প্রেম বলতে আমরা সাধারণত যে জৈবিক-প্রেম বুঝি, শরীর-জনিত লাভ-লোকসানের বহু-বিচিত্র হিসেবের পরিসর অবধি তার কল্পনা-খচিত আবেগের চুড়ান্ত দৌড় ! তার বাইরে সে অচেতন ও অচল ।
এই জৈবিক-প্রেম, পরমুখাপেক্ষা দোষে দুষিত হওয়ার কারণে, প্রতিটি অভীষ্ট লাভের পরমুহূর্তেই অধিকতর অশান্ত ও অতৃপ্ত হতে থাকে এবং অধিকার-বোধের তুরন্ত বাড়বাড়ন্তে, সাময়িক-তৃপ্তিদায়ক মানুষটিকে, চিরতরে ক্রীতদাসে পরিনত করার বহুবিধ পন্থা খুঁজে খুঁজে মরতে থাকে ! তাই জৈব-প্রেমের জগতে কেবলই একতরফা অভাব, তৃষ্ণা, হতাশা ও বিষাদের গল্প, এত ক্ষুদ্র পরিসরে স্থায়ী তৃপ্তির আখ্যানের সফল রচনা অবাস্তব ও অসম্ভব ব'লে ।
প্রকৃতপক্ষে, প্রতিটি জৈবাসক্ত প্রেম, ব্যক্তি-বস্তুর পার্থিব বাস্তবের অদূর সীমানায় অপার্থিব আনন্দকে ব্যর্থ খুঁজে মরে - আপন আসক্তি-দোষে, দীর্ঘ-দুর্ভোগের অভ্যস্ত অভিশাপে ।
লক্ষ্যটি কোনও মানুষ হোক অথবা না হোক, শুদ্ধ ভালবাসা - চিরন্তন স্বয়ংসিদ্ধা, আত্ম-উদ্ভাসের অফুরন্ত স্বাধীনতায় ! তার মুক্ত স্বভাবে প্রাণীজগতের চোষা-চাটা-ঘষার জৈবিক আঠায় আটকে পড়ার প্রয়োজন পড়ে না ব'লে, সে অধিকতম ক্ষেত্রে, ব্যাঙের কূপ হতে নিরাপদ দূরত্ব বজায়ে রেখে, উন্মীলিত-চেতন ও সদাহাস্যোজ্জ্বল রইতে পারে । ভালবাসা, মূলতঃ সেই জগতের বাসিন্দা, যে জগতে ব্যক্তি-প্রেম ঈশ্বর-প্রেমের প্রায় নৈর্ব্যক্তিক হতে পারে ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন