বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

বিশ্বাস

আমি এমন এক রাজনীতিতে বিশ্বাস করি—
যেখানে ম্যানিফেস্টো লেখা হয় না কাগজে,
বরং মানুষের মস্তিষ্কের ভেতর
নতুন নক্ষত্র সৃষ্টি করা হয়।

সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো
কারখানা নয়—
তারা গর্ভ,
যেখান থেকে জন্ম নেয়
স্বাধীন চিন্তার ক্ষমতা,
যারা প্রশ্ন করতে জানে,
চ্যালেঞ্জ জানাতে জানে,
এমনকি নিজেদের অস্তিত্বকেও।

আমি এমন এক সভা দেখি—
যেখানে মঞ্চ নেই, মাইক নেই,
মানুষেরা দাঁড়িয়ে আছে বৃত্তাকারে,
প্রত্যেকে একেকটি আগুন,
নিজের ভেতরের অন্ধকার পুড়িয়ে
অন্যের জন্য আলো তৈরি করছে।

এই রাজনীতি বলে—
“আমরা চাকরিপ্রার্থী তৈরি করি না,”
আর সেই বাক্যটি
আকাশে ছুড়ে দিলে
তা হয়ে যায় বজ্রপাত,
ভেঙে ফেলে পুরনো ভয়।

“আমরা সৃষ্টি করি স্বাধীন মানুষ—”
যারা শুধু রুটি খোঁজে না,
বরং গমের ক্ষেত সৃষ্টি করে,
যারা শুধু দরজায় কড়া নাড়ে না,
বরং নতুন ঘর বানায়
অন্যদের জন্য।

তাদের চোখে থাকে
অদ্ভুত এক নীল আলো,
যা ভবিষ্যৎকে শুধু দেখে না—
তাকে পুনর্লিখন করে।

তারা জানে—
চাকরি একটি মোহ,
যা কেবল
পরনির্ভরশীল ভৃত্য তৈরী করে,
যা আসে আর যায়,
কিন্তু সৃষ্টি—
তা একটি সূর্য,
যা নিজেই আলো উৎপন্ন করে।

এই রাজনীতিতে
দল নয়,
মানুষই মূল কেন্দ্র—
একটি বিস্তৃত মহাবিশ্ব,
যেখানে প্রতিটি ব্যক্তি
নিজেই একটি গ্যালাক্সি।

তারা তৈরি করে কর্ম—
যেন নদী তৈরি করে পথ,
অন্যদের ডাকে
নিজের স্রোতে ভাসতে।

এখানে সাফল্য মানে
একজনের উত্থান নয়,
বরং অনেকের উড়ান—
একসাথে,
একই আকাশে।

আর আমি দেখি—
এই স্বপ্ন ধীরে ধীরে
বাস্তবের শরীর নিচ্ছে,
যেন মাটির ভেতর থেকে
উঠে আসছে অজস্র হাত,
নিজেদের ভবিষ্যৎ
নিজেদেরই গড়তে।

এই রাজনীতি—
শাসন নয়,
এটি এক সংক্রমণ,
স্বাধীনতার,
সৃষ্টির,
আর দায়িত্বের—

যেখানে মানুষ
আর শুধু কাজ খোঁজে না,
মানুষ হয়ে ওঠে
কাজের জন্মদাতা
আর প্রতিটি অন্নদানা হয়ে ওঠে
স্বোপার্জিত পরমান্ন।

.

কোন মন্তব্য নেই: