বিশ্বাস আর যুক্তিবাদের হামলে-পড়া, শিশুসুলভ, কামড়াকামড়ির স্তরটিকে পিছনে, অনেকটা দূরে ফেলে এলে, তারপরেও আপামর অনুভবে যে গভীরতার জগৎ টি প্রকাশিত থাকতে পারে - তিনি নিঃসন্দেহে রবীন্দ্রনাথ ।
সত্যের বিভিন্ন স্তর হতে হয় ।
যেমন, 'একটি বীজকে জমিতে রোপন করে, তার উপরে নিয়মিত জল দিলে, একদিন সেখানে একটি উদ্ভিদ-জন্মের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়' । এই বোধটি একটি সত্য, যা বাস্তব জগতের একটি নিয়মকে প্রতিভাত করে ।
ঠিক তেমনই, 'যে কোনও মানুষ, আপন চরিত্রে আজ যদি একটি নূতন সুঅভ্যাসের বীজ রোপন করে, তবে, কালে কালে, সে সেই সুঅভ্যাসটির কারণে, কিছু-না-কিছু সুফল সে অর্জন করবেই' । এটি অপর একটি বাস্তব জগতের নিয়ম, যা সমহারে সত্য, অথচ পার্থক্যটি লক্ষণীয়, যে - এই দুটি সত্যের স্তর কিন্তু এক নয়, বরং ভিন্ন ।
আমাদের পার্থিব জগতের নিয়মগুলি এরূপে বহুমাত্রিক এবং অসংখ্য । এই অফুরাণ নিয়ম তথা সত্যগুলি যার যত অধিক স্বচ্ছতায় উপলব্ধ ও ধার্য, সে তার আপন জীবনটিকে তত বেশি সহজে সার্থকতার অভিমুখে পরিচালিত করতে পারে ।
এবার একটু মানবিক মনস্তত্ত্বের দিকে দৃষ্টি ফেরালে, এটি পরিলক্ষিত হয় যে, অধ্যয়নের প্রতিযোগিতায়, যে ছাত্রটির শ্রদ্ধাবোধ ও বিনয় যত অধিক, শিক্ষাক্ষেত্রে তার অগ্রগতির হার তত বেশি ।
তাহলে পরিস্হিতিটি এরূপ দাঁড়ালো, যে, বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের জগৎ এর নিয়ত পারস্পরিক দ্বন্দ্বের নিকুচি করে, জীবনের অবধারিত নিয়মে, সত্যের এই অফুরন্ত ভাণ্ডারের প্রতি, প্রতিটি মানুষের মনস্তত্ত্বে শ্রদ্ধা ও বিনয়ের অভ্যাস অতি-আবশ্যক, - আপন জীবনে সুন্দরতর পরিনতির দ্রুততরতার স্বার্থে ।
এটুকু বোধে এলে, তারপরে পৌত্তলিকতা, তথা, সর্বপ্রকারের অন্ধ-ধর্মবিশ্বাস ও কুসংস্কারের বিরোধী অথচ নিগূঢ়-রূপে সমর্পণ-সিদ্ধ মহামানব রবীন্দ্রনাথের বিশালতা ও মহানতার অমৃত-স্বাদ আস্বাদন করতে আর তো অসুবিধা থাকার কথা নয় আমাদের । তাই না ?
.
Ranjini Mukhopadhyay
হাত ধরে পৌঁছে দিলেন তার কাছে, যাকে হামেশাই বেখেয়ালে হারিয়ে ফেলে, হারিয়ে যাই নিজে, ভুল ঠিকানায় ।
কৃতজ্ঞতা জানানোর পরিভাষায় যথারীতি টান পড়ছে বড় । দয়া করে ক্ষমা করে দেবেন । সুমঙ্গল পাশে থাকুক আপনার অহরহ, - এই কামনা করি ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন