গতকাল এক কবি-বন্ধুর একটি চার লাইনের পোষ্ট মাথার পোকাটা নাড়িয়ে দিল ।
কবিতার কি কোনও লক্ষ্য বা গন্তব্য থাকতে পারে ? কবিতাকে যত ভাবে বিশ্লেষণ করা যায় তার মধ্যে এ ও কি এক উপায় হতে পারে ? রাত থেকে এই প্রশ্নটাই ঘুরছিল মাথায় ! 'গন্তব্য' - এই একটিমাত্র শব্দ দিয়ে SCAN করে কি বলে দেওয়া যায় কোনও একটি রচনা নিছক শিল্পকর্ম থেকে জীবনবোধের সাহিত্যে উত্তীর্ণ হতে পেরেছে কি না ? সাহিত্যের বিপুল জগতে আমার মত নেহাতই অযোগ্য ও অনভিজ্ঞ মানুষের পক্ষে এ এক অতীব দুঃসাহস দেখানো হয় - এ বিষয়ে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই
।
তবে সমালোচনা - তা যদি বিরূপও হয়, মানুষকে শেখার প্রভূত সুযোগ দেয়, - এই আশাতেই এই অধম চাষা হতে প্রয়াসী, - এই আর কি !
ফুলের গন্তব্য ? ফুটে ওঠা, অতঃপর সুবাসে টেনে এনে মধু ভরে ফেরত পাঠানো ! ক্যানভাসের গন্তব্য ? ছবি হয়ে ওঠা ! পাখির গন্তব্য ? আকাশের অনন্ত এবং অবশ্যই কূজনে প্রাণের অনুরণন !
এবার একটি অতি সাম্প্রতিক লেখাকে নেওয়া যাক !
সকাল
সুজন ভট্টাচার্য
সুজন ভট্টাচার্য
একটা সকালকে আদর করতে করতে
করতে করতে
মাঠগুলো কখন যেন বুড়ি হয়ে গেল |
তাদের বলিরেখায় লেখা হল
বসন্তের বিপর্যস্ত কথা ,
শেষরাতে জীবিত কাকটির ডানায়
নেমে আসা আকস্মিক শীত |
করতে করতে
মাঠগুলো কখন যেন বুড়ি হয়ে গেল |
তাদের বলিরেখায় লেখা হল
বসন্তের বিপর্যস্ত কথা ,
শেষরাতে জীবিত কাকটির ডানায়
নেমে আসা আকস্মিক শীত |
মাঠের পায়ের নিচেই ছিল
জলের ঠিকানা -
নীল-চোখ মাছদের বাৎসল্য ভাষা |
কুয়াশার মিহি গামছাতে তারা
নির্বিবাদে মুছে নিত
অর্জিত ক্লেদ , দুপুরের ছেঁড়া খাম |
তাদের যেহেতু কোনও পথচলা নেই
তারা তাই নীরবেই চিনে নিত
গোষ্পদ-ছাপ -
বাথানের উর্বর ঠিকানা ।
জলের ঠিকানা -
নীল-চোখ মাছদের বাৎসল্য ভাষা |
কুয়াশার মিহি গামছাতে তারা
নির্বিবাদে মুছে নিত
অর্জিত ক্লেদ , দুপুরের ছেঁড়া খাম |
তাদের যেহেতু কোনও পথচলা নেই
তারা তাই নীরবেই চিনে নিত
গোষ্পদ-ছাপ -
বাথানের উর্বর ঠিকানা ।
মাঠগুলো বুড়ি হল বলে
সকালটা পেকে ওঠার আগেই
বন্দরে ভিড় জমে ,
মানুষের কেনাকাটা ক্রমাগত লাইন দেয়
কখনো সর্পিল , কখনো বা গোল |
ডিঙিগুলো হয়তো বাঁধাই ছিল
আদিম জন্মের কোনও
ঢেউ-ঢেউ স্মৃতিকথা নিয়ে |
রাতের বাজার সেরে
চাঁদটাও ঝুপ করে নেমে যায়
তাদের দাঁড়ের সাথে
শেষকথা বলে |
সকালটা পেকে ওঠার আগেই
বন্দরে ভিড় জমে ,
মানুষের কেনাকাটা ক্রমাগত লাইন দেয়
কখনো সর্পিল , কখনো বা গোল |
ডিঙিগুলো হয়তো বাঁধাই ছিল
আদিম জন্মের কোনও
ঢেউ-ঢেউ স্মৃতিকথা নিয়ে |
রাতের বাজার সেরে
চাঁদটাও ঝুপ করে নেমে যায়
তাদের দাঁড়ের সাথে
শেষকথা বলে |
মাঠগুলো বুড়ি হল বলে
যাবতীয় সতর্ক গাছ
পায়ের শিকড়ে লিখে ফেলে
বকেয়া হিসাব , আলসেমি যত |
তাদের গন্ধ এলে
মৌতাতে আজীবন ভালো
শিকারি নেশার মতো
স্বপ্নের আবাদি চয়ন ।
পাতায় খাবার ফলে -
শরীরের ঠিকাদারি চেনা ;
অমোঘ ব্যথার মতো
স্বপ্নেও গাজোয়ারি খেলে
রঙিন পতঙ্গ যত ,
লেজকাটা ঘুড়িদের বাহারি বিলাপ ।
যাবতীয় সতর্ক গাছ
পায়ের শিকড়ে লিখে ফেলে
বকেয়া হিসাব , আলসেমি যত |
তাদের গন্ধ এলে
মৌতাতে আজীবন ভালো
শিকারি নেশার মতো
স্বপ্নের আবাদি চয়ন ।
পাতায় খাবার ফলে -
শরীরের ঠিকাদারি চেনা ;
অমোঘ ব্যথার মতো
স্বপ্নেও গাজোয়ারি খেলে
রঙিন পতঙ্গ যত ,
লেজকাটা ঘুড়িদের বাহারি বিলাপ ।
সকাল আদর চায়
এখনো এক
দুধ- সাদা বিড়ালের
গভীর লেজের মতো
বিশ্বাসী ওমে ...
এখনো এক
দুধ- সাদা বিড়ালের
গভীর লেজের মতো
বিশ্বাসী ওমে ...
গন্তব্যকে খুঁজতে গেলে পৌছতেই হয় বিষয়ের বিন্যাসে । মাঠ এক্ষেত্রে নারী । দীর্ঘ মৌন ভালোবাসায় যার প্রায় বুড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম ! প্রশ্ন আসে 'কেন এই বুড়িয়ে যাওয়ার রূপকের আয়োজন ?' অনুরাগ যখন অবশেষে স্থিরতায় আসীন তখন যে বিক্ষিপ্ত আকর্ষণসমূহ মানব জীবনে চঞ্চলতা ও অস্থিরতার কারক হয়ে থাকে তারা এবার অভেদ হয়ে নিঃসঙ্কোচে গভীরতা-কামী, ফলত: যৌবন তার সতত:-অস্থির বহিরঙ্গ সহ লুপ্তপ্রায় । মাঠের কাছেই ছিল জলের বিস্তার অতীত অভ্যাসে । সেখানে নীল চোখ মাছেরা ছিল আস্বস্ত স্নেহাস্পর্শে । তাদের তাড়া নেই পথচলার, তাই মাঠেরও সুযোগ ছিল নিশ্চিন্ত প্রাপ্তিযোগের !
তবুও মাঠ সেই মোহ পার করে রওনা দিয়েছিল তার নির্দিষ্ট গন্তব্যে ভালোবাসার উজানে আপন সকালের কাছে, রওনা দিয়েছিল বহুদিন বা পৌঁছেছিল বহুদূর ইতিমধ্যে ! সে ও এক কারণ চুলে পাক ধরার ! অনুগামীদের যেহেতু আর দিশা একাধিক নয় তাই তারাও ভিড় জমায় একে একে ! ভিড় আরও বাড়ে ! পূর্বজন্মের স্মৃতিও হয়তো কারণ হয় কারো কারো ক্ষেত্রে । এসেছিল বকেয়া হিসেব মেটাতেও কেউ কেউ - শিকারি নেশায় - যেমন রঙিন পতঙ্গরা ধায় স্বপ্নের আগুন-পানে ধৃষ্ট কায়িকে !
তবে কি সেদিন তাপ ছিল না সকালে ? ছিল না ঔদ্ধত্য, অহংকার এমনকি স্বাতন্ত্র্য ? না, সে তো নয়ই, বরং কোমল ছিল সে শুধুই সম্মতিতে, কৃতজ্ঞতায় আর প্রশ্রয়ে ।
ফিরে আসা যাক প্রথম প্রশ্নে ! গন্তব্য কি এই রচনার ?
হ্যাঁ, লক্ষ্য সকালের কাছে পৌঁছানো সকলের - নানা বিশ্বাসে, প্রয়োজনে । সকালও কি পরিযায়ী নয় বহু উৎস হতে ধেয়ে আসা এই প্রবল জলোচ্ছ্বাসের একমুখী অনুযোজনে ?
কবিতারও কি গন্তব্য উপলব্ধ নয় পাঠান্তে পাঠকের অন্তরে আবিষ্ট প্রেমের যে সিক্ত, স্নিগ্ধ চরাচরের অভিনিবেশ তার কেন্দ্রে বকুল-তলে সুখ-পাখিটির কোমল কূজনে ?
---------------------------------
.
---------------------------------
.

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন