কিছু মানুষ
টাকা উপার্জন করে বজ্রের মতো।
তাদের মুদ্রা বাজারে চিৎকার করে,
তাদের বাড়ি তাদের ছায়ার থেকেও উঁচু হয়ে ওঠে,
তাদের হাসিতে থাকে
সদ্য গোনা নোটের গন্ধ।
সোনার ঘড়ি তাদের কবজিতে বসে থাকে
বন্দী সূর্যের মতো।
আর পৃথিবী তাকিয়ে থাকে—
অর্ধেক মুগ্ধ,
অর্ধেক বিনোদিত
ঐ প্রাচুর্যের শব্দে।
কিন্তু কোথাও
পৃথিবীর আরেক কোণে
আরেক ধরনের মানুষ হেঁটে যায়।
সে উপার্জন করে নীরবে।
তার পকেট যেন গভীর কূপ
যেখানে সংখ্যারা পড়ে যায়
কোনও শব্দ না করে।
তার পদচারণার পিছনে
কোনও তূর্যধ্বনি নেই।
কোনও বিলাসের মিছিল
তার আগমন ঘোষণা করে না।
এমনকি বাতাসও
অনুমান করতে পারে না
তার ব্যাংক-খাতার ভেতর
ঘুমিয়ে থাকা গ্যালাক্সির ওজন।
কারণ প্রকৃত সম্পদ
একটি নিশাচর প্রাণী।
এটি উজ্জ্বল মঞ্চ পছন্দ করে না।
এটি সবচেয়ে ভালো বেড়ে ওঠে
গোপনতার বনে।
সে যে প্রতিটি মুদ্রা উপার্জন করে
তা একটি বীজ।
আতশবাজিতে ছুঁড়ে না ফেলে
সে তা সাবধানে রোপণ করে
আগামীর অন্ধকার মাটিতে।
তারপর অদৃশ্য শিকড়
মাটির নিচে ফিসফিস করতে শুরু করে।
টাকা হয়ে যায় বাগান।
বাগান হয়ে যায় ঋতু।
ঋতু হয়ে যায় নদী
যা নীরবে বয়ে যায় ভবিষ্যতের দিকে।
বছর কেটে যায়।
মানুষটি তবুও সাধারণই দেখায়—
একজন নীরব পথিক
যে সবার মতোই বসে চা খায়।
কিন্তু তার শান্ত জীবনের নিচে
ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে
মূলধনের সম্পূর্ণ মহাদেশ—
ধৈর্যের টেকটোনিক প্লেটের মতো।
কারণ ধনী হওয়ার
প্রাচীন রহস্য
কখনওই শব্দে ছিল না।
তা ছিল মাধ্যাকর্ষণে।
ঝড়ের মতো উপার্জন করো যদি চাও—
কিন্তু তোমার বজ্র
লুকিয়ে রাখো নীরব পর্বতের ভেতর।
পৃথিবী যেন শোনে
শুধু তোমার পদচারণা।
আর তোমার টাকা
শিখে নিক সেই পবিত্র শৃঙ্খলা—
নিঃশব্দে ফিসফিস করে বাঁচার। ✨
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন