মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬

প্রাপ্তি

অনেকদিন ধরেই যা চাইছো
তা তোমার হাতের ভাঁজে এসে বসেনি—
হয়তো কারণ
তোমার হাত তখনও ভরা ছিল
অসংখ্য অদৃশ্য জিনিসে—
অপ্রয়োজনীয় স্মৃতি,
অর্ধেক ইচ্ছে,
অন্যের চোখে ভালো দেখানোর ক্লান্ত অভ্যাস।

এই পৃথিবী
এক অদ্ভুত বাজার—
এখানে মানুষ স্বপ্ন কেনে,
কিন্তু বহন করে দ্বিধা,
এখানে সবাই দৌড়ায়
কিন্তু নিজের পথ ভুলে যায়
বহু-মুখী, বহু-দিকের টানে
মন হয়ে ওঠে ভাঙা কম্পাস—
যা উত্তর চেনে না,
শুধু ঘোরে।

তুমি কি খেয়াল করেছো—
তোমার ভিতরে
একটা ঘর আছে
যেখানে বহুদিন কেউ ঝাঁট দেয়নি?
ধুলো জমেছে পুরনো চাওয়ায়,
মাকড়সা জাল বুনেছে
অসম্পূর্ণ প্রতিজ্ঞার কোণে।

ছাড়তে শেখো—
ধীরে ধীরে নয়,
একদিন হঠাৎ
যেমন শরৎ আকাশ
নিজের মেঘ খুলে ফেলে
অকারণে।
এক এক করে ফেলে দাও—
অপ্রয়োজনীয় সম্পর্কের ভার,
অতীতের ভাঙা আয়না,
অন্যের কণ্ঠে বেঁচে থাকার অভ্যাস।
নিজেকে হালকা করো—
এতটাই হালকা
যেন তুমি হাওয়ারও আগে হাঁটো,
যেন তুমি কোনও নামহীন নদী
যার গন্তব্য শুধু সাগর।

যখন তুমি সম্পূর্ণ নির্লিপ্ত হবে—
না সুখে জড়াবে,
না দুঃখে আটকে থাকবে,
তখন তোমার ভিতর
একটা নীরব সূর্য জ্বলে উঠবে।
সেই আলোয়
লক্ষ্য আর পথ আলাদা থাকবে না—
তুমি নিজেই হয়ে উঠবে
তোমার নিজের দিকনির্দেশ।

তারপর—
মনোনিবেশ করো
একটি মাত্র বিন্দুতে—
যেন সমগ্র মহাবিশ্ব
একটি সূচের ডগায় দাঁড়িয়ে আছে
আর তুমি তাকিয়ে আছো
নির্ভুল স্থিরতায়।
সেখানে
সাফল্য আর আসবে না—
সে তো অপেক্ষা করছিলই,
তোমার সমস্ত শব্দ থামার পর
তোমার নিখুঁত নীরবতায়
নিজেকে প্রকাশ করার জন্য।

তখন তুমি বুঝবে—
পাওয়া কখনও বাইরে ছিল না,
তা ছিল
ছেড়ে দেওয়ার ঠিক পরেই
তোমার ভিতরের সেই শূন্যতায়
যেখানে সবকিছু
অবশেষে
ঠিক জায়গায় এসে বসে।

কোন মন্তব্য নেই: