মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

বেলা গেল

মানুষ একরকম চায়—
নিজের অন্তরের গভীরে
একটি গোপন ঘর বানায়,
যেখানে ইচ্ছেগুলোকে বন্দি রেখে
নিজেই পাহারা দেয় নিজের বিরুদ্ধে।

কিন্তু পরিস্থিতি—
সে কোনো বাহিরের শত্রু নয়,
সে ভেতরেই জন্মায়,
রক্তে মিশে ধীরে ধীরে
তোমার চাওয়াকে বিষে রূপান্তরিত করে।

তুমি ভালোবাসতে চেয়েছিলে—
নরমভাবে, নিঃশব্দে,
কারও চোখের ভেতর আশ্রয় নিতে।
কিন্তু নিয়তি তোমার ঠোঁটে সেলাই করে দেয়
অদৃশ্য সুতো,
আর শেখায়—
ভালোবাসা মানে দম বন্ধ করে বেঁচে থাকা।

চাইলেই কী আর
সাক্ষাতে ভালোবাসা যায়?
ভালোবাসা তো এক নিষিদ্ধ আচার,
যেখানে প্রতিটি স্পর্শের আগে
একটি মৃত্যু লিখে রাখা থাকে।

দুটি হাত বাড়ে—
কিন্তু মাঝখানে জমে ওঠে
একটি অন্ধকার জলাভূমি,
যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপ
তোমাকে আরও ডুবিয়ে দেয়
নিজেরই অস্বীকারে।

নিয়তি প্রায়শই বিরূপ থাকে
তৃতীয় বা চতুর্থ নাগরের—
না, তারা শুধু ছায়া নয়,
তারা সেই অভিশাপ
যারা ভালোবাসার দরজায় এসে দাঁড়ায়
কিন্তু ভেতরে ঢোকার আগেই
নিজেদের অস্তিত্ব মুছে ফেলতে বাধ্য হয়।

তাদের হৃদয়—
একটি বন্ধ কফিন,
যার ভেতরে স্পন্দন এখনো জেগে আছে,
কিন্তু বাইরে থেকে
সবাই তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেছে।

তারা ভালোবাসে—
কিন্তু সেই ভালোবাসা
রক্তের মতো ঝরে পড়ে
অদৃশ্য ফাটল দিয়ে,
কেউ দেখে না,
শুধু মাটি একটু বেশি লাল হয়ে ওঠে।

আর একদিন—
তারা নিজেরাই হয়ে যায়
অন্য কারও অন্ধকার,
অন্য কারও অসম্পূর্ণতার কারণ,
অন্য কারও দুঃস্বপ্নের অজানা নাম।

তবু ভেতরে—
একটি শেষ আর্তনাদ বেঁচে থাকে,
যা কখনো উচ্চারণ করা যায় না,
কারণ সেই শব্দ উচ্চারণ করলেই
পুরো পৃথিবী ভেঙে পড়বে—

আর তখন বোঝা যাবে,
ভালোবাসা কোনোদিনই 

মুক্তি ছিল না তার কাছে—
এটা ছিল শুধু এক অসহায় পরাণের
একটি ধীরে ধীরে মৃত্যুর কৌশল।

কোন মন্তব্য নেই: