মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০১৫

অভিজ্ঞান...October 25,14



তুরীয় আনন্দের স্বাদ বেশি বার বোধহয় পাওয়া হয় না মানুষের !

আমার বয়স তখন তিন, কিন্তু স্মৃতি আজও ঝকঝকে ! বাবা চাকরী-সূত্রে আসানসোলে থাকতেন আমাদের সাথে এক শীতের রবিবারে হঠাৎ কাকভোরে উঠে আমাদের নিয়ে অতিব্যস্ত হয়ে ফার্স্ট বাসে পৌঁছালেন মাইথন ড্যাম বাস থেকে নেমে ভিড় ঠেলে কিছুটা সামনে এগোতেই প্রকৃতি মেলল তার অপরূপ রূপের ডালি অভিঘাত সহ্য হয়নি প্রথমে অবাক দাঁড়িয়ে গেছি, বাবা হাত ধরে দিলেন টান, বললেন - " এবার চল " ছাড়িয়ে নিলাম হাত, ডান হাতে ধরলাম বাবার তর্জনী আর বাঁ হাতে মার, এবার আমার তিন বছর বয়সের শরীরে যেটুকু শক্তি ধরে তাই দিয়ে টানতে থাকলাম সামনের দিকে একটু পরের দৃশ্য - হাসিতে ভেঙে পড়তে পড়তে মাতাপিতা আপ্রাণ দৌড়চ্ছেন সন্তানকে যোগ্য সঙ্গত দিতে আর আমার অন্তরে সম্পূর্ণ অচেনা অথচ গভীর তৃপ্তির এক অপার্থিব অনুভূতি

কয়েকদিন আগে একটা MESSAGE এলো - "গান আর কবিতার আড্ডা আমার বাসায়, পারলে আসবেন " "বড় বড় লোকদের বড় বড় ব্যাপার - ওর মধ্যে না যাওয়াই ভাল" - জাতীয় একটা সাবধান-বানীও ভাসছিল হাওয়ায় ! কিন্তু আমার তো 'যেথায় দেখিবে ছাই' - স্বভাব, পৌঁছে ঠিকই গেলাম ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় আশা ছিল এক কবিকে দেখার, পেলাম এক জীবন-শিল্পীকে শিল্পবোধের সাথে মাত্রাবোধের দুর্লভ সমন্বয়ে কিভাবে পঁচিশ থেকে পঞ্চান্নর সদ্য আলাপী মানুষের হৃদয়কে এক-সূত্রে গেঁথে ক্রমশ আরও কাছে টানতে পারে শিল্পীর সেই অবাক যাদু উপভোগ করছিলাম নিজেও হারিয়ে যেতে যেতে ! কবিতা যদিও এককেই ছিল, গান কিন্তু সকালে এককে শুরু হয়ে দুপুরে দ্বৈত আর বিকালে সমবেত রূপ ধারণ করল আনন্দ ততক্ষণে পাল্টে গেছে শৈশবোচিত উল্লাসে যে যেটুকু পারে অংশীদার হতে চাইছে বাঁধনহারা উদযাপনে এমন সময় সমবেত স্বতঃস্ফূর্ততা ডেকে আনল সেই মুহূর্ত সবাই দাঁড়িয়ে পড়েছে আর নারী পুরুষ নির্বিশেষে একে অন্যের দিকে তাকিয়ে হাস্যোজ্জ্বল মুখে গাইছে " কে প্রথম কাছে এসেছি? কে প্রথম চেয়ে দেখেছি? কিছুতেই পাইনা ভেবে কে প্রথম ভালবেসেছি - তুমি না আমি ! "

চশমার ঝাপসা কাঁচের ফাঁক দিয়ে বিস্মিত আমি দেখলাম আবারও দৌড়েছে শিশু অর্ধশতাব্দী পরে, মা বাবার তর্জনী আঁকড়ে ধরে !

ফুলের বিনিময়ে হাসি আর ভালোবাসার বিনিময়ে ভালোবাসা দিলে ঋণ শোধ হয় জানি, কিন্তু তুরীয় আনন্দের ঋণ শোধ করার উপায় দুর্ভাগ্যবশত: জানা নেই আমার হয়তো জানবও না শেষ নিশ্বাসের আগে ! মন কি মুক্তি পাবে হাতড়ে বেড়ানো থেকে বাকি জীবন !
--------------------------------------------------------------------
.

কোন মন্তব্য নেই: