রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

সীমায়িত

রবীন্দ্রনাথের পারা ঋষিতুল্য-রা 
অবধারিত ব্যতিক্রম ।

যে কোন একজন সাহিত্যকর্মীর লেখা
বেশ কিছুদিন ধরে অনুসরণ করলে
বেশ বোঝা যায়
কোন কূপে অসহায়-রূপে আটকে পড়ে 
চক্রাকার আবর্তে
ঘুরপাক খেয়ে চলেছে চিন্তা তার বারংবার ।

কোনওমতে, একটিবার বাইরে বেরিয়ে,
নদী বেয়ে এগিয়ে গিয়ে
সাগরের সন্ধান সে কিছুতেই পাচ্ছে না ।
তার মানে, তার 
এ জনমের সুন্দর-সৃজনের কাজে
হতাশাজনক ইতি এখানেই ।

অভ্যাস-জনিত "আসক্তির বন্ধন কাকে বলে"
"আপন গতানুগতিকতাকে কিরূপে ভাঙতে হয়"
সে বোধ কেবল ঋষিদের সহজিয়া শ্বাস ।
শিল্পীদের, অবশ্য, বিষাদকে মহৎ করলেই চলে ।
প্রতি পরবর্তী বাধায় 
উদ্ধারের সম্পূর্ণ নতুন দিগন্তটি খুঁজে নিতে
গীতায় অর্জ্জুনকে কেন যুদ্ধের আগে
নির্লিপ্তির শিক্ষা গ্রহণ করতেই হয়,
বিদ্বান কবিদের সেকথা বোঝানো চলে না ।

বিপ্লব সার্থক একমাত্র আপন উত্তোরণে

বিপ্লব একাকী অপেক্ষায় থাকে 
মানুষের ব্যক্তিগত উত্তরণের দুয়ারে ।

আপন আসক্তি
আর সুবিধাবাদী স্বার্থদের হারাতে না পেলে
তাকে শিকারীর মত ওৎ পাততে হয় ।
সে খোঁজে পরের প্রতি দোষারোপের
সুচতুর সুযোগ আর
ধূর্ততম গন-শোষণের আবশ্যিক হাতিয়ার রূপে
সাজানো মিছিল আর ফাঁপা জিন্দাবাদ ।
ক্ষমতার রাজনীতি উপকারে লাগেনি কখনো
আন্তর প্রগতিতে তোমার ।

বিপ্লব একাকী অপেক্ষায় থাকে 
মানুষের ব্যক্তিগত উত্তরণের দুয়ারে ।

মধুরিমা

যেভাবে কল-কল ক'রে বয়ে চলে জল
পাহাড়ি ঝর্ণার
ঠিক তেমন ক'রে কথা বলতে শুনেছিলাম
প্রাণোচ্ছল তোমাকে, অন্য কারও সাথে ।

ভাগ্যিস আমার সাথে নয়,
একাগ্র মনযোগের হাতে হাত রেখে
নিখুঁত রেকর্ডিং করতে পেরেছিল তাই
স্মৃতির আগ্রহী নন্দনকানন ।

আজ কখনো তেমন গলা শুনতে পেলে
চমকে তাকাই আর খুঁজি সেই তোমাকে ।
কিছু না পাওয়া, অদ্ভুতভাবে,
বিরলতম সংগ্রহ হয়ে রয়ে যায় মানবজীবনে ।

ভাগ্যিস বলতে আসো না 
"সে তো বহুকাল আগের কথা,
এখন বয়স ছিনিয়ে নিয়েছে অনেকটাই,
যথানিয়মে ।"