শুক্রবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২০

সো-অহম

স্থির দৃষ্টিতে, বেশ অনেকক্ষণ,

সোজা তোর দিকে তাকিয়েছিলাম ৷

জানি, মানে বুঝিস নি তুই !

আমারও উপায় ছিল না !

সব আশ্চর্যে 

ঠৌঁটের গোড়ায় শব্দ জোগায় না ৷


ভাইটা বয়সে আড়াই বছর ছোট ছিল ৷

ছোটবেলা থেকে সখ - মিলিটারি হবে ৷

এমনই এক সকালে, সাত বছর আগে,

খবর এসেছিল 

বর্ডার থেকে আর কখনো 

নিজের পায়ে বাড়িতে ফিরবে না ৷


তুই ভালবাসতিস ব'লে, আর 

অন্য কাউকে মেনেই নিলি না ৷

অথচ তারপরও প্রাণ খুলে হাসতিস !

সে উজ্জ্বলতাকে, অদ্ভুত ব্যাপার,

আমাদের অন্তঃসলিলা বিয়োগ-ব্যথা দিয়ে

একবারও রোখা যেত না ৷


তারপর থেকে যেন, আরও বেশি ঘন ঘন

আমাদের বাড়িতে আসতিস ৷

ভাইয়ের অভাব জানতে দিবি না ব'লে ?

জানি না ৷


গতকাল, যে কসমেটিক জুয়েলারীটা

আমার জন্য এনেছিলি,

সেটা নিজে হাতে

আমার গলায় পরিয়ে দিতে

যখন ঘেসাঘেসি কাছে চলে এলি,

তোর শীতকালীন যত্ন নেওয়া পেলব ত্বকে

এসেন্স এর গন্ধে ঢাকতে না পারা,

না, এ পাঠে ভুল হতেই পারে না,

বহুদিনের স্মৃতিকে আচমকা নাড়া দিয়ে,

খুব স্পষ্ট করে,

কৈশোর-কাল থেকে আমার অতি-পরিচিত

ভাইয়ের ঘামের গন্ধ পেলাম ৷


প্রথমবারে, বিশ্বাস না হওয়াতে,

দুহাত দিয়ে বুকের কাছে টেনে

তোর নারী-শরীর

ফের ভাল করে বারবার শুঁকে 

অবশেষে, বাধ্য নিশ্চিন্ত হয়েছিলাম ৷

কোন মন্তব্য নেই: