কিছু মানুষ আছে,
যারা তাদের প্রতিটি দিনের ঝরে-পড়া কণাগুলোকে
আকাশ থেকে খসে পড়া নক্ষত্রের মতো
অতিশয় যত্নে কুড়িয়ে নেয়,
আর আনন্দে মেতে ওঠে।
অভ্যাসের অন্ধকার মাটিতে
একটি নতুন বীজের অঙ্কুরোদ্গম,
কাঁপা কাঁপা হাসি দিয়ে
একটি ভয়কে জয় করা,
একটি পৃষ্ঠা লেখা,
একটি ক্ষতকে ক্ষমা করে দেওয়া—
এসবই তাদের কাছে যথেষ্ট
হৃদয়ের ভেতর প্রদীপ জ্বালানোর জন্য।
তারা তাদের ক্ষুদ্রতম অগ্রগতিও উদ্যাপন করে,
আত্মার সামান্যতম প্রসারণকেও স্বাগত জানায়,
যেমন নদী বৃষ্টিকে উদ্যাপন করে,
যেমন ভোর
প্রথম পাখির দ্বিধাগ্রস্ত গানকে
অভ্যর্থনা জানায়।
তাদের আনন্দ কোনো পাথরের স্মৃতিস্তম্ভ নয়।
এটি একটি ক্যাম্পফায়ার—
উষ্ণ, দপদপে,
চিরকাল নতুন হয়ে ওঠা।
আর কিছু মানুষ আছে,
অসম্ভব জ্যামিতির সন্তান,
অসাধারণ শুদ্ধতার প্রেমিক,
যারা তাদের চিন্তাগুলোকে
এত যত্নে ঘষে-মেজে তোলে
যে সেগুলো অবসিডিয়ান চাঁদের মতো দীপ্ত হয়ে ওঠে।
তাদের আত্মা উচ্ছ্বাসে ফেনায়িত হয়,
কারণ তারা কেবল গন্তব্যে পৌঁছাতে চায় না,
বরং সৌন্দর্য নিজেই
তাদের শিরায় শিরায় প্রবাহিত হয়।
তারা তাদের জীবনকে সাজায়
আকাশে ঝুলন্ত এক স্বর্গীয় উদ্যানের মতো,
যেখানে প্রতিটি ফুল ফোটে
ঠিক সেই মুহূর্তে
যখন নক্ষত্রেরা অনুমতি দেয়।
তাদের পরিপূর্ণতাবাদ কোনো কারাগার নয়।
এটি এক নৃত্য।
তারা সংশোধন করতে করতে হাসে,
পরিমার্জন করতে করতে গান গায়,
আর তাদের আকাঙ্ক্ষার খোদাই করা পেয়ালা থেকে
অনন্তকে পান করে।
এমনকি তাদের ব্যর্থতাগুলোকেও
তারা কাগজের পাখিতে রূপ দেয়
এবং উড়িয়ে দেয়
আগামী দিনের বাতাসে।
তবু এই বিশাল, স্বপ্নময় মহাবিশ্ব
একটি গোপন কক্ষ সংরক্ষণ করে রেখেছে
আরও বিরল একজনের জন্য।
বরফের পাহাড়ের নিচে
তিমির গানের থেকেও বিরল,
ভবিষ্যৎকে মনে রাখতে পারা
ঘড়ির থেকেও বিরল,
নক্ষত্রে ফোটা
মরুভূমির থেকেও বিরল।
সে সেই মানুষ,
যে তার ক্ষুদ্রতম উন্নতিকেও
উদ্যাপন করে
অসীমের তীরে ঝিনুক কুড়ানো
একটি শিশুর বিস্ময় নিয়ে,
এবং একই সঙ্গে
নিজেকে ধরে রাখে
আত্মিক উৎকর্ষের সর্বোচ্চ শিখরে।
সে একই সঙ্গে
শিক্ষানবিশ
এবং গুরু।
বীজ
এবং বৃক্ষ।
অসমাপ্ত কবিতা
এবং সেই কবিতাকে
অবিরাম নিখুঁত করে তোলা কবি।
তার ভেতরে বাস করে
একজন হাস্যোজ্জ্বল মালী,
যে প্রতিটি নতুন পাতাকে
আনন্দে অভিবাদন জানায়,
আর
একজন স্বর্গীয় স্থপতি,
যে চাঁদের আলো দিয়ে
মহিমান্বিত গির্জা নির্মাণের স্বপ্ন দেখে।
কেউ কারও প্রতি ঈর্ষান্বিত নয়।
মালী বলে,
"আমরা বেড়ে উঠেছি।"
স্থপতি উত্তর দেয়,
"এবং আমরা আরও মহিমান্বিত হয়ে উঠব।"
তারা একসঙ্গে
তারার আলো মিশ্রিত মদে
পেয়ালা তোলে।
যখন সে হোঁচট খায়,
সে হাসে।
যখন সে সাফল্য পায়,
সে বিনয়ী থাকে।
কারণ সে জানে—
আনন্দহীন পরিপূর্ণতা
একটি স্ফটিকের কফিন,
আর উচ্চাকাঙ্ক্ষাহীন অগ্রগতি
একটি নৌকা,
যে কখনো
দিগন্তের খোঁজে বের হয় না।
তাই সে হেঁটে চলে,
তার গায়ে জড়ানো থাকে
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিজয়
আর অসম্ভব আদর্শের
সুতোয় বোনা এক আলখাল্লা।
এক কাঁধে বসে থাকে
একটি চড়ুই,
যে গান গায়,
"যা আছে, তা-ই যথেষ্ট।"
অন্য কাঁধে
একটি ফিনিক্স ফিসফিস করে,
"আরও।"
আর সে
দুজনের কথাই শোনে।
আকাশ নত হয়ে আসে
তার পদচারণার শব্দ শোনার জন্য।
সময় ধীর হয়ে যায়,
বিস্ময়ে।
কারণ এখানে হেঁটে চলেছে
পৃথিবীর বিরলতম বিস্ময়—
একটি আত্মা,
যে চিরকাল হয়ে উঠছে,
চিরকাল নিজেকে পরিশীলিত করছে,
চিরকাল আনন্দে উদ্যাপন করছে,
এবং প্রতিটি সাধারণ দিনকে
পরিণত করছে
অগ্রগতি,
পরিপূর্ণতা,
এবং সীমাহীন বিস্ময়ের
এক অতিবাস্তব মহোৎসবে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন