বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

স্লো পয়জন

"ফ্যাসিবাদ কোন ভাল করে নি কোনদিন
পৃথিবীর ইতিহাসে ৷"
এটুকু বলে ফেলেই
পরম নিশ্চিন্তিতে গা ভাসিয়ে দেওয়া
অনেকেরই পক্ষে হয়তো অধিক আসান, 
তবে, সর্বক্ষেত্রেই 
সমস্যার সর্বশেষ সমাধান হয়তো না ৷
বয়ে যাওয়া অতীব সহজ-সাধ্য বরাবর,
বেয়ে ওঠা - আজ অবধি সহজ ছিল না ৷

যে বৃদ্ধরা দশকের পর দশক ধরে
ধর্ষিতা কন্যাকে নিজে হাতে পুড়িয়ে
অথবা ফিরে পাওয়ার আশা 
শেষ অবধি বাধ্য জলাঞ্জলি দিয়ে
স্ত্রী, পুত্রের হাত ধরে
কয়েক পুরুষের ভিটা ছেড়ে
অবশিষ্ট সঞ্চয়টুকুও বাধ্য ঠেকিয়ে 
তবে, পেরিয়ে প্রহরীর প্রহার 
শীতের রাতে কাঁপতে কাঁপতে
পার হচ্ছে জোড়া কাঁটাতারের বিন্ধ্য-বাধা,
তার ক্ষোভের যন্ত্রণাকে বোঝা
তোমার ভূয়সী অনুভূতির দৌড়ে 
জাস্ট কুলাবে না !

খাস কলকাতার বুকে
যে বালকটি স্কুল হতে ফেরার
পথে 
জানলা, দরজায় অপেক্ষমান
মাসিমা কাকিমাদের কাছ থেকে
রোজ কুড়িয়ে আনতো 
বিশুদ্ধ আনন্দের স্মৃতিতে
হাসির নিত্য নতুন আল্পনা,
বিকেলে, ব্রীজের রেলিং ঘেঁসে
জমে উঠতো যার
বন্ধুদের সাথে হৈ হৈ আড্ডা
প্রতিদিন অন্ততঃ দুই ঘন্টা করে

সে, কুড়ি বছর পরে
ঘটনাচক্রে
সেখানে ফিরে যেতে পেয়ে যদি দেখে
পাড়া দখল হয়ে গেছে - টুপি দাড়িতে,

হ্যাঁ, খাস কলকাতার বুকে,

যাদের দৃষ্টিতে অবাঞ্ছিতের জন্য
জমা আছে একতরফা অযাচিত ঘৃণা,
বাড়িগুলো একই আছে, কিন্তু,
একটাও তেমন সামাজিক মুখ 
আবার চোখে পড়ছে রাস্তায়, দোকানে,
অথবা 
উঁকি দিচ্ছে কোন না কোন জানলায় -
তেমনটি আর দৈবক্রমেও ঘটছে না,
বরং বদলে জাগছে 
কেবল অজানা আতঙ্কে আর অস্বস্তিতে
শ্বাপদসংকুল এক ভিনদেশী গা শিরশির,
তখন
তার বুকের যে সহসা হিমে ছেয়ে যাওয়া,
তাকে - যতই বড় কাব্য-বিধায়কই হও না কেন
মানবিকতা আর সম্প্রীতির 
ধুন্ধুমার বুলি অনবরত আকাশে উড়িয়ে,
এ জীবনের অভিজ্ঞতার দৌড়ে
কোনওমতে কল্পনাও করতে পারবে না !

সব ছেড়ে আজকের কথাও ভাবতে পারো !
বৃদ্ধ পিতা কলকাতার হাসপাতালে ভর্তি !
দুই অবিবাহিতা কন্যার বড়টি
সাতদিন হলো মুর্শিদাবাদ থেকে
পাঁচ ঘন্টার পথে ফিরতেই পারছে না ব'লে
চিকিৎসা স্তব্ধ হয়ে আছে !
বড় হওয়ার পথে চোখের সামনে
তার সাতপুরুষের ধর্ম সংখ্যালঘু হয়ে গেছে
পাশাপাশি একাধিক জেলায় !
সে আর আদৌ নিশ্চিন্ত নয় আজ
একবার বের হলে
তার বিশ্বস্ত পশ্চিমবাংলা, চোখের নিমেষে,
অবিকল বাংলাদেশে পাল্টে যাবে না ৷

"মানবিক-প্রমাণিত মানুষজন
আপন কর্মের নিরন্তর অবদানে
প্রতিটি ধর্মে কম-বেশি চিরকাল থাকেই !
সুস্থ মানসিকতার মানুষের কাছে
তারা কোনদিন অশ্রদ্ধার পাত্র হতে পারে না"
- একথা নতুন করে শোনার প্রয়োজন নেই!

তবে কি জানো

উচ্চশিক্ষিতের সমাজে নিরাপত্তার বলয় 
পরম আদরে মণ্ডূক পুষতে জানে 
মার্বেল-বসানো চকচকে কূপে !
সেখানের আরামে গা এলিয়ে বসে 
বড্ড বেশি 'জানি জানি' মনে হওয়ার 
এক মানসিক চর্মরোগ 
অজান্তে বেড়ে উঠতেই পারে ৷
আখেরে, বিপ্রতীপে 
যে রূঢ় বাস্তবের আয়োজন ইতিমধ্য,
তার সামগ্রিকতাকে
আপন ইতিহাসের পাতায় পাতায়
জমে থাকা দীর্ঘশ্বাসে না চিনলে
ফাটা ঢোলই বাজিয়ে যাবে অলীক-যাপনে,
গল্প লিখবে একশো দুশো -
অচিরে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে হারিয়ে যেতে,
সত্যির ছেঁকায় কেমন ফোস্কা পড়ে,
কতটা জল জমে ব্যথার গলায় গলায়,
সে হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতার ভার
সামান্যতম আঁচও করতে পারবে না !

কোন মন্তব্য নেই: