বুধবার, ১৯ মে, ২০২১

কারা করবো জয় ?

তিনি চেয়েছিলেন

সমাজে অবশিষ্ট রইবে না

প্রতিভার এমন কোনও উচ্চশৃঙ্গ পর্বত

যার শুভ্র উচ্চতার পরিপ্রেক্ষিৎ হতে 

তত্ত্বের অন্তঃসারশূন্যতাটি

সহজেই প্রতিভাত হতে পারে !

প্রতিভামাত্রের জন্য তাই 

ক্ষমতার পরবর্তী আদেশ ছিল -

"হয় অনুগমন নতুবা মরণ" ৷


তত্ত্বটি ঠিক কি ছিল ?


তত্ত্বটি হলো - 

পর্বত, সমতলভূমি আর সাগরের সমন্বয়

একা প্রকৃতিতে থাকলে, থাক বরং,

মানবসমাজ কেবল সর্বহারা শ্রমিক ও কৃষকদের

সমতলভূমিতে গঠিত হতে হবে ৷

পর্বত ও সমুদ্রের আদৌ কোনও প্রয়োজন নেই ৷


সেইমত চললো ক্ষমতার বুলডোজার ৷

ফলে যা হবার তাই হলো !


নতুন প্রতিভাদের অঙ্কুরোদগমের পরমুহূর্তে

তাদের পঙ্গু-করণ নিয়মিত হলো 

বুলির আগ্রাসনে, 

পোষ্য শেফার্ডের সীমিত শিক্ষায় ৷

পাহাড়দের ভেঙে ভেঙে

ভরাট করা হলো সমতলের গর্ত ও খাঁড়ি ৷


উচ্চতার পার্থক্য বাধ্য হারিয়ে গেলে,

ঝাঁপিয়ে পড়ে আর না বইতে পেয়ে, 

প্রথমেই যাকে স্থবির হতে হলো, তার নাম - জল ৷


নদীরা শুকালো একটু একটু করে !

সমাজের যত শস্য-শ্যামলা উর্বর জমিন 

আর তার সবুজ সম্ভাবনারা

শুদ্ধ প্রাকৃতিক জলের আস্বাদন না পেতে পেতে

ক্রমশঃ রূপান্তরিত হলো 

ম্যাড়ম্যাড়ে হলুদ মরুভূমিতে ৷


ইতিহাস আজও বলে - কোনও এক কালে

সে সব দেশের গর্বিত ফলনে ছিল

টলস্টয়, সোলঝেনিৎসিন, রবীন্দ্রনাথ 

অথবা এই সেদিনের সত্যজিৎ রায় ৷


তার ধূর্ত শব্দ-সম্মোহনের জাদুর প্রভাবে

আজও ফেঁসে বসে আছ তুমি ৷

বাকি দুনিয়াও ছুঁড়ে ফেলে দিলে

আপন পঙ্গু সন্তানকে, এ প্রজন্মের নামে তাই 

ধিক্কার দাও, হে মহান বিপ্লবী ?

আজও, আপন বিবেকের মুখোমুখি না হয়ে, 

বিপ্লবের নামে,

বন্ধ্যাত্ব নতুন করে বাড়ানোর স্বপ্ন দেখতে চাও ?

কোন মন্তব্য নেই: