এ পৃথিবীতে কে কত ভাগ ভালবাসে আর কত ভাগ নিখাদ শুতে চায়, সে তথ্য ছেঁকে আলাদা করে বিছিয়ে দিলে বেশ সমস্যায় পড়ে যেতে পারে অধিকাংশ মানুষ ৷ দেনা-পাওনার হিসেব ? আর সেই নিয়ে মাঝে মাঝেই একটানা ঘেউ ঘেউ ও কেঁই কেঁই, অথবা দীর্ঘশ্বাস যোগে, সম্পর্কটি অতৃপ্তিতে অতীব বিষাদময় ? এটাকে ভালবাসা বলে ?
না, এ হচ্ছে মুখোশ অথবা নিছক মধ্যচিত্ততা ! ভালবাসার উদ্দেশ্য কোনও ক্ষুদ্র স্বার্থ কদাপি নয় ৷ কোনও প্রকার ধান্দাবাজি লুকানো না থাকলে, কাউকে কৃতার্থ করবে বলে ভালবাসে না মানুষ ৷
যে, যাকে ভালবাসে, তাকে আপন শ্রদ্ধার উৎকর্ষে, আত্মবিকাশের একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে মাত্র ৷ তার বেশি আর কিছু নয় ৷
মানুষ ভালবাসে, ঐশ্বরিক ব্যপ্তি ও মহানুভবতাকে আপন হৃদয়ের স্বতঃস্ফূর্তে সরাসরি চুটিয়ে উপভোগ করতে ৷ শতকরা একশো ভাগ ব্যক্তিগত স্বার্থে, অবচেতনে আপন জ্যোতির্বলয়ে আকস্মিক প্রসারণ-প্রবণতা অনুধাবন করে ৷
এক্ষেত্রে, যে ভালবাসছে সে ই স্পষ্ট প্রকৃষ্ট ৷ যাকে ভালবাসছে, তার গুণ-বিচার, পরিপ্রেক্ষিতের স্বার্থে, আদৌ গুরুত্বপূর্ণ নয় ৷ প্রাপকের যোগ্যতা অথবা যৌক্তিকতা বরং অপ্রাসঙ্গিকতায় ঝাপসা হতে পেলে ভালবাসার সত্যরূপটি স্বচ্ছতর হওয়ার অধিক সুযোগ পায় ৷
ভালবাসা, এইকারণে ঋণগ্রস্ত হয় না অথবা করে না কখনও ৷ যে ভালবাসা পেল, তারও কৃতজ্ঞতার অবকাশ থাকে না, কারণ ভালবাসার বিচরণ কৃতজ্ঞতার গোচারণ অপেক্ষা অনেকটা ঊর্ধ্বস্তরে !
ভালবাসলে, অনাবিল শ্রদ্ধা, আনন্দময় আস্থার সুবাসে, আপন আত্মপ্রসারের সাথে, বিশ্বস্ত যোগসূত্রটি নিঃশব্দে গড়ে নিতে পারে ৷ যে ভালবাসে, সে আত্মিক সম্পদে নিজেকে ছাপিয়ে যেতে শুরু করে বন্যার বন্যতায় ৷
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন