এ জগতের চিরন্তন নিয়মে
প্রতিটি মানুষ
এক একটি বিবর্তনশীল দশা মাত্র !
তুমি আমি সকলেই তাই ৷
স্থায়ী বলে আমাদের কিছুই নাই !
যার সবই অদূরে ক্ষয়িষ্ণু
তার কোনও অহঙ্কার কি সত্যিই মানায় ?
তবুও ব্যতিক্রম যে আছে !
কেবল রবীন্দ্রনাথ পূর্বসূরি ব'লে,
অনুভবের অগাধ ঐশ্বর্য্যে,
আমি দুই হাজার দুইশো বত্রিশ রকম উপায়ে
ভালবাসতে শিখেছি গীতবিতানের কাছে !
ভেবে দেখেছো কখনও ?
ভালবাসার সে নিত্য-নূতন রাজপ্রাসাদ রচনায়
তোমার সাড়া প্রতিবার চাইতে পারা -
আমার কাছ থেকে
ছিনিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা
এ জগতে কোনও শক্তিধরের নাই ৷
হ্যা ! আমি অহঙ্কারী ৷
সারা পৃথিবীর
আর কোনও ভাষার উত্তরাধিকারে
এই ঐশ্বরিক সম্পদের ছিঁটেফোঁটা আর কোথায় ?
কূপমণ্ডূক-কুল যুগ যুগ ধরে
অনভিজাতর সতত দৈন্যে, ব্যস্ত থাকুক
অবনত-মুখে,
দেশী ও বিদেশী অবাঙালীর পদলেহনে ৷
ক্রীতদাস-রুচিতে রাজাকার-সুলভ
জারজ-ধর্ম আবশ্যিক হতে হয় ৷
বস্তুতান্ত্রিকতার জগতে, স্থুলত্বের বেঢপ প্রতিযোগিতায়,
আর্থিক স্বীকৃতি যদি অপ্রতুলও হয়,
মানবিকতার এমন অফুরন্ত নির্ঝরে,
অনুভবের সাবলীল পারাপারে,
সম্রাটের নীল রক্তের ব্যতিক্রমী আভিজাত্য,
অকপট আত্মশ্রদ্ধাশীলতার চাষে শুধু
গর্বিত বাঙালীর চৈতন্যে রইতে পায় ৷
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন