মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট, ২০২২

নিলয়

শরীর, অধিকারবোধের অবধারিতে,
আর কিছু হোক বা না হোক,
শেষ অবধি, ঘুরেফিরেই শুতে চায় ।
প্রবৃত্তিরা শুভ পরিনতির অনবলোকনে
পরিনয়ের বাসরে 
উদ্বৃত্ত-রূপে প্রত্যাখ্যাতও হয় ।

প্রত্যাখ্যানের প্রতি আখ্যানে
অহমিকারা যত অধিক প্রকট হয়,
ততই তীব্রতররূপে অপমানিত বোধ করে ।
এরকম যাবতীয় অপমান-বোধ
ফ্যাদা-গন্ধী সমাপ্তি না ছুঁতে পারার
তীব্র হতাশায়
আসক্তির বিজয়োৎসবকেই 
পুনর্বার নির্বাচিত ও নিশ্চিত করে ।

অথচ ভালবাসা অনাবিল হলে
হতেই হবে স্বতঃস্ফূর্ততায় স্বাধীন ।
ধার করে শোধ দেওয়ার ব্যবসা-শর্তে
সে কারও ব্যক্তিগত বস্তু-সম্পত্তি নয় ।
আত্মনির্ভর উত্তরণ-প্রকল্পে
লক্ষ্যকে সুস্থির রাখতে জানলে,
দুতরফেই, কেবল উন্নতির দিশারী,
ভালবাসার পরার্থে 
লাগাম লাগে না জন-ভেদে ।
জল, প্রাবল্যের তোড়ে,
প্রতিবার নদীর সহজিয়াকে খুঁজে পায় ।

সে নদীর দুই পার 
তোমাতে-আমাতে মিলে 
তিলে তিলে গড়ে তোলা ।
বহতা বারিধারা তার মাঝে
অনায়াসে ওঠে নামে
অনুভবের জোয়ার-ভাটায় ।

মাঝের সেতুটি, অবশ্য, প্রতি ক্ষেত্রেই
ভীষণভাবে ব্যক্তিগত ব্যবহারের ।
দৃশ্যমান নয় ব'লে 
নিশ্চিন্তির সে ছায়াবিথিতলে
সহজ মিলন ও বিনিময়ে 
হয়তো তবুও বাধা পড়ে বারেবার !
সোনার সোপান নির্মোক-ভ্রমে ভুলে
অবহেলিত পড়ে রয় ।

বুকের ঘর, বুকে হাত রেখে বল, 
দুয়ার-সম্ভব কি হতে পারে কখনো ?
বস্তুগত না হলে, 
পরাণের অধিক কে আর নির্ভার, নির্ভয় ?
সুন্দরের প্রতি 
এটুকুই দায় ছিল, বোধ হয়, আমাদের ।
মানুষ-ভেদে সত্য পৃথক তো নয় ।