সে প্রেমে পড়েছে—
প্রথমে ছিল শুধু হালকা জ্বর,
চোখের ভেতর নোনা আলো,
কণ্ঠে অচেনা জোয়ার।
তারপর ধীরে ধীরে
তার চারপাশের পৃথিবী জল হয়ে উঠল—
চেয়ারগুলো ভাসতে লাগল,
দেয়ালগুলো সাঁতরে গেল দূরে,
ঘড়ির কাঁটা ডুবে গেল সময়ের তলায়
এক নিঃশব্দ বুদবুদের মতো।
সে ভালবাসায় ডুবে গেছে—
এমনভাবে,
যেন নিজের নামটাও আর তার নয়,
যেন তার শ্বাস এখন অন্য কারও
ফুসফুসে জমা রাখা এক ধার।
ডুবে গিয়ে মারা গেছে—
কোনো মৃত্যু-সনদ নেই,
কোনো শোকবার্তা নেই,
শুধু তার ছায়া একদিন
নিজের শরীর ছেড়ে
নদীর দিকে হেঁটে গেছে,
ফিরে তাকায়নি।
মৃত ব্যক্তিটি
অপরের কোনো উপকারে লাগেনি—
কারণ মৃতরা কিছু দেয় না,
তারা শুধু নীরবতা রেখে যায়,
একটা ঠান্ডা, ব্যবহারহীন গভীরতা
যেখানে ডুবে যাওয়া শেখা যায়,
কিন্তু বাঁচা নয়।
সে এখন এক সমুদ্রের অংশ—
কেউ তার নাম জানে না,
কেউ তার মুখ মনে রাখে না,
শুধু মাঝে মাঝে
জোয়ারের ভেতর একটা অদ্ভুত ক্লান্তি
উঠে আসে—
সেটাই হয়তো তার অবশিষ্ট।
আর তুমি—
তুমি যেন ভুলেও এই ভুল করো না।
যখন প্রেম তোমাকে ডাকবে
তার নীল, ভেজা কণ্ঠে,
তুমি কাছে যাবে,
কিন্তু নিজের পায়ের নিচের মাটি
ভুলে যাবে না।
মনে রাখবে—
ডুবে যাওয়া সহজ,
নিজেকে বাঁচিয়ে রেখে ভালোবাসা
এক অদ্ভুত, প্রায় অসম্ভব শিল্প।
তুমি সমুদ্রের কাছে দাঁড়াবে,
জল ছুঁবে,
তার ঠান্ডা সত্য অনুভব করবে,
কিন্তু নিজের বুকের ভেতর
একটা তীর লুকিয়ে রাখবে—
যেখানে তুমি এখনও সম্পূর্ণ,
অবিভাজ্য,
জীবিত।
কারণ প্রেম যদি তোমাকে মেরে ফেলে—
সে প্রেম নয়,
সে এক সুন্দর দুর্ঘটনা
যার কোনো পুনর্জন্ম নেই।
আর তুমি—
তুমি দুর্ঘটনা নও।
তুমি সেই ব্যক্তি
যে জলের ভেতর তাকিয়ে
নিজের প্রতিচ্ছবি চিনতে পারে,
এবং ঠিক সময়ে সঠিক দিশায়
ফিরে আসতে জানে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন