শনিবার, ২ মে, ২০২৬

আত্মসৃষ্টি

যাদের সংযম নেই,
আর দূরদর্শিতা তার থেকেও কম—
তারা কেবল বেখেয়ালি নয়,
নিজেদের ধ্বংসের নীরব সহযোগী।

তারা আগুন নিয়ে খেলে
আর তাকে আলো বলে দাবি করে,
যখন তাদের আঙুল পুড়ে কালো হয়ে যায়,
যখন পোড়ার গন্ধ
তাদের নাম ধরে ডাকতে শেখে।

তাদের কাছে ভবিষ্যৎ
কোনও পথ নয়,
একটি অস্বীকারযোগ্য শূন্যতা—
একটি সুবিধাজনক কুয়াশা,
যা পরিণতির মুখ
আগেভাগেই মুছে দেয়।

সময়—
কোনও নদী নয়,
একটি শিরা—
একবার কেটে গেলে
আর জোড়া লাগে না।
নিঃশব্দে রক্তক্ষরণ হয়,
অদৃশ্য কোথাও জমে ওঠে,
আর তারা হাসতে হাসতে
নিজের ক্ষতটাকেই ধরে রাখে
যেন তা কোনও ঝর্ণা।

অর্থ—
কোনও দাস নয়,
একটি ভঙ্গুর মেরুদণ্ড,
যা আগামীকালকে ধরে রাখে।
তারা সেটিকে ভেঙে ফেলে
একটি করে কশেরুকা,
তারপর অবাক হয়ে দেখে
কেন তাদের দিনগুলো ভেঙে পড়ছে
হাড়হীন দেহের মতো।

তারা এই ধ্বংসকেই
স্বাধীনতা বলে ডাকে।
এই ক্ষয়কেই
উদযাপন মনে করে।
তারা উল্লাস তোলে
নিজেদের ধীরে ধীরে মৃত হয়ে যাওয়ার
নীরব অন্ত্যেষ্টির উপর দাঁড়িয়ে।

কিন্তু রাত ধৈর্যশীল।

যখন শব্দ নিঃশেষ হয়,
যখন অস্বীকারও ক্লান্ত হয়ে পড়ে,
সময় ফিরে আসে—
এবার হিসাবরক্ষক নয়,
একজন সাক্ষী হয়ে,
যে সবকিছু আগেই লিখে রেখেছে।

সে কিছু বলে না।
সে শুধু দেখায়।

একটি খাতা খুলে যায়—
সংখ্যার নয়,
অনুপস্থিতির:
যে মুহূর্তগুলো কখনও কিছু হয়ে উঠল না,
যে সম্ভাবনাগুলো
শ্বাস নেওয়ার আগেই পচে গেল,
যে জীবনগুলো
অখোলা দরজার পেছনে
নিঃশব্দে ক্ষয় হয়ে গেল।

সেখানে রাগ নেই,
শাস্তি নেই—
আছে শুধু এক অসহনীয় স্বচ্ছতা,
যেখানে যা হারিয়েছে
তার আর কোনও প্রতিধ্বনিও নেই।

তখন আসে উপলব্ধি—
এত দেরিতে,
যে তা আর কোনও কাজে লাগে না:
স্বাধীনতা কখনও ছিল না উড়িয়ে দেওয়া,
ছিল সংরক্ষণের নির্মম শৃঙ্খলা—
যা আর ফেরানো যায় না,
তা নষ্ট না করার ক্ষমতা।

এবং সেই স্বচ্ছতার ভেতরেই
তারা অবশেষে একদিন বোঝে—
তারা নিজেদেরই কখনও
যথেষ্ট ভালবাসেনি।

সংযম—
তারা এখন বোঝে—
কোনও খাঁচা ছিল না,
ছিল শেষ পাতলা প্রাচীর,
যা তাদের পতনের থেকে আলাদা রেখেছিল।

আর দূরদর্শিতা—
কোনও বোঝা নয়,
ছিল একমাত্র আলো,
যা দেখাতে পারত
কোথায় মাটি আগেই সরে যাচ্ছিল।

কিন্তু তখন—
মাটি আর নেই।

তারা দাঁড়িয়ে থাকে
নিজেদের দিনগুলোর ফাঁপা অবশিষ্টে,
হাতে কিছুই নেই—
অনুশোচনাও নয়,
শুধু এক ফাঁপা প্রতিধ্বনি
যে কিছু একবার
অপরিবর্তনীয়ভাবে শেষ হয়ে গেছে।

তাদের হাসি ফিরে আসে
দূর অন্ধকারের কোণ থেকে,
বিকৃত, অচেনা—
যেন মৃতদের কণ্ঠস্বর,
যারা একসময় বিশ্বাস করত
তারা বেঁচে আছে।

আর সেই নীরবতায়
তারা অবশেষে বুঝতে পারে—

এটা কখনও উদযাপন ছিল না।
এটা ছিল ধীরে, সচেতনভাবে
নিজেকে মুছে ফেলার এক নিষ্ঠুর প্রক্রিয়া—
একটি জীবন,
যা হঠাৎ শেষ হয়নি,
বরং কিস্তিতে কিস্তিতে
রক্তাক্ত হয়ে নিঃশেষ হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই: