ধারণ—
একটি অদৃশ্য ভাণ্ডার,
যার কোনো দরজা নেই
তবু যার ভেতরে
অসংখ্য নক্ষত্র জমা হতে থাকে
নিঃশব্দে।
প্রথমে তা ছোট—
একটি কাঁচের জারের মতো,
যেখানে মানুষ রাখে
তার প্রথম প্রতিজ্ঞা,
প্রথম প্রত্যাখ্যান,
প্রথম “না”
যা আপোষের মুদ্রা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে।
কিন্তু আপোষহীনতার বাতাস
অদ্ভুত এক রসায়ন জানে—
সে ধীরে ধীরে
সেই ছোট পাত্রটিকে
বিস্তার করতে থাকে।
যে মানুষ
প্রতিদিন নিজের ভেতরে
একটু বেশি দৃঢ় থাকে,
যে নিজের সত্যকে
বিক্রি করে না
সুবিধার বাজারে—
তার ধারণশক্তি
নিঃশব্দে বেড়ে ওঠে
একটি গভীর সমুদ্রের মতো।
প্রতিটি আপোষহীন দিন
তার ভেতরে জমা করে
আরও একটি ঢেউ,
আরও একটি অদৃশ্য শক্তি।
মানুষ বাইরে থেকে দেখে না—
কারণ এই বৃদ্ধি
গাছের পাতায় নয়,
শিকড়ের অন্ধকারে ঘটে।
কিন্তু সময়
একদিন হঠাৎ
তার ভাণ্ডারের ঢাকনা খুলে দেয়—
আর দেখা যায়
সেখানে জমা হয়েছে
অসংখ্য অদৃশ্য ধন,
সহিষ্ণুতার সোনা,
অধ্যবসায়ের হীরা,
আর অবিচলতার গভীর নীল নক্ষত্র।
তখন মানুষ বুঝতে পারে—
ধারণ কেবল সহ্য করা নয়,
এটি এক মহাজাগতিক ভাণ্ডার
যা প্রতিদিন একটু একটু করে বড় হয়
যতক্ষণ মানুষ
নিজের সত্যের সাথে
কোনো আপোষ না করে। ✨
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন