কমিউনিস্টরা অবাস্তব স্বপ্নে জীবন নষ্ট করে। তুমি তেমন বোকা হয়ো না। অন্যকে বদলে দেওয়ার স্বপ্নের পেছনে দৌড়ানো বন্ধ করো।
অন্য কারও নক্ষত্রমণ্ডল নিজের হাতে সাজিয়ে দেওয়ার অসম্ভব নেশাটি ছেড়ে দাও। ওটা মাতব্বরি ছাড়া আর কিছু নয়।
তোমার হাত আকাঙ্ক্ষার জ্যামিতি শিখেছে বলেই তারারা নিজেদের কক্ষপথ বদলায় না।
তুষারের দিকে হাজার ফুলের নাম চিৎকার করলেও শীত বসন্তে পরিণত হয় না।
অন্যকে বদলে দেওয়ার অলীক আকাঙ্ক্ষার পেছনে দৌড়ানো বন্ধ করো।
ওটা এক অদ্ভুত মেলা, যেখানে আয়নাগুলো মানুষের মুখ গিলে খায়, আর প্রতিটি প্রবেশমূল্য পরিশোধ করতে হয় নিজের হয়ে ওঠার একেকটি অংশ দিয়ে।
"যে অন্যের খাঁচার চাবি বয়ে বেড়ায়, শেষ পর্যন্ত খাঁচাটি তার নিজের চারপাশেই গজিয়ে ওঠে।"
কত জন্ম তুমি কাটিয়ে দিয়েছ অন্যের শিকল পালিশ করতে করতে, যাতে সেখানে তোমার নিজের বন্দি আশার প্রতিচ্ছবি আরও স্পষ্ট দেখা যায়?
কত ভোর তুমি উৎসর্গ করেছ পাখিদের সাঁতার শেখাতে, আর সেই ফাঁকে নিজের ডানাগুলো নিঃশব্দে জীবাশ্মে পরিণত হয়েছে?
মহাবিশ্ব তোমাকে কখনও অন্য কারও আত্মা রঙ করতে নিয়োগ দেয়নি।
প্রতিটি হৃদয় একটি স্বতন্ত্র দেশ।
তার সীমান্ত ভেতর থেকেই খোলে।
তুমি দরজায় কড়া নাড়তে পারো।
তুমি গান গাইতে পারো।
তুমি দোরগোড়ায় রুটির টুকরো রেখে আসতে পারো।
কিন্তু তুমি সেই ঘরের দরজা খুলতে পারবে না, যার মালিক বন্ধ দরজার শব্দেই প্রেমে পড়ে আছে।
"কোনো বীজ কখনও ফুল হয়ে ওঠে না, কারণ পাশের ফুল তার সঙ্গে তর্ক করেছিল।"
এবার ফিরে দাঁড়াও।
একজন অপরিচিত বহু বছর ধরে প্রতিটি আয়নার ভেতর থেকে তোমাকে অনুসরণ করছে।
তার নাম—
তুমি।
সে বছরের পর বছর তোমার নিজের মনোযোগের পরিত্যক্ত রেলস্টেশনে বসে আছে।
তার পাশে একটি পুরোনো স্যুটকেস।
তার ভেতরে জমা আছে—
না-বাঁচা ভোরগুলো,
না-বলা সত্যগুলো,
আর ভুলে যাওয়া সাহসের হাড়গোড়।
তার কাছে যাও।
তার পাশে বসো।
জিজ্ঞেস করো—
সে কেন এতদিন অনাহারে রইল, যখন তুমি সবার ক্ষুধা মেটাতে ব্যস্ত ছিলে, শুধু নিজেরটুকু ছাড়া।
তোমার বুকের খাঁচার ভেতর একটি প্রাচীন অরণ্য আছে।
সেখানে গাছগুলো আকাশের দিকে নয়—
ভেতরের দিকে বেড়ে ওঠে।
তাদের ডালপালা ঘুমন্ত কুয়াশা ভেদ করে পুরোনো ভয়গুলোর শরীরে হরিণের শিংয়ের মতো বিদ্ধ হয়ে আছে।
সেখানে হাঁটো।
পৃথিবী থেকে পালানোর জন্য নয়—
বরং নিজের ভেতরে যে পৃথিবীকে তুমি বহুদিন আগে পরিত্যাগ করেছিলে, তাকে খুঁজে পাওয়ার জন্য।
ভেতরের দিকে প্রতিটি পদক্ষেপ একটি নতুন মহাদেশ—
যার কোনো মানচিত্র আজও আঁকা হয়নি।
"সবচেয়ে দীর্ঘ যাত্রা মাইল দিয়ে মাপা যায় না; তা মাপা হয় আয়নার সংখ্যায়।"
নিজের হয়ে ওঠার ভূমিকম্পকে ভয় পেয়ো না।
পাহাড় বলতে আসলে পুরোনো নিশ্চয়তাগুলোকেই বোঝায়—
যারা একদিন হাঁটু গেড়ে বসতে শিখেছে।
তোমার বিশ্বাসগুলোকে সাপের খোলসের মতো ঝরে পড়তে দাও।
আগামীকালের নদীতে চাঁদের মতো তাদের রূপ বদলাতে দাও।
এতটাই সত্য হয়ে ওঠো, যেন তোমার ছায়ারাও বুঝতে না পারে তারা কোন সংস্করণের তোমাকে অনুসরণ করছে।
মানুষ বলবে—
তুমি বদলে গেছ।
হেসে দিও।
নদীকেও বিশ্বাসঘাতক বলা হয়, যখন সে একই জল হয়ে থাকতে অস্বীকার করে।
বিবর্তনের জন্য ক্ষমা চেয়ো না।
ক্ষমা চেয়ো কেবল তখনই, যখন আরামকে নিজের নিয়তি বলে ভুল করবে।
একদিন একটি সকাল আসবে—
যখন তোমার নীরবতা তোমার সব উপদেশের চেয়েও স্পষ্ট ভাষায় কথা বলবে।
তোমার জীবন নিজেই হয়ে উঠবে পরিবর্তনের অভিধান।
কারণ তুমি কাউকে বোঝাতে পারোনি বলে নয়—
বরং তুমি অবশেষে নিজের আত্মাকে জাগতে রাজি করাতে পেরেছিলে বলে।
"জ্বলে ওঠা প্রদীপ কখনও অন্ধকারের সঙ্গে তর্ক করে না; সে শুধু ভুলে যায়, কীভাবে না জ্বলতে হয়।"
তারপর অলৌকিক কিছু ঘটবে।
কোনো নিমন্ত্রণ ছাড়া।
কোনো উপদেশ ছাড়া।
কোনো প্রচার ছাড়া।
কেউ একজন তোমার সাধারণ দিনের নীরব বিপ্লব দেখে
নিজের ভেতরেও পরিবর্তনের প্রথম আলো জ্বালিয়ে দেবে।
তুমি তাকে ঠেলে দাওনি।
তুমি তাকে উদ্ধারও করোনি।
শুধু তোমার হয়ে ওঠা তাকে বিশ্বাস করিয়েছে—
হয়ে ওঠা সম্ভব।
আর তখন তুমি বুঝতে পারবে মহাবিশ্বের সেই প্রাচীনতম গোপন কথা, যা প্রতিটি ঝরা পাতায় এবং প্রতিটি উদীয়মান ভোরে ফিসফিস করে বলা হয়—
কেউ কোনোদিন অন্যের আত্মাকে তাড়া করে পৃথিবী বদলাতে পারেনি।
পৃথিবী বদলায়—
একটি জেগে ওঠা আত্মা থেকে আরেকটি জেগে ওঠা আত্মায়।
আর তোমার হাতে প্রথম যে আত্মাটিকে অর্পণ করা হয়েছিল—
সে ছিল তোমার নিজের।
"অন্যের কাছে অলৌকিকতা দাবি করার আগে, নিজের ভেতর সেই অলৌকিকতায় পরিণত হওয়ার সাহস অর্জন করো। এটাই সুন্দরের পথ।"
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন