এই তিনটি অনুভূতির নিরন্তর চর্চার 
স্বতঃস্ফূর্ত উদারতা 
পায়নি ভুলেও ঠাঁই
দাম্পত্যের নিরঙ্কুশ অধিকারে ।

মঙ্গলবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

বোল তোলা

হাত বাড়িয়ে কোলে তুলে নেওয়া
শুরুতে একবার বা বড়জোর দুইবার ।
তারপরে কিছুতেই আর না ।

বিহানের অপ্রতিহত অভিমানে 
শিশুর মত বসে পড়বে রাস্তায় ।
চিৎকার করে কাঁদবে প্রবল আক্ষেপে,
এমনকি, থুতু ছেটাবে সুতীব্র অভিযোগে
আর সাময়িক ঘৃণায় ।

তখনও কোলে নেবে না বুঝে গেলে
বাধ্য উঠে দাঁড়াবে ফের ।
এগোবে এক পা, দুই পা, ক'রে
অনভ্যাসের টলমল পায়ে

আর এভাবেই ক্রমশঃ
চেষ্টার নিয়মিত বিনিয়োগে দৌড়াবে একদিন ।
যত দৌড়াবে তত আরও বড় হবে ।

বৃদ্ধির ক্রমপর্যায়ে
পরিনত উচ্চতাকেও ছোঁওয়া হয়ে গেলে,
কোনও একদিন আনত না হয়ে
চারচোখ মুখোমুখি ছুঁতেই
নতুন ক'রে খুঁজে পাবে আবার কোল,
বড়রা যে নিয়মে, বুকে প্রজাপতি পুষে,
আদরকে আদুল বাদলে ওম দেয় !