সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

অগভীরের অভিধান

যার আস্বাদন বেশি,
তার ক্ষুধা স্থায়ী।
এক মুখে সে আকাশ চায়,
পরের মুখেই ভুলে যায়
কি খাচ্ছিল।
সে বদলায় থালা,
বদলায় জিহ্বা,
বদলায় খেলা,
কিন্তু কখনো থামতে চায় না।

গভীরতা
সবার জন্য খোলা নয়।
এটি উত্তরাধিকারও নয়—
একটি ভার,
যা বহন করতে হয়
শ্রদ্ধাসহকারে।

অগভীর শব্দ করে।
ঢেউ তোলে।
নিজের প্রতিধ্বনিকে
সমুদ্র ভাবে।
বধিরতা
তার শ্রেষ্ঠ অর্জন।
সে শোনে না—
কারণ শুনলে
থামতে হয়।

যারা গভীরে নামে
তারা বৈচিত্র্যভূক নয়।
একটি স্বাদ
তাদের জন্য
পর্যাপ্ত।
তারা জানে—
অধিকতরতা
শূন্যতার আরেক নাম।

অগভীর শেষে দাঁড়ায়
নিজের ছায়ার সামনে—
পেট ভরা,
অথচ অর্থ শূন্য।

আর গভীরতা?

সে নীরব।
কারণ সত্য
চিৎকার করে না।

একমাত্র প্রতিপক্ষ

জীবন আসে ঢাকঢোল ছাড়াই—
এক টুকরো বিরল ধাতু
হঠাৎ হাতের তালুতে পড়ে,
এক মুহূর্ত উষ্ণ,
ইতিমধ্যেই শীতল হতে থাকা।

এ তার বিরলতার ঘোষণা দেয় না।
সে কেবল ছোট হতে থাকে।
এটা সংরক্ষণের মাঠ নয়।
এটা এক কর্মশালা।
এখানে সবকিছুই ধার দেওয়ার জন্য—
ব্যর্থতার সঙ্গে ঘষে তোলা মনোযোগ,
সন্দেহের পাথরে শান দেওয়া উদ্দেশ্য,
যতক্ষণ না তা শিস দিতে শেখে।

সময় তোমার সঙ্গে দৌড়ায় না।
সময় তাকিয়ে থাকে।
হাত ভাঁজ করে
দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে,
কৌতূহলী—
তুমি কি বুঝবে
এর কতটুকুই বা অনন্ত।

শুরুর রেখায় অপেক্ষা করছে
একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী—
গতকাল, আপন গতকাল, 
তোমারই মুখ পরে,
তোমার অজুহাতগুলোকে
পদকের মতো ঝুলিয়ে,
অভ্যাস থেকে ধার নেওয়া
এক আত্মবিশ্বাসে শ্বাস নিতে নিতে।
তাকে শব্দ দিয়ে হারানো যায় না।
তাকে হারাতে হয়
অদৃশ্য, সূক্ষ্ম গতিতে—
আরও পরিষ্কার একটি সিদ্ধান্ত,
আরও সাহসী একটি শুরু,
আর পুনরাবৃত্তি না করার অঙ্গীকার
যা আর তোমার গতিকে বাড়ায় না।

গতি মানে তাড়াহুড়ো নয়।
গতি মানে স্বচ্ছতা—
ক্ষমা না চেয়েই চলতে থাকা।
ভয়কে মনে পড়ার আগেই
লক্ষ্য কোথায় তা জেনে নেওয়া।
প্রতিদিন তুমি এক পা এগোও,
আর গতকাল একটু একটু করে গলে যায়—
লজ্জায় নয়,
স্বস্তিতে।

তার জেতার কথা ছিল না কখনোই।
তার কাজ ছিল অতিক্রমিত হওয়া।
আর যখন রাত নামে,
তুমি ট্রফি উদ্‌যাপন করো না।
তুমি উচ্চতা উদ্‌যাপন করো।
নিঃশব্দ সেই অলৌকিক মুহূর্তটিকে চিহ্নিত করো
যে তুমি উঠেছ
কেউ তুলে না ধরলেও।

এইভাবে জীবন হয়ে ওঠে
গোপন উৎসবের এক আত্মবিশ্বাসী মিছিল—
দর্শকহীন—
শুধু এক অবিচল উচ্ছ্বাস,
এমন এক স্বত্বার
যে আর থাকতে চায় না সেই সীমায়
সে যা ইতিমধ্যেই ছিল।