সবচেয়ে কঠিন যে পেশীকে গড়ে তুলতে হয়,
তার কোনো শরীর নেই।
তার কোনো হাড় নেই।
কোনো শিরা নেই।
কোনো এক্স-রেতে সে ধরা পড়ে না।
তবু সে-ই
সবচেয়ে ভারী মহাবিশ্বকে
মানুষের ভেতরে বহন করে।
হৃদয়?
সে তো জন্ম থেকেই
ভাঙা আয়নার ভাষা জানে।
প্রতিটি প্রেমের পর
নিজের রক্ত দিয়েই
নিজেকে আবার সেলাই করতে পারে।
মস্তিষ্ক?
সে এক চতুর জাদুকর।
একটি "কাল"
দিয়ে হাজারটি "আজ"
খুন করতে পারে।
এক ফোঁটা অলসতা থেকে
মহাদেশের সমান অজুহাত ফলাতে পারে।
সে ঘড়ির কানে কানে বলে—
"এখনও অনেক সময় আছে…"
আর সময়
নিজেই নিজের ছায়ায় হোঁচট খায়।
কিন্তু
শৃঙ্খলা—
সে কোনো অঙ্গ নয়।
সে মেরুদণ্ডেরও আগের
একটি অদৃশ্য প্রাণী,
যে প্রতিদিন ভোরবেলা
তোমার ঘুমের কবর খুঁড়ে
তার ভেতর থেকে
আরেকটি সূর্য উদ্ধার করে।
কম্বল তখন
এক বৃদ্ধ জাদুকরী।
সে নরম কণ্ঠে
ঘুমের ধর্মগ্রন্থ পাঠ করে—
"আরেকটু থাকো…
পৃথিবী কোথাও পালাচ্ছে না…"
বালিশ
তোমার মাথার নিচে
একটি ক্ষুদ্র কবরস্থান সাজিয়ে রাখে।
স্বপ্নেরা
সাদা প্রজাপতির ছদ্মবেশে
তোমার চোখের পাতায়
ডিম পাড়ে।
ঠিক তখনই
শৃঙ্খলা
একটি কালো নেকড়ের মতো
ভোরের কুয়াশা ছিঁড়ে এসে বলে—
"উঠে দাঁড়াও।
সূর্য তোমার জন্য অপেক্ষা করবে না।"
তার জিমনেসিয়ামে
লোহার ডাম্বেল নেই।
সেখানে
ওজন হিসেবে ঝুলে থাকে—
অসমাপ্ত বই,
অপ্রেরিত চিঠি,
না-লেখা কবিতা,
অঘোষিত স্বপ্ন,
আর
গতকালের অপচয়।
প্রতিটি পুনরাবৃত্তি
একটি মৃত নক্ষত্রকে
আবার জ্বালিয়ে তোলে।
প্রতিটি অভ্যাস
সময়ের কপালে
নতুন বলিরেখা আঁকে।
মহাবিশ্ব জানে—
প্রেরণা
একজন ভবঘুরে।
সে আসে,
আবার চলে যায়।
তার কোনো ঠিকানা নেই।
কিন্তু শৃঙ্খলা—
সে একজন যুবক কৃষক।
বৃষ্টি হোক,
খরা হোক,
অথবা আকাশে
মাছের বদলে
পাথর ঝরুক—
সে বীজ বুনতেই থাকে।
একদিন
পাহাড়েরা
নিজেদের উচ্চতা খুলে রেখে
তার সামনে নতজানু হয়।
নদীরা
নিজেদের স্রোত
তার পায়ের কাছে রেখে যায়।
এমনকি সময়ও
নিজের ঘড়ি খুলে
তার হাতে সমর্পণ করে।
তারপর
অদ্ভুত এক ঘটনা ঘটে।
তোমার ছায়া
তোমার আগে হাঁটতে শুরু করে।
তোমার আগামীকাল
গতকালের দিকে ফিরে
হাসে।
স্বপ্নেরা
আর দরজায় কড়া নাড়ে না।
তারা ভাড়া নিয়ে
তোমার ভেতরেই বসবাস শুরু করে।
ভাগ্য
আকাশের দূর নক্ষত্র নয় আর।
সে নেমে আসে
তোমার জুতোর ফিতার ভেতর,
তোমার ঘামের লবণে,
তোমার প্রতিদিনের পুনরাবৃত্তির ক্ষুদ্র শব্দে।
আর তখন বুঝতে পারো—
সবচেয়ে শক্তিশালী পেশী
বাইসেপস নয়।
হৃদয়ও নয়।
মস্তিষ্কও নয়।
বরং
ইচ্ছা
ও
কর্মের
মাঝখানে
নিঃশব্দে বেড়ে ওঠা
একটি অদৃশ্য জীবাশ্ম—
যে
লোহা তোলে না,
পাহাড়ও নয়,
সে তুলে নেয়
অদেখা ভবিষ্যৎ,
আর মানুষের ভেতরে
ধীরে ধীরে
একটি সূর্যোদয়ের
মেরুদণ্ড নির্মাণ করে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন