বৃহস্পতিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

সমস্যা ও সমন্বয়

প্রকৃতির মোহে এমনই মায়া,
সব শরীরে সব শরীর ফিট করে যায় ।
তোমার একটিমাত্র শরীরের জন্য
তুমি তাই অসংখ্য বিপরীত শরীর পাবে ।

ভোগ করে দেখ
যত বৈচিত্র বাড়াবে তৃষ্ণা তত বেড়েই যাবে ।
চরম বলে কিছু নেই এ পথে
যার পরে নিজেরই থামতে ইচ্ছে হবে ।
কারণ, সত্যিটা হলো - 
কখনোই, শেষ অবধি, 
পুরোটা পাওয়া হয়ে যাবে না তোমার ।

পুরানো অভ্যাসে ভাবতে থাকো
যাকে যখন ভালোবাসো
তাকে একবারটি শরীরে পেলেই
জীবনের শ্রেষ্ঠ চাহিদা পুরোটা মিটে যাবে ।

ভুল ভাবো, শতকরা একশো ভাগ ভুল ।
শরীরের খিদে কমতে জানে না কখনো ।
মানুষ পুরানো হলে শুধু পাল্টে নিতে জানে ।
ঠিক যেমন সমুদ্রের রূপ পাল্টে যেতে হয়
তীর থেকে তীরে, 
যার শেষ বলে কিছু হয় না কখনো ।
এ হলো বিস্তৃতির হেরোইন-নেশা ।

গভীরতার দিশাটি একদমই আলাদা
আর এ পথেই চরমকে খুঁজে পাওয়া যায় ।
সে হলো নারী-পুরুষে বিশুদ্ধ বন্ধুত্ব
আর তদজনিত প্রাণের টান ।

শরীর-পিড়িত কুয়োর ব্যাঙের
সাগরের অভিজ্ঞতা নেই ব'লে
সে সম্পর্কের থেকে লভ্য তৃপ্তির মূল্যকে
মাপতে পারো না তুমি এখনও ।

স্বার্থলোভী মনকে নিস্ক্রিয় করে রেখে
প্রাণের সাথে প্রাণের  
অনুভবের আদান-প্রদান
অনায়াস হয় যখন, 
যখন তোমার পরাণ
অপর পরাণটির সামনে এলেই
অকপটে নগ্ন হতে পারে,
দুটি উলঙ্গ প্রাণের প্রবল উৎসাহে 
আশ না মেটা অবধি দেদার সঙ্গমে 
বাধা থাকে না যখন তৃতীয় কারও,
একমাত্র তখনই গভীরতার দিশায়
চরমকে আবিষ্কার করার
সম্ভাবনাটি তৈরী হতে পারে ।

প্রক্ষিপ্তকে যারা পাশ কাটাতে জানে
সেই রসিকরা একেই কৃষ্ণলীলা বলে,
যেখানে পূজা আর প্রেমে
আর তফাৎ খুঁজে পাওনা তুমি,
যেখানে পুরোটা দেওয়ার সাথে সাথে
পুরোটা পাওয়ার প্রকৃত মানে
মানুষ প্রথম অনুভবে পেতে পারে ।

রেওয়াজী খাসিতে বানানো 
রেজালার স্বাদ
বুঝবে কি করে, সারা জীবন 
চেটেপুটে শুধু ডাল-মাখনি খেয়ে গেলে ?

কোন মন্তব্য নেই: