মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

তুমি যখন তোমার

আকাশটা এক নিঃশব্দ স্বীকারোক্তির মতো নীল,
আর তার নিচে কোথাও
তুমি ঠিক করে ফেলো—
জোরে নয়,
নাটকীয় নয়—
শুধু আত্মার এক ক্ষুদ্র মোড় নেওয়া
সব শব্দের থেকে দূরে।

তুমি নিজের কাজ নিয়ে থাকতে শুরু করো,
আর হঠাৎ পৃথিবী
তোমাকে বিরক্ত করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

নেতিবাচকতা খুলে পড়তে থাকে
পুরনো দেয়ালকাগজের মতো,
কোনাগুলো মুড়ে যায়,
ধীরে, লজ্জিত নীরবতায়
গতকালের মেঝেতে পড়ে থাকে।

তুমি আর ছায়াদের খাওয়াও না
যারা কখনও তোমার নামই শেখেনি।
তুমি আর সন্দেহকে জল দাও না
যা কখনও কিছু হয়ে ওঠেনি
কাঁটা ছাড়া।

আর তারপর—
একটা অসম্ভব ঘটনা ঘটে।

তোমার শক্তি, যা একসময় ছড়িয়ে ছিল
অন্যদের বিশৃঙ্খলার মধ্যে ভাঙা কাচের মতো,
ধীরে ধীরে ফিরে আসতে থাকে তোমার কাছে,
টুকরো টুকরো আলো হয়ে।

সে তোমার আকৃতি মনে রাখে।
সে তোমাকে আবার গড়ে তোলে।

তোমার মুখে এক ধরনের আভা ফুটে ওঠে—
আলোর জন্য নয়,
বরং অনুপস্থিতির জন্য:
দুশ্চিন্তার অনুপস্থিতি,
অপ্রয়োজনীয় লড়াইয়ের অনুপস্থিতি,
ধার করা ঝড়ের অনুপস্থিতি।

তুমি হালকা অনুভব করো,
যেন মাধ্যাকর্ষণ নীরবে
তোমার বুকের ওপর থেকে তার অধিকার ছেড়ে দিয়েছে।

তুমি আলাদা দেখাও—
কারণ আয়না বদলায়নি,
বরং সে অবশেষে মিথ্যা বলা বন্ধ করেছে।

আর মহাবিশ্ব—
সেই নীরব পর্যবেক্ষক স্থপতি—
নিজের নকশা তোমার চারপাশে বদলে ফেলে।

মানুষ আসে
এমন প্রতিধ্বনির মতো, যা এখন অর্থপূর্ণ।
সুযোগগুলো খুলে যায়
এমন দরজার মতো, যা সবসময়ই ছিল
কিন্তু তোমার সেই সংস্করণের জন্য নয়
যে সবসময় পিছনে তাকিয়ে থাকত।

সবকিছু বদলে যায়।

হঠাৎ নয়—
ভোরের মতো,
যেখানে অন্ধকার লড়াই করে না,
সে শুধু বুঝতে পারে
তার আর দরকার নেই।

আর সেই নরম, অপরিবর্তনীয় মুহূর্তে
তুমি বুঝতে পারো—

শান্তি কখনও খুঁজে পাওয়ার জিনিস ছিল না।

এটা ছিল এমন কিছু
যা শুরু হয়েছিল
সেই দিন,
যেদিন তুমি পৃথিবীকে
তোমার মনের ভেতর বসতে দেওয়া
বন্ধ করেছিলে।

কোন মন্তব্য নেই: