শনিবার, ১২ জুন, ২০২১

প্যারাসাইট

 "কবিতাকে শরীর দেব" -

 

শালা, এই তিনটি শব্দ উচ্চারণ করা মাত্রই

আমার বাম দিকে আর ডান দিকে

ওমনি খাড়া হয়ে গেল যুযুধান দুই পক্ষ

আকস্মিক বাঙালিয়ানার প্রতিযোগিতায়

ঘেউ ঘেউ আস্ফালনে - 

তুমুল বাক-বিতণ্ডা সহযোগে ৷


বাম-পক্ষ বললো - "ও যে রাজি হলো শরীর দিতে,

তা, কবিতা কবে চাইলো নির্লজ্জের মত 

ওরই কাছে বহুমূল্য শরীর ?

কী প্রমাণ আছে তেমন অঙ্গ ওরই একার আছে, 

দেখাতে হবে আগে ৷"


ডান-পক্ষ বললো "ও কত বড় কবি ?

কটা পুরষ্কার রেখেছে বগলে, যে ঘটা করে

ঘোষণা দিতে হবে - "কবিতাকে অবয়ব দেওয়ার" ?

কী এমন দৃষ্টান্তমূলক শরীর ও দিয়েছে

অতীতে কবিতায় ?


দুপক্ষ অতঃপর একযোগে চেঁচিয়ে উঠলো -

"একজনের কেন হবে এত একতরফা বাড় ?

সমবন্টনে প্রতিভার কী মূল্য আছে ?"


ঝগড়া, বাঙালীর নিয়মে, 

দ্রুত হাতাহাতির ঠিক আগের স্তরে পৌঁছে যেতেই,

'লড়াই যথারীতি জমে গেছে' - এ বিষয়ে

পূর্ণ নিশ্চিত হয়ে, 

টুক করে, ছোট, বড়, মেজ,

সকল পরমুখাপেক্ষী বগলের তল দিয়ে গলে,

আমি আর কবিতা 

আত্মমুখাপেক্ষিতায় তুমুল আস্থা রেখে,

হাসতে হাসতে, নাচতে নাচতে, 

সটান পাগার পার ৷

কোন মন্তব্য নেই: