প্রেমই সুন্দরতম।
সব রঙের উৎস,
সব রেখার জন্মভূমি।
কোথাও যদি সামান্য প্রতারণা
ছায়ার মতো লেগে থাকে,
তাতে ক্ষতি কী—
আলো তো ছায়া ছাড়াই
চেনা যায় না।
তখন শিল্পী
একটি চাকেই থামে।
ধীরে ধীরে মধু তোলে,
জিভে নয়—
সময়ে।
ফুলের নাম জানে,
ফুলও তাকে চেনে।
প্রেম তখন সাধনা,
শিল্প তখন অপেক্ষা।
কিন্তু দিন যায়।
চাক পাল্টে পাল্টে
মধু খাওয়ার অভ্যাস
জিভকে অধৈর্য করে তোলে।
স্বাদ চাই দ্রুত,
গভীর নয়—
নতুন,
আরও নতুন।
মন তখন
ফুলের দিকে তাকায় না,
রঙের দিকে তাকায়।
একটি চাক শেষ হওয়ার আগেই
আরেকটির ঘ্রাণে
শিল্পীর পা সরে যায়।
প্রেম ভারী লাগে,
দায়ের মতো।
শিল্পী তখন ভাবে—
প্রতারণাতেই শ্রেষ্ঠ রোমাঞ্চ।
কারণ এখানে
ধরা পড়ার ভয় আছে,
দ্বৈত মুখের উত্তাপ আছে,
নিজেকে আয়নায়
চেনা না-চেনার
মাদকতা আছে।
প্রেম না থাকলেও চলে—
যদি কাঁপুনি থাকে,
যদি গোপনতা থাকে,
যদি পাপের ভিতর
একটি উল্লাসী হৃদস্পন্দন
শোনা যায়।
এভাবেই প্রেম
চুপচাপ সরে যায়।
কোনো দরজা ভাঙে না,
কোনো অভিযোগ তোলে না।
সে শুধু
রঙ গুটিয়ে নেয়,
ক্যানভাস ছেড়ে চলে যায়।
আর পাপী রোমাঞ্চ—
সে একা বেঁচে থাকে।
উজ্জ্বল,
চকচকে,
কিন্তু বন্ধ্যা।
তার কোনো স্মৃতি নেই,
কোনো ভবিষ্যৎ নেই—
শুধু বর্তমানের
একটানা চিৎকার।
শেষে শিল্পী
একটি ফাঁকা ক্যানভাসের সামনে দাঁড়ায়।
হাতে রং আছে,
কিন্তু কেন্দ্র নেই।
সে তখন বুঝতে পারে—
প্রেম হারালে
শিল্প থাকে,
কিন্তু সৃষ্টি থাকে না।
আর রোমাঞ্চ—
পাপী হলেও—
সে একাই বাঁচে,
নিজেরই প্রতিধ্বনি হয়ে।