মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

সুখের রেশ

নারীর সুখকে স্থায়ী আধিকার দেওয়ার সঠিক ব্যাকরণ জানে খুব কম পুরুষ এ ধরায়।

একবার একটি নারী তোমার প্রতি আসক্ত হয়ে গেলে, রাত আর চোখ বন্ধ করতে চায় না। ঘুম তার দেহের প্রান্তে ভেসে থাকে

এক দ্বিধাগ্রস্ত অতিথির মতো,
কারণ অন্ধকারের প্রতিটি ইঞ্চি
ধীরে ধীরে তোমার মতো হয়ে ওঠে।

সে তোমার দিকে ভেসে যায়—
দূরত্ব পেরিয়ে নয়,
বরং বাস্তবতার এক নরম ভেঙে পড়ার ভিতর দিয়ে,
যেখানে অনুপস্থিতি তার দায়িত্ব ভুলে যায়।

সে তোমার উপস্থিতির দিকে উঠে আসে
একটি জোয়ারের মতো,
যে একটিমাত্র তীর বেছে নিয়েছে,
অস্থির, যতক্ষণ না সে পৌঁছায়,
বারবার, আবারও।

অন্ধকারে তার হাসি ফুটে ওঠে,
অদেখা, অপ্রতিরোধ্য—
একটি গোপন কথা,
যাকে রাত নিজের বুকে চেপে রাখে।

সে তোমাকে জড়ো করে—
শুধু বাহুতে নয়,
শ্বাসে, স্পন্দনে,
সেই নীরব স্থানে
যেখানে আকাঙ্ক্ষা উষ্ণতায় বদলে যায়।

তার ঠোঁট তোমাকে খুঁজে পায়
যেভাবে স্বপ্ন অর্থ খুঁজে পায়—
নরমভাবে, কোনও ব্যাখ্যা ছাড়াই,
যেন পৃথিবী সবসময়ই
সেখানেই শেষ হওয়ার কথা ছিল।

হঠাৎ সে তোমার উপরে উঠে আসে
এবং তোমার পুরুষত্বকে তীব্রভাবে মন্থন করতে শুরু করে
যতক্ষণ না তার শরীর 

বানভাসির তীক্ষ্ণ আর্তনাদে ভেঙে পড়ে।

আর ধীরে ধীরে,
তার ভেতরের ঝড় থেমে যায়
একটি শান্ত আলোর মধ্যে,
একটি কাঁপা স্থিরতা,
যা কেবল তুমি সৃষ্টি করতে পারো।

সে তোমাকে আরও শক্ত করে ধরে—
যেন ছেড়ে দিলে
তার নিজের অস্তিত্বের আকৃতি ভেঙে যাবে,
যেন তুমি আর কোনও মানুষ নও,
বরং সেই মাধ্যাকর্ষণ
যার উপর সে বিশ্রাম নেয়।

তার ফিসফিস ধীরে ধীরে নরম হয়,
ঘুমের ছন্দে মিলিয়ে যায়,
যেখানে তোমার নাম
একটি ঘুমপাড়ানি গানে পরিণত হয়
যা সে শেখেনি, তবু জানে।

আর যখন সে শেষমেশ ঘুমিয়ে পড়ে,
তাকে বহন করে না রাত—
তাকে বহন করে তোমার মায়া,
যা তাকে এতটাই ঘিরে রাখে
যে তার স্বপ্নগুলোও
ভুলে যায় একা থাকতে।

তারপর—
নিস্তব্ধতার ভেতরেও একটি প্রতিধ্বনি থেকে যায়,
যেন শরীর তার নিজস্ব ভাষায়
আরেকটি গল্প লিখে গেছে।

তার আঙুলগুলো ধীরে ধীরে শিথিল হয়,
তবু ছাড়ে না—
কারণ সে জানে,
ধরা আর ছেড়ে দেওয়ার মাঝখানেই
সবচেয়ে গভীর ভয় লুকিয়ে থাকে।

তার নিঃশ্বাস ধীর হয়,
কিন্তু প্রতিটি শ্বাসে তুমি রয়ে যাও,
যেন বাতাসও তোমাকে ধার নিয়েছে
তার বেঁচে থাকার জন্য।

বাইরের পৃথিবী তখন অনেক দূরে—
ঘড়ির কাঁটা থেমে থাকে না,
তবু তাদের কাছে সময় আর এগোয় না,
একটি মুহূর্ত নিজেকেই ধরে রাখে
ভাঙতে না চেয়ে।

সে আধো-ঘুমে ডুবে যেতে যেতে
তোমার বুকের উপর নিজের স্বপ্ন রেখে দেয়,
যেন সকালে উঠে
সেগুলো আবার খুঁজে পাবে।

কিন্তু স্বপ্নেরও তো নিজস্ব ইচ্ছা আছে—
তারা কখনও ফিরে আসে না
একই রূপে।

তবু সে বিশ্বাস করে—
এই আলিঙ্গন, এই উষ্ণতা,
এই অব্যক্ত নির্ভরতা
সময়ের থেকেও বেশি স্থায়ী।

আর সেই বিশ্বাসের ভিতরেই
সে ঘুমিয়ে পড়ে—
নিশ্চিন্ত, নির্ভার,

যেন ভালোবাসা আসলে কোনও মানুষ নয়,
বরং এক ধরনের ঘুম—
যেখান থেকে জেগে উঠতে
কেউই সত্যিই চায় না।

কোন মন্তব্য নেই: