পাখির বাসায় ছাদ থাকে না,
একমাত্র বাবুইয়ের ছাড়া ।
বাকি সব পাখি তাই
ঝড়-বৃষ্টি এলেই, বিশ্রী রকম ভিজে,
ঠক ঠক করে কাঁপতে থাকে
আর ডানা ঝাপটে জল শুকাতে চায় ।
এদিকে, বাসাটি ভালই দোলে, অথচ
বাবুইয়ের গায়ে জলটি লাগে না
বাসায় ছাদ আছে ব'লে ।
মানুষ বড্ড ভেজে
আমন্ত্রিত নিয়তির অনিয়ন্ত্রিত ঝড়-জলে ।
প্রতিবার কাক-ভেজা ভিজে
হতাশা আর দীর্ঘশ্বাসের পৌনঃপুনিক গল্পে
বোকাহাঁদার মত নাকানিচোবানি খেতে হয়,
কিন্তু, পারে না নিজেকে বাঁচাতে ।
তবে, কেউ কেউ অবশ্য পারে ।
যারা আপন নিরাসক্তির সুবাদে
হৃদয়-নিহিত বিবেককে
অন্তরের রাজসিংহাসনে আসীন রেখে,
প্রয়োজনানুসারে কঠোর অনুশাসনে,
মনযন্ত্রকে নিয়ন্ত্রিত রেখে,
পরধনলোভী প্রবৃত্তির
সুবিধাবাদ, তঞ্চকতা, শোষণ,
ইত্যাদি-প্রকার কলুষ হতে
জীবনের নির্মলতাকে
নিশ্চিন্ত বাঁচিয়ে রাখতে জানে ।
ঐ জগতে
প্রকৃত হতভাগ্য একমাত্র তারাই,
যারা অনিয়ন্ত্রিত নিয়তির বশ,
যারা ইচ্ছার আপোষহীনতায়
প্রবৃত্তি-প্ররোচিত মনকে
বশীকরণে সচেতনরূপে দায়বদ্ধ নয়,
পাছে,
পরাজয়ে ভঙ্গুর 'সংসারী-সং'
না সেজে থেকে,
যদি তারা ঋজু, স্বচ্ছ
ও আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে উঠতে পারে ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন