রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

নজর

আত্মবিশ্বাস ভোরের কিনারায় নিজের আগমনকে ধারালো করে,
অঘোষিত দিগন্তকে ফিসফিসিয়ে বলে— সামনে—
যে এখনো ঠিক করেনি
সে কাছে আসবে, না সরে যাবে।

সে আমি পারব দিয়ে সিংহাসন গড়ে,
পাঁজরের ভেতর সোজা হয়ে বসে,
দ্বিধার দেয়ালে ঢাকের মতো আঘাত করে—
যেন এক রাজা, যে কখনো মানচিত্র দেখেনি।

কিন্তু ভবিষ্যৎ—
ভবিষ্যৎ কোনো রাস্তা নয়।
সে এক ঘুমন্ত প্রাণী,
এখনো-না-ঘটা সময়ের ভাঁজে কুণ্ডলী পাকিয়ে,
প্রতীকে শ্বাস নেয়, ধাঁধায় নিশ্বাস ছাড়ে।
তাকে জয় করা যায় না।
শুধু জোরালো নিশ্চয়তায়
তার কাছ থেকে উত্তর আদায় করা যায় না।

একজন মানুষ ছিল,
যে খালি, জ্বলন্ত হাতে আগামীকে কাটতে চেয়েছিল—
নিশ্চয়তার খোঁজে সে আকাশ চিরে ফেলেছিল,
কিন্তু আকাশ থেকে ঝরেছিল শুধু নীরবতা—
ঘন, অপাঠ্য।

আরেকজন—
যে স্থিরতাকেই জ্ঞান ভেবেছিল,
ভবিষ্যৎ তার নাম ধরে ডাকবে—এই অপেক্ষায়,
যতক্ষণ না তার কণ্ঠে শ্যাওলা জমে যায়
আর সময় তাকে এড়িয়ে যায়
একটি ভুলে যাওয়া পাথরের মতো।

তাদের মাঝখানে,
এক তৃতীয় যাত্রী শিখল অন্যভাবে শুনতে।
কানে নয়—
মুহূর্তগুলোর মাঝের সেই সূক্ষ্ম ত্বকে,
যেখানে কিছু একটাও তাকিয়ে থাকে।
কারণ নিয়তি চিৎকার করে না।
সে আঙুল তুলে দেখায় না।
সে নিজের চিঠিতে স্বাক্ষর করে না।

সে তাকায়।
এক গোপন দৃষ্টি—
যা ধরা পড়ে, যখন কাকতালীয় ঘটনাগুলো
এক সেকেন্ড বেশি থমকে থাকে,
যখন কোনো দরজা শক্তিতে নয়
প্রশ্নে প্রতিরোধ করে।
সে লুকিয়ে থাকে ঘড়ির অমিলের ভাঁজে,
এক অপরিচিতের নীরবতার ঝোঁকে,
এক সিদ্ধান্তের হঠাৎ ভারে
যা হওয়ার কথা তার চেয়েও হালকা।

ভবিষ্যৎ থেকে নিশ্চিততা বের করে আনা
মানে তাকে ছিনিয়ে নেওয়া নয়—
বরং চিনে নেওয়া
যখন সে ইতিমধ্যেই তোমার দিকে ঝুঁকেছে।

আত্মবিশ্বাস আগুন—হ্যাঁ—
কিন্তু দিকহীন আগুন
নিজের পথকেও পুড়িয়ে দেয়।
তাই প্রথম পদক্ষেপের আগে,
আছে এক সূক্ষ্মতর নড়াচড়া—
এক থামা, যা দ্বিধা নয়,
এক স্থিরতা, যা শোনে—দেখা হচ্ছে তাকে।

আর যখন তুমি অনুভব করবে—
সেই প্রায় অদৃশ্য স্বীকৃতি,
যেন অদেখা কিছু তোমার দিকে পলক ফেলেছে—
তখন এগিয়ে যাও।
দাপটে নয়।
অন্ধভাবে নয়।
বরং এক নীরব সমঝোতায়
যেখানে কেউ আগে থেকেই তোমাকে বেছে নিয়েছে।
কারণ নিশ্চয়কে ভবিষ্যৎ থেকে নেওয়া যায় না—
তা ধার করা হয়
সেই মুহূর্ত থেকে
যখন তুমি বুঝতে পারো—
ভবিষ্যৎ 
তোমার উপরে নজর রেখেছে
অনেক আগে থেকেই।

কোন মন্তব্য নেই: