মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬

শৈল্পিক

যে অনুশীলন একদিন পাহাড় হয়ে উঠবে,
তার শুরু হয়
তোমার সকালের আচার-অনুষ্ঠানের কেন্দ্রে
সযত্নে রাখা
একটি ক্ষুদ্র বালুকণাকে দিয়ে।

শুরুর দিকে
এই বালুকণা
পৃথিবীর চোখে প্রায় অদৃশ্য—
কেউ তাকায় না,
কেউ থেমে দেখে না
তার নীরব উপস্থিতি।
একটি কাজ
বারবার করা—
সময়ের দীর্ঘ শ্বাসের ভেতর
এমনই যেন একটি বীজ
যা প্রতিদিনের পুনরাবৃত্তির মাটিতে
শুয়ে থাকে নিশ্চুপ।

প্রতিটি সকালে
মানুষ জেগে ওঠে
এবং আবারও করে সেই একই কাজ—
যেন সময়ের কাঠে
একই হাতুড়ির আঘাত,
অথবা একই সুর
বারবার বাজছে
অদৃশ্য কোনো বেহালার তারে।
পাশ দিয়ে যারা দ্রুত হেঁটে যায়
তারা কিছুই আলাদা শোনে না—
তাদের কানে
শুধু সাধারণ জীবনের ছন্দ,
মানুষের পদচারণা
একই পথে
একই তাড়নায়।

কিন্তু মনোযোগ—
তার একটি গোপন পরিচয় আছে।
যখন পৃথিবী
বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে
আতশবাজির আলোতে
আর প্রকৃতির ঝড়ে,
তখন মনোযোগ
চুপচাপ মাটির কাছে ঝুঁকে পড়ে
এবং প্রতিদিন
একটি অদৃশ্য বীজকে
জল দিতে থাকে।
দিন গড়িয়ে সপ্তাহ,
সপ্তাহ গড়িয়ে ঋতু—
আর মাটির গভীরে
নিঃশব্দে জন্ম নিতে থাকে
শিকড়ের অরণ্য,
যারা অন্ধকারের ভেতর
সব দিকেই ছড়িয়ে পড়ে—
যেন নদীরা
অদৃশ্য সমুদ্রের খোঁজে।

এই ছোট ছোট পুনরাবৃত্ত কাজগুলো
ধীরে ধীরে একত্রিত হয়
আর তৈরি করে
ক্ষুদ্র পাথরের একটি সিঁড়ি।
প্রতিটি ধাপ
এতটাই ছোট
যে কেউ হাততালি দেয় না
তোমার প্রতিটি অগ্রগতির জন্য।
কিন্তু একদিন
যখন তুমি ভেবে বসো
সিঁড়িটি শেষ হয়েছে
আর তুমি একটি পাহাড়ে উঠে গেছো—
তখন হঠাৎ
পেছনে তাকিয়ে দেখো—
সেখানে একটি অরণ্য দাঁড়িয়ে আছে,
অসংখ্য গাছ
হাওয়ার ভেতর নাচছে তাদের পাতা নিয়ে,
আর যে জীবনটিকে
একসময় তুমি ছোট ভেবেছিলে—
সেই জীবন
হঠাৎ বিস্তৃত হয়ে গেছে
এক বিশাল দিগন্তে। ✨

কোন মন্তব্য নেই: