"তুমি লিখছো" - এটা তোমার কাছে
ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও
সময়ের কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয় !
"আমি" একটি অহমিকার অন্ধত্ব-পরিচয়
যে কুকুরের লেজের মত
ঘুরে ফিরেই, প্রসঙ্গে,
নিজেকে মূল প্রতিপাদ্য করে
নিছক কূপমণ্ডুকতার জানান দেয় ৷
"কতজনা আজ
কত প্রকারে বাহবা দিল তোমাকে" -
সেটাও একই হারে বর্জ্য, প্রাসঙ্গিক নয় !
"তোমার দৃষ্টি জীবনের অকাট্য বাস্তবে
কতদূর গভীর অবধি যায়" -
এটা কিন্তু অবশ্যম্ভাবী রূপে গুরুত্বপূর্ণ,
কারণ অনুভবের শিকড় যত গভীরে যাবে
বিরচিত লীপিমালা
কালের ঝড়কে তত সহজে সয়ে নিয়ে
শেষ অবধি টিকে যাবে ৷
এই কারণেই রবি ঠাকুর
বর্তমানের অনেক যশস্বী অপেক্ষা
আজও অধিকতর প্রাসঙ্গিক ৷
জীবনের কেবল উপরতলে
কল্পনার এক্কা-দোক্কা খেলায়
যতই মেধার পরিচয় রাখো না কেন,
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন কর -
"সময় কি তার বুকের অন্দরমহলে
তোমাকে আদপে জড়াবে,
নাকি, কেবল উপরিতল-চর্চা
সামুদ্রিক ফেনার লঘুত্বে
আপন আত্মঘাতী প্রবণতায়
এক বা বড়জোর দুই দশকেই
নিজেকে নিশ্চিহ্ন করা
অবধারিত রূপে সুসম্পন্ন করাবে ?
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন