মুখোমুখি দেখা হল যেই
সাগর ডাকল আরও কাছে ।
পেরিয়ে যতটা ঢেউ অবশেষে একা হওয়া যায়
ততটুকু এগোতেই বলল " বল " ।
শুধলাম " কাকে ভালোবাসো ? "
সে বলল " ফিরাই না কাউকে বন্ধু !
ধরাকে যে নিরন্তর স্নান চুম্বন -
সেও শুদ্ধ ভালোবাসা ।
অথচ মেঘ আসে কৃতজ্ঞ প্রণয়ে
ভিজাতে আমায়,
তবে সেও ক্ষণিকেরই তরে,
আলো হতে অন্ধকারে ডেকে -
আসে, হাসে, তুমুল ভালোবাসে,
বর্জ্য-পথে আবার হারিয়ে যায় ।
বরং নিয়মিত চাঁদ মিলনে বিরহে,
সুখ আর দুঃখের অচেতক গতানুগতিকতায়
ফিরে ফিরে আসে তমসুকে
পূর্ণিমা অমাবস্যায় ।
তবে জেনো পায় না এরা একান্ত আমাকে ।
উপরিতলে চিরঅসহায়
বন্ধ্যা বৈচিত্র্য মোহে আর
পরস্মৈপদী অহং-দোলাচলে
ঘুরে ফিরে নিজেকে হারায় !
মাঝে পদ্ম হয়তো বা ফোটে পাঁকে , - বলো
সাগরের কীইবা আসে যায়! "
" অবশেষে কার থাক তুমি ? "
শুনি স্মিতহাস্যে মন্ত্রোচ্চারণ
"ব্যাপ্তি-রহস্য-বিমুখ গভীরতা-প্রত্যয়ী
অরুণ নাম তার ।
নিয়ত আনন্দ উজ্জ্বল, স্বচ্ছ বিবর্তক,
চির-বিশ্বস্ত বরাভয়, - পায় সে আমাকে
স্থির সমর্পণে,
নিস্তরঙ্গে বিজন-গভীরে !"
ভাবতে চেয়েছি যেই - 'ছিঁড়ি যদি মায়া
নিবাত দুশ্চরের কামনায় ....',
পলকে দেখা দেন শ্বেত-শ্মশ্রু
দীর্ঘদেহী গীতাঞ্জলী হাতে,
চির নিবর্তক নির্ঘোষ সাথে -
" গভীরতা খুঁজতে বাইরে কেন যে
ওরে বিবশ বামন,
অনাবিল আনন্দ-যজ্ঞে জীবনের
হায় তোর এত উচাটন !
আয় ক্লান্ত আপন অন্তরে ফিরে !
অনাদি উচ্চতা হেথা
ধরা দিতে
রয়েছে নীরব অপেক্ষায় ! "
----------------------
.

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন