মঙ্গলবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৩

স্থায়ী ও অস্থায়ী

প্রকৃতি বিবশ করে । মানুষের মন তাই ভালবাসলেই অপর মানুষটিকে আপন শরীরের অধিকারে চায় । একবার, দুইবার, তিনবার, বা আরও বেশি পেলে, তারপরে খেয়াল হয় - "মানুষটিকে পুরোটা পাওয়া হলো না তো । শরীরে পাওয়ার পরেও বেশিরভাগটাই বাকি রয়ে গেছে ।পুরোটা আছেই, তবে অন্য কোথাও, অন্য কোনও ভাবে ।"

যারা পেল না শরীরে, তারা বাধ্য হয়ে, মনের আশু সীমা পেরিয়ে, ডুব দেয় পরাণের অনন্ত গভীরে । অধৈর্য যারা, তারা অল্প একটু খুঁজেই, হাঁপিয়ে উঠে আশা ত্যাগ ক'রে । "ঠকে গেলাম" ব'লে বিলাপ করে অথবা গালাগালি দেয় । যাদের আত্মবিশ্বাস হার মানতে রাজি না তারপরেও, তাদের অন্তর-কলস নিঃশব্দে ভরতে থাকে । বাইরে দেখা যায় না কিছু । তবে, শেষ রইতে হয় প্রতিটি প্রয়াসে । 

রাধা-মন এভাবে, একটু একটু করে, মীরার পরাণে নিজেকে পাল্টে নেয় । পার্থিব জীবনের নিত্য-অনিত্যের পরেও জীবনের অপর এক উজ্জ্বলতর ও স্থায়ী অর্থ প্রতিভাত হতে পারে অন্তরে । সুখের পথে রওনা দিয়েছিল যারা, তারা যদিও শেষ অবধি গোহারা হারে অশান্তি ও প্রেমহীনতার দ্বারে, তাদেরই মধ্যে বিরল কিছু আত্মবিশ্বাস আপন বিচক্ষণতায়, সঠিক সময়ে পথ পাল্টে নিয়ে আলোকিত আনন্দের বিরল উৎসটিকে অবাধ স্বাধীনতায় নিজেতে খুঁজে পায় । এই সাক্ষাৎকারটিই মানবজীবনে একমাত্র শান্তি ও চির-প্রেমময় ।

অধিকাংশ মানুষই বোঝে না তারপরেও - সুখ সর্বদা সাময়িক, আনন্দের মত চিরন্তন ও প্রাণময় হতে পারার যোগ্যতা ও অধিকার তার নেই ।

কোন মন্তব্য নেই: