বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

প্রসঙ্গঃ প্রেমহীনতা


পুরুষ প্রকৃতি মূলতঃ মন তথা যুক্তিবুদ্ধি জনিত লাভ লোকসানে অধিকতর নির্ভর করতে চায় ! অর্থাৎ যুক্তিবুদ্ধি তার সক্রিয়, সদাব্যস্ত, ডান হাত ! হৃদয়ে পরাণের অনুভবটি তার - সাথে অধিক ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় থাকা এবং মাঝে মাঝে শুধু সহযোগে কাজে লাগা বাঁ হাত !


অপরপক্ষে, নারীর ক্ষেত্রে ডান হাতটি সাধারণতঃ হৃদয়ের অনুভব আর বাঁ হাতটি একই ভাবে মস্তিকের মনন-জনিত যুক্তিবুদ্ধি !


এবারে, নারী হোক অথবা পুরুষ, একজন সুন্দর মানুষ হতে গেলে কিন্তু যতটা সম্ভব সব্যসাচী হতে শেখা - প্রাথমিক দায় প্রতিটি মনুষ্যজীবনের !


এ তো গেল আদর্শ মানুষের কথা ! বাস্তবে অনুভবের কার্যকারিতার ব্যপ্তি যুক্তিবুদ্ধি অপেক্ষা অনেক বেশি ! অনুভব-দক্ষতা যে কোনও সময়ে, চাইলে, যুক্তির পাঠ অল্প সময়ের মধ্যে আত্মস্থ করতে পারে ! পুরুষের যে কোন কাজ নারী এই কারণে অবলীলায় আয়ত্ব করতে পারে ! কিন্তু একজন আত্মগরবে লাফাতে থাকা যুক্তিবাদীর হাজার প্রচেষ্টার পরেও তার অনুভব দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিফল হওয়া - স্বাভাবিকের মধ্যে পড়তে হয় ! 


আবার অপরপক্ষে, অন্যের মনের কথাটি বুঝে ফেলার সামর্থে - নারী, পুরুষের চেয়ে, চিরটাকাল একশো কদম এগিয়ে ! 


এতটুকু আলোচনার পরে আশাকরি বোঝা কঠিন নয় যে ভালবাসা যেহেতু যুক্তির জগৎ নয়, বরং অনুভবের জগৎ, সেহেতু পুরুষের ভালবাসা নারীর সমকক্ষ হতে পারাটা মোটেই সহজ কাজ নয় ! পুরুষের ভালবাসা জনিত আবেগ মূলতঃ শারীরিক চাহিদা আর কল্পনার একটি অসম সংমিশ্রণে উদ্ভূত বিভ্রান্ত আবেগ, যে প্রবৃত্তিটি নারীর বাস্তব আকাঙ্খার অনুসারী হতে অধিকাংশে অপারগ !


অনুভব নারীকে প্রতিনিয়তই যে বহু রঙের বর্ণালীতে সাজায়, তাকে যথার্থ পাঠোদ্ধার করতে অক্ষম পুরুষ, অধিকাংশে, আপন আপন কল্পনায় নারীর এক অদ্ভুত অবাস্তব, তথা, অলীক রূপ কল্পনা করে নিয়ে, তার মোহটিকে মাত্র ভালবাসা ভাবতে বাধ্য হয়, ফলতঃ নিজে নিজের পিঠ চাপড়ায় ! 
অথচ, বাস্তবের নারী, শিল্পে, সাহিত্যে, পুরুষের আঁকা নারীর ছবির সাথে মিলাতে পারে না বাস্তবের নিজেকে !


নারীর স্পর্শের অনুপ্রেরণায় পুরুষ আপন অতীতের, নিজেতে আটকে পড়াকে অনেকটা পেরিয়ে, অধিক বিকাশের জগতে চলে যেতে পেরেছে - তেমন উদাহরণ গুনে শেষ করা কঠিন,অথচ, পুরুষের ভালবাসা নারীর স্বতঃস্ফূর্ততার আকাশকে প্রসারিত করতে পেরেছে এমন উদাহরণ - বড়ই হাতে গোনা !


মোটকথা, একই প্রেমের সম্পর্কটি হতে একটি নারীর প্রাপ্তি, বরাবরই, একটি পুরুষের প্রাপ্তির তুলনায় এতটাই অপ্রতুল, যে, আত্মনির্ভর মানুষদের মধ্যে, নারীর প্রতি আগ্রহে হাল ছেড়ে দেওয়া পুরুষের তুলনায়, পুরুষের সম্পর্কে হাল ছেড়ে দেওয়া নারীর সংখ্যা, চিরকালই বেশ কয়েক গুণ বেশি - পৃথিবীতে !


এক্ষেত্রেও "অতি বড় ঘরণী না পায় ঘর" ধরণের আপাতঃ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে - এই প্রবণতার উপরতলটির আক্ষরিক অনুবাদটি পেরিয়ে, অন্তর্ণিহিত অভাবের অভিব্যক্তিটি সঠিক ধরতে পারা যথার্থ অভিবাদনযোগ্য বলে মনে হয় !

কোন মন্তব্য নেই: