মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

ভালবাসলে

ভালবাসলে
_________
.
ভাল না বাসতে পারলে বড় মনমরা হয়ে থাকে নারী।

আর ভালবাসলেই সে প্রথম অনুভব করে— যেন তার মন আসলে কোনো মন নয়, বরং বহুদিন ধরে খাঁচাবন্দী এক আকাশ, যার ডানাগুলো ভাঁজ হয়ে ছিল ভুলে যাওয়া ঋতুর ধুলোয়।

হঠাৎ একদিন কারও স্নেহমাখা দৃষ্টির স্পর্শে সেই আকাশের গায়ে জন্মায় জাদু-বাতাস, আর সে দেখে— তার ভেতরে এতদিন অগণিত পরিযায়ী মেঘ অপেক্ষা করছিল উড়ে যাবার জন্য।

তারপর সে ডানা মেলে।

প্রথমে লাজুকভাবে, যেমন নদী পাহাড় ছেড়ে নামতে গিয়ে একবার ফিরে তাকায় উৎসের দিকে।

তারপর ধীরে ধীরে তার হাসি হয়ে ওঠে সাদা বকের ঝাঁক, তার স্বপ্ন হয়ে ওঠে নীল গ্রহের চারপাশে অদৃশ্য কক্ষপথে ঘুরতে থাকা চাঁদ।

সে রোজ নিত্যনূতন কবিতা হয়ে উড়ে যায় বাঁধনহারা খুশির আকাশে।

সেখানে সূর্য ওঠে প্রেমিকের কণ্ঠস্বর হয়ে, চাঁদ ঝোলে তার অপেক্ষার জানালায়, আর প্রতিটি নক্ষত্র ভালবাসার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রতিশ্রুতি হয়ে রাত্রির কপালে জ্বলে থাকে।

কিন্তু উড়ান শুধু ডানা দিয়ে হয় না।

আকাশও চাই।

বিশ্বাসও চাই।

একটি আশ্রয়ও চাই যেখানে ক্লান্ত পাখি ফিরে এসে নিঃশব্দে মাথা রাখতে পারে।

সেইজন্যই নারীর উড়ান দীর্ঘস্থায়ী হয় একমাত্র প্রেমিকের ভালবাসা মাখানো সাহচর্যে।

যে পুরুষ তার পাশে থাকে মালিক হয়ে নয়, আকাশ হয়ে—

যে তার ডানা ছেঁটে দেয় না, বরং বাতাস ধার দেয়—

যে তাকে বেঁধে রাখে না, বরং হারিয়ে যেতে দেয় নিজেরই অসীমতার মধ্যে—

তার সঙ্গেই নারী উড়তে উড়তে আবিষ্কার করে ভালবাসার গোপন জ্যোতির্বিদ্যা।

তখন আর প্রেম কেবল সম্পর্ক থাকে না।

প্রেম হয়ে ওঠে দুটি স্বাধীন আকাশের পরস্পরের মধ্যে মিশে যাওয়া।

একজন বাতাস, অন্যজন ডানা।

একজন দিগন্ত, অন্যজন উড়ান।

আর তাদের মাঝখানে অদৃশ্য এক মহাবিশ্ব নীরবে প্রসারিত হতে থাকে, যেখানে সুখের কোনো শেষ নেই, শুধু আরও আকাশ, আরও বাতাস, আরও উড়ে যাওয়ার আহ্বান।

কোন মন্তব্য নেই: