তাদের মুকুট আসে না তারা কী তাড়া করে তার থেকে,
বরং আসে এক নীরব কবরস্থান থেকে—
যেখানে শুয়ে আছে
যেসব হওয়া তারা অস্বীকার করেছে।
তাদের চোখের পেছনের এক ম্লান করিডোরে
ঝুলে থাকে হাজার অখোলা দরজা—
প্রতিটিতে লেখা প্রায়,
প্রতিটি দরজা নিঃশব্দে শ্বাস নেয়
ঘুমন্ত কোনো প্রাণীর মতো
যাকে আর কখনও জাগানো হবে না।
তারা হেঁটে যায় সেগুলোর পাশ দিয়ে—
হাতল স্পর্শ না করেই।
কারণ তারা শিখেছে
অস্তিত্বের অদ্ভুত গণিত—
যেখানে বিয়োগই
বড় হয়ে ওঠার একমাত্র উপায়।
যেখানে পৃথিবী
পরিচয়গুলো জমা করে স্মারকের মতো—
উদ্যোক্তা, প্রেমিক, নায়ক, ভুক্তভোগী—
তারা বসে থাকে এক অদৃশ্য নদীর ধারে
এবং নিজেদের অসংখ্য সম্ভাব্য সত্তাকে
নিঃশব্দে ডুবে যেতে দেয়
কোনও আচার ছাড়াই।
তারা প্রলোভনের সঙ্গে তর্ক করে না—
তার ঠিকানাই মুছে ফেলে।
কোথাও
সোনালি এক বিভ্রান্তি তাদের নামে ডাকে—
তারা সাড়া দেয় না।
কোথাও
এক আরামদায়ক জীবন বিছানা পেতে দেয়—
তারা শুয়ে পড়ে না।
তার বদলে,
তারা গড়ে তোলে এমন এক নিখুঁত নীরবতা
যা নিজেই তাদের হয়ে বেছে নিতে শুরু করে।
সময় আসে
হাজার ঝলমলে আমন্ত্রণের পোশাক পরে—
তারা পড়ে শুধু
লাইনগুলোর মাঝের অনুপস্থিতি।
তারা জানে,
প্রতিটি “হ্যাঁ”
আসলে এক গভীর “না”-এর নীরব বিশ্বাসঘাতকতা।
তাই তারা শান দেয় তাদের প্রত্যাখ্যানকে
অদৃশ্য ছুরির মতো,
কেটে ফেলে—
সেই সব পেশা যেগুলোতে তারা টিকে থাকতে পারত,
সেই সব সম্পর্ক যেগুলো তারা সহ্য করতে পারত,
সেই সব স্বপ্ন
যেগুলো ছিল কেবল
অন্য কারও ক্ষুধার প্রতিধ্বনি।
এবং যা থেকে যায়
তা প্রাচুর্য নয়—
বরং এক ভয়ংকর স্বচ্ছতা।
এক সরু পথ
শূন্যতার ওপর ঝুলে আছে,
যেখানে ইচ্ছেকেও
খালি পায়ে হাঁটতে হয়।
বাইর থেকে
এটা মনে হয় সংযম,
মনে হয় শীতলতা,
মনে হয় অর্ধেক বাঁচা জীবন।
কিন্তু ভিতরে—
ভিতরে এটা এক শূন্যতার গির্জা
যেখানে প্রতিটি অনির্বাচিত জীবন
নিভৃতে মোমবাতির মতো জ্বলে,
আলোকিত করে সেই একটিমাত্র জীবনকে
যাকে বেছে নিতেই হয় না।
কারণ শেষ পর্যন্ত,
শীর্ষ এক শতাংশ
কাজ করার কৌশল আয়ত্ত করে না—
তারা আয়ত্ত করে
না-হয়ে ওঠার
সেই পবিত্র সহিংসতা—
যা থেকে যায় সব সম্ভাবনার ভেতর
একটি অনিবার্য, নীরব সত্তা হয়ে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন