ভালবাসা তাদের সহজে মেলে না
যারা জানালার ধারে বসে থাকে
শিকারির ধৈর্যে,
চোখে প্রত্যাশার ফাঁদ পেতে।
তারা আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে
যেন কোনও অচেনা পাখি
একদিন উড়ে এসে
তাদের কাঁধে বসবে
এবং ঘোষণা করবে—
"তোমাকেই বেছে নিলাম।"
কিন্তু ভালবাসা
কোনও পোষা পাখি নয়।
সে অপেক্ষার খাঁচায় বন্দী হয় না।
সে হিসেবের খাতায়
সংখ্যা হয়ে জন্মায় না।ট
সে আসে না
তৃষ্ণার্ত হাতের ভিক্ষাপাত্রে।
বরং অদ্ভুতভাবে,
যত বেশি কেউ তাকে ধরতে চায়,
সে তত দূরে সরে যায়—
মরুভূমির মরীচিকার মতো,
চাঁদের আলোয় ভেসে যাওয়া
সাদা হরিণের মতো।
আমি দেখেছি,
কিছু মানুষ আছে
যাদের হৃদয়ের ভিতর
একটি গোপন ঝর্ণা বহে।
তারা ভালবাসে
যেমন সূর্য আলো দেয়।
হিসেব করে না
কতটুকু ফিরে পেল।
তারা ভালবাসে
যেমন নদী সমুদ্রের দিকে যায়—
পথে কত তীরকে সিক্ত করলো,
কত পাথরকে গান শোনালো,
তার কোনও খতিয়ান রাখে না।
তাদের অন্তরে
ভালবাসার নিজস্ব কারখানা আছে।
সেখানে প্রতিদিন
নতুন নতুন নক্ষত্র তৈরি হয়।
নতুন নতুন বসন্তের জন্ম হয়।
নতুন নতুন পাখি ডানা মেলে
অদৃশ্য আকাশে।
যে মানুষ
আপন অন্তরের এই উৎস খুঁজে পেয়েছে,
সে আর অভাবের ভাষা বোঝে না।
কারণ সে জানে,
যে কূপ নিজেই জল দেয়
সে কখনও তৃষ্ণার ভয় পায় না।
যে প্রদীপ নিজেই জ্বলে
সে অন্ধকারের কাছে ভিক্ষা চায় না।
যে হৃদয় নিজেই ভালবাসার জন্ম দেয়
সে প্রত্যাখ্যানকেও
আশীর্বাদে রূপান্তর করতে পারে।
তখন এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটে।
ভালবাসা তাকে খুঁজতে শুরু করে।
মানুষ আসে।
বন্ধুত্ব আসে।
আস্থা আসে।
পাখিরা এসে বসে
তার নির্জনতার ডালে।
ফুলেরা এসে ফোটে
তার পথের ধারে।
কারণ পৃথিবীর সমস্ত প্রাণ
গোপনে খোঁজে
সেইসব হৃদয়কে
যাদের ভিতরে
অভাব নয়,
প্রাচুর্য বাস করে।
তাই অপেক্ষা করো না
ভালবাসা তোমার দরজায় কড়া নাড়বে বলে।
নিজেই হয়ে ওঠো
একটি অশেষ উৎস।
নিজেই হয়ে ওঠো
একটি সূর্য,
একটি নদী,
একটি নক্ষত্রভরা আকাশ।
তারপর দেখবে—
যাদের পাওয়ার জন্য
একসময় তুমি ব্যাকুল ছিলে,
তারা নিজেরাই এসে দাঁড়াবে
তোমার আলোয়।
কারণ ভালবাসার সবচেয়ে গভীর রহস্য এই—
যে ভালবাসা চায়,
সে প্রায়ই বঞ্চিত হয়।
আর যে ভালবাসা দেয়,
তার জীবন একদিন
ভালবাসায় উপচে পড়ে
বর্ষাকালের পূর্ণ নদীর মতো,
যার কোনও হিসেব নেই,
কোনও ভয় নেই,
শুধু অনন্ত প্রবাহ আছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন