মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬

অতিমানবিক

জেদ—
প্রথমে সে এক ক্ষুদ্র আগুন,
অহংকারের নয়,
বরং অদৃশ্য এক প্রতিজ্ঞার স্ফুলিঙ্গ,
যা নিঃশব্দে জন্ম নেয়
মানুষের অন্তরের অন্ধকার গুহায়।

সেই জেদ থেকেই
ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে
কঠোর নিয়মানুবর্তিতার লোহার সিঁড়ি—
প্রতিটি ধাপ
ঘাম দিয়ে ধোয়া,
প্রতিটি ধাপ
অসংখ্য ভোরের অর্ধনিদ্রার উপর দাঁড়ানো।

মানুষ ভাবে—
জেদ কেবল একটি শব্দ,
কিন্তু সময় জানে
এটি এক অদৃশ্য স্থপতি,
যে মানুষের ভেতরে
একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ মহাবিশ্ব নির্মাণ করে।
আর সেই জেদ থেকেই
জন্ম নেয় যোগ—
শুধু দেহের ভঙ্গি নয়,
বরং শ্বাসের গভীরে
নক্ষত্রের মতো স্থির এক সমতা,
যেখানে শরীর, মন, আর উদ্দেশ্য
একটি গোপন অক্ষের চারপাশে
ধীরে ধীরে এক হয়ে যায়।

সেই যোগ
প্রথমে কাজ করে নিঃশব্দে—
যেন মাটির নিচে
বীজের ভেতরে গোপনে গড়ে ওঠা বন।
দিনের পর দিন,
শ্বাসের পর শ্বাস,
চেষ্টার পর চেষ্টা—
অদৃশ্য কোনো রসায়ন
মানুষের ভিতরে বদলে দিতে থাকে
তার সীমার সংজ্ঞা।

হঠাৎ একদিন
সময়ের পর্দা সরলে দেখা যায়—
অর্জন জেগে উঠেছে।
সে আসে না তূর্যধ্বনি নিয়ে,
সে আসে
একটি গভীর স্থিরতার আলো হয়ে—
যা অসম্ভবকে
ধীরে ধীরে বাস্তবের মাটিতে নামিয়ে আনে।
সাধারণ আর অসাধারণের মধ্যে
তখন একটি সূক্ষ্ম রেখা আঁকা হয়—
যেন বজ্রপাতের আঁচড়
অন্ধকার আকাশের বুকে।

আর মানুষ
দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখে—
একটি শক্তির বিস্ফোরণ,
যা হঠাৎ করে জন্মায়নি,
বরং হাজার দিনের নিঃশব্দ অনুশীলনে
সংগৃহীত হয়েছে।
তারা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে—
কারণ তাদের চোখে
এটি অলৌকিক।

কিন্তু সেই মানুষটি জানে—
এটি কোনো অলৌকিকতা নয়,
এটি জেদের ধ্যান,
শৃঙ্খলার অগ্নি,
আর যোগের নিঃশব্দ সঙ্গম—
যেখান থেকে জন্ম নেয়
মানুষের গভীর হতে উদ্ভূত 
অতিমানবিক লীলা। ✨

কোন মন্তব্য নেই: